কর্মস্থলে অননুমোদিতভাবে দীর্ঘদিন অনুপস্থিত থাকা এবং সরকারি আদেশ প্রতিপালনে অবজ্ঞার অভিযোগে সাময়িক বরখাস্ত অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হাসান আরাফাতকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করেছে সরকার। তিনি সর্বশেষ খুলনা পুলিশ ট্রেনিং সেন্টারের (পিটিসি) অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পদে কর্মরত ছিলেন।
গতকাল বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরীর সই করা এক প্রজ্ঞাপনে এ বরখাস্তের আদেশ জারি করা হয়।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, হাসান আরাফাত অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার হিসেবে ঢাকা মহানগর পুলিশে (ডিএমপি) কর্মরত থাকাকালে ২০২৪ সালের ১৯ অক্টোবর থেকে শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে ঢাকার স্কয়ার হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসাধীন থাকার কথা উল্লেখ করে অসুস্থতাজনিত ছুটির আবেদন করেন।
তবে, তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে স্কয়ার হাসপাতালে যোগাযোগ করা হলে ২০২৪ সালের ১৯ অক্টোবর তার হাসপাতালে ভর্তির কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি বলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়।
এরপর তাকে কর্মস্থলে হাজির হওয়ার জন্য স্থায়ী ও বর্তমান ঠিকানা এবং ই-মেইল ঠিকানায় নোটিশ পাঠানো হলেও তিনি নোটিশের কোনো জবাব দেননি।
নথিতে বলা হয়েছে, যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়াই তিনি ২০২৪ সালের ১৯ অক্টোবর থেকে কর্মস্থলে অনুপস্থিত ছিলেন। এ ঘটনাকে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালার আওতায় যথাক্রমে অসদাচরণ ও পলায়ন হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
এ অভিযোগে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য পুলিশ সদর দপ্তর থেকে পত্র পাঠানো হয়। পরে ২০২৫ সালের ২ মার্চ তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করা হয় এবং কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তিনি কোনো লিখিত জবাব দেননি এবং সময় বাড়ানোর আবেদনও করেননি।
অভিযোগের গুরুত্ব ও সম্ভাব্য শাস্তির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে ২০২৫ সালের ১৬ অক্টোবর একজন তদন্তকারী কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়। তদন্ত শেষে চলতি বছরের ৪ জানুয়ারি দাখিল করা প্রতিবেদনে হাসান আরাফাতের বিরুদ্ধে অসদাচরণ ও পলায়নের অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে বলে মতামত দেওয়া হয়।
এরপর তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত বা অন্য কোনো উপযুক্ত গুরুদণ্ড দেওয়া হবে না কেন এ বিষয়ে দ্বিতীয় কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয় চলতি বছরের ৫ জানুয়ারি। ওই নোটিশেরও কোনো জবাব দেননি তিনি।
পরবর্তীতে তাকে চাকরি থেকে বরখাস্তকরণ গুরুদণ্ড দেওয়ার প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ এবং বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন (পরামর্শ) প্রবিধানমালা অনুযায়ী এ বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) পরামর্শ চাওয়া হয়। গত ১৯ আগস্ট পিএসসি তাকে চাকরি থেকে বরখাস্তকরণের গুরুদণ্ড দেওয়া যেতে পারে বলে পরামর্শ দেয়।
প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়েছে, অভিযোগের ক্ষেত্রে নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ রাষ্ট্রপতি হওয়ায় রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের জন্য বিষয়টি উপস্থাপন করা হয়। গত ২০ সেপ্টেম্বর রাষ্ট্রপতি এ বিভাগীয় মামলায় তাকে ২০২৪ সালের ১৯ অক্টোবর থেকে চাকরি থেকে বরখাস্তকরণের গুরুদণ্ড দেওয়ার অনুমোদন দেন।
এর পরিপ্রেক্ষিতে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা অনুযায়ী হাসান আরাফাতকে ২০২৪ সালের ১৯ অক্টোবর তারিখ থেকে চাকরি থেকে বরখাস্তকরণ গুরুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। আদেশটি অবিলম্বে কার্যকর হবে বলেও প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।
অনলাইন ডেস্ক : 



























