ঢাকা ১২:৩০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং

🌤️ বাংলাদেশের বিভাগসমূহের লাইভ আবহাওয়া

দুপুরে খাওয়ার পর ঘুম পেতে পারে যে কারণে, জানুন বিস্তারিত

  • অনলাইন ডেস্ক :
  • আপডেট সময় ১২:৩০:৩৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • 1

দুপুরে পেট পুরে খাওয়ার পরেই কি আপনার চোখ ভেঙে ঘুম আসে? চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় ‘ফুড কোমা’ নামের এই ক্লান্তিবোধের কারণে কাজের মাঝে মনোযোগ ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়ে। শরীর হঠাৎ অলস হয়ে পড়া এবং এই ভরদুপুরে ঘুম নেমে আসার পেছনে আসলে কী কারণ লুকিয়ে আছে, তা জানা থাকা জরুরি।
কিন্তু খাবার খাওয়ার পর এমন ঘুম ঘুম ভাব তৈরি হয় কেন?

বিশেষজ্ঞদের মতে, খাবারের পর যে তন্দ্রাভাব দেখা দেয়, সেটিকে বলা হয় ‘পোস্টপ্রান্ডিয়াল সোমনোলেন্স’। হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদনে এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দিয়েছেন ডা. আইলিন ক্যান্ডে। তার মতে, খাবার খাওয়ার পর শরীর হজমের প্রক্রিয়ায় যায় এবং এক ধরনের বিশ্রাম অবস্থায় চলে যেতে পারে। অন্ত্র থেকে আসা বিভিন্ন সংকেত, হরমোনের প্রভাব, রক্তে পুষ্টি উপাদানের প্রবাহ এবং প্যারাসিমপ্যাথেটিক স্নায়ুতন্ত্রের সক্রিয়তার মতো বিষয়গুলো খাবারের পর ঘুম ঘুম ভাব তৈরিতে ভূমিকা রাখতে পারে।

সাধারণত খাবার খাওয়ার এক থেকে দুই ঘণ্টা পর এই তন্দ্রাভাব বেশি দেখা যায়, বিশেষ করে খাবার পরিমাণে বেশি হলে। তবে শুধু খাবারের পরিমাণই দায়ী নয়। রাতে পর্যাপ্ত ঘুম না হওয়া, শরীরের সার্কাডিয়ান ছন্দ, অ্যালকোহল, পানিশূন্যতা এবং ঘুমভাব তৈরি করে এমন কিছু ওষুধও এই পরিস্থিতিকে আরো বাড়িয়ে দিতে পারে।

রক্তে শর্করার ওঠানামা

ডা. আইলিনের মতে, খাবারের পর ঘুম ঘুম ভাবের ক্ষেত্রে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রাও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। পরিশোধিত কার্বোহাইড্রেট বেশি থাকা খাবার খেলে শরীরে দ্রুত গ্লুকোজ বেড়ে যেতে পারে। এরপর ইনসুলিনের প্রভাবে গ্লুকোজের মাত্রা দ্রুত কমে গেলে অতিরিক্ত ঘুমভাব তৈরি হতে পারে।এই ঘটনাকে ‘রিঅ্যাকটিভ হাইপোগ্লাইসেমিয়া’ বলা হয়।

সাদা ভাত, পেস্ট্রি ও চিনিযুক্ত পানীয়ের মতো পরিশোধিত কার্বোহাইড্রেট ও চিনি বেশি থাকা খাবারে রক্তে শর্করার মাত্রা দ্রুত বাড়া ও কমার প্রবণতা দেখা দিতে পারে। অন্যদিকে, অতিরিক্ত চর্বিযুক্ত খাবার পাকস্থলী থেকে খাবার বের হওয়ার প্রক্রিয়া ধীর করে দিতে পারে এবং বিপাকীয় কার্যক্রম বাড়াতে পারে।

আবার বেশি পরিমাণ প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার ট্রিপটোফ্যান উৎপাদন বাড়াতে পারে, যা মেলাটোনিন ও সেরোটোনিন তৈরিতে সহায়তা করে।

যেভাবে দুপুরের পর সতেজ থাকা যায়

ডা. আইলিনের মতে, দীর্ঘসময় সতর্ক ও কর্মক্ষম থাকতে খাবারে শস্য, প্রোটিন ও চর্বির পরিমিত সমন্বয় রাখা যেতে পারে। তবে শুধু খাবারের পর ঘুম ঘুম ভাব হলেই সেটিকে হাইপোগ্লাইসেমিয়া বা ডায়াবেটিসের লক্ষণ হিসেবে ধরে নেওয়া উচিত নয়। এ ধরনের বিষয় নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পরীক্ষা করা দরকার।

বিশেষজ্ঞের মতে, বড় খাবারের পর কিছুটা ক্লান্তি বা তন্দ্রাভাব সাধারণ ঘটনা। কিন্তু প্রতিবার খাবার খাওয়ার পর, খাবারের পরিমাণ যাই হোক না কেন, যদি তীব্র ক্লান্তি দেখা দেয় এবং এর সঙ্গে অতিরিক্ত তৃষ্ণা, অস্বাভাবিক ওজন বাড়া বা কমা, ঝাপসা দেখা কিংবা মনোযোগ ধরে রাখতে না পারার মতো সমস্যা থাকে, তাহলে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন।

এ ধরনের উপসর্গের পেছনে ইনসুলিন প্রতিরোধ বা টাইপ-২ ডায়াবেটিসের মতো সমস্যা থাকতে পারে। আবার থাইরয়েডের কার্যকারিতায় সমস্যা কিংবা শনাক্ত না হওয়া ঘুমের সমস্যাও খাবারের পর অতিরিক্ত ক্লান্তির কারণ হতে পারে।

নিউজ বিজয় ২৪ডট কম/এফএইচএন
আপলোডকারির তথ্য

NewsBijoy24. Com

📰 নিউজবিজয়২৪.কম এমন একটি অনলাইন সংবাদপত্র, যার প্রতিটি শব্দে জড়িয়ে আছে সত্যের অঙ্গীকার ও মানবিকতার দায়বদ্ধতা। এই পত্রিকাটি উৎসর্গ করা হলো আমার পরম শ্রদ্ধেয় মা ও বাবার পবিত্র স্মৃতির উদ্দেশ্যে-যারা আজ এই পৃথিবীতে নেই, কিন্তু তাদের শিক্ষা, আদর্শ ও দোয়ার আলো আজও আমাদের পথ দেখায়। তাদের নিঃস্বার্থ ত্যাগ ও ভালোবাসার প্রেরণায় প্রতিষ্ঠিত এই সংবাদমাধ্যমের লক্ষ্য সত্য প্রকাশ, অন্যায়ের প্রতিবাদ এবং মানুষের পাশে নির্ভীকভাবে দাঁড়ানো। হে আল্লাহ, আমার মা-বাবাকে জান্নাতুল ফেরদৌসে উচ্চ মাকাম দান করুন। আমিন। NewsBijoy24.Com 📰 সত্যের পথে, বিশ্বাসের সাথে।
জনপ্রিয় সংবাদ
⚽ আজকের সেরা ম্যাচগুলো ও লাইভ স্কোর

দুপুরে খাওয়ার পর ঘুম পেতে পারে যে কারণে, জানুন বিস্তারিত

দুপুরে খাওয়ার পর ঘুম পেতে পারে যে কারণে, জানুন বিস্তারিত

আপডেট সময় ১২:৩০:৩৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

দুপুরে পেট পুরে খাওয়ার পরেই কি আপনার চোখ ভেঙে ঘুম আসে? চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় ‘ফুড কোমা’ নামের এই ক্লান্তিবোধের কারণে কাজের মাঝে মনোযোগ ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়ে। শরীর হঠাৎ অলস হয়ে পড়া এবং এই ভরদুপুরে ঘুম নেমে আসার পেছনে আসলে কী কারণ লুকিয়ে আছে, তা জানা থাকা জরুরি।
কিন্তু খাবার খাওয়ার পর এমন ঘুম ঘুম ভাব তৈরি হয় কেন?

🔔 নিউজ বিজয়ের সর্বশেষ খবর পেতে টেলিগ্রাম চ্যানেল জয়েন করুন

বিশেষজ্ঞদের মতে, খাবারের পর যে তন্দ্রাভাব দেখা দেয়, সেটিকে বলা হয় ‘পোস্টপ্রান্ডিয়াল সোমনোলেন্স’। হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদনে এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দিয়েছেন ডা. আইলিন ক্যান্ডে। তার মতে, খাবার খাওয়ার পর শরীর হজমের প্রক্রিয়ায় যায় এবং এক ধরনের বিশ্রাম অবস্থায় চলে যেতে পারে। অন্ত্র থেকে আসা বিভিন্ন সংকেত, হরমোনের প্রভাব, রক্তে পুষ্টি উপাদানের প্রবাহ এবং প্যারাসিমপ্যাথেটিক স্নায়ুতন্ত্রের সক্রিয়তার মতো বিষয়গুলো খাবারের পর ঘুম ঘুম ভাব তৈরিতে ভূমিকা রাখতে পারে।

সাধারণত খাবার খাওয়ার এক থেকে দুই ঘণ্টা পর এই তন্দ্রাভাব বেশি দেখা যায়, বিশেষ করে খাবার পরিমাণে বেশি হলে। তবে শুধু খাবারের পরিমাণই দায়ী নয়। রাতে পর্যাপ্ত ঘুম না হওয়া, শরীরের সার্কাডিয়ান ছন্দ, অ্যালকোহল, পানিশূন্যতা এবং ঘুমভাব তৈরি করে এমন কিছু ওষুধও এই পরিস্থিতিকে আরো বাড়িয়ে দিতে পারে।

রক্তে শর্করার ওঠানামা

ডা. আইলিনের মতে, খাবারের পর ঘুম ঘুম ভাবের ক্ষেত্রে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রাও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। পরিশোধিত কার্বোহাইড্রেট বেশি থাকা খাবার খেলে শরীরে দ্রুত গ্লুকোজ বেড়ে যেতে পারে। এরপর ইনসুলিনের প্রভাবে গ্লুকোজের মাত্রা দ্রুত কমে গেলে অতিরিক্ত ঘুমভাব তৈরি হতে পারে।এই ঘটনাকে ‘রিঅ্যাকটিভ হাইপোগ্লাইসেমিয়া’ বলা হয়।

সাদা ভাত, পেস্ট্রি ও চিনিযুক্ত পানীয়ের মতো পরিশোধিত কার্বোহাইড্রেট ও চিনি বেশি থাকা খাবারে রক্তে শর্করার মাত্রা দ্রুত বাড়া ও কমার প্রবণতা দেখা দিতে পারে। অন্যদিকে, অতিরিক্ত চর্বিযুক্ত খাবার পাকস্থলী থেকে খাবার বের হওয়ার প্রক্রিয়া ধীর করে দিতে পারে এবং বিপাকীয় কার্যক্রম বাড়াতে পারে।

আবার বেশি পরিমাণ প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার ট্রিপটোফ্যান উৎপাদন বাড়াতে পারে, যা মেলাটোনিন ও সেরোটোনিন তৈরিতে সহায়তা করে।

যেভাবে দুপুরের পর সতেজ থাকা যায়

ডা. আইলিনের মতে, দীর্ঘসময় সতর্ক ও কর্মক্ষম থাকতে খাবারে শস্য, প্রোটিন ও চর্বির পরিমিত সমন্বয় রাখা যেতে পারে। তবে শুধু খাবারের পর ঘুম ঘুম ভাব হলেই সেটিকে হাইপোগ্লাইসেমিয়া বা ডায়াবেটিসের লক্ষণ হিসেবে ধরে নেওয়া উচিত নয়। এ ধরনের বিষয় নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পরীক্ষা করা দরকার।

বিশেষজ্ঞের মতে, বড় খাবারের পর কিছুটা ক্লান্তি বা তন্দ্রাভাব সাধারণ ঘটনা। কিন্তু প্রতিবার খাবার খাওয়ার পর, খাবারের পরিমাণ যাই হোক না কেন, যদি তীব্র ক্লান্তি দেখা দেয় এবং এর সঙ্গে অতিরিক্ত তৃষ্ণা, অস্বাভাবিক ওজন বাড়া বা কমা, ঝাপসা দেখা কিংবা মনোযোগ ধরে রাখতে না পারার মতো সমস্যা থাকে, তাহলে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন।

এ ধরনের উপসর্গের পেছনে ইনসুলিন প্রতিরোধ বা টাইপ-২ ডায়াবেটিসের মতো সমস্যা থাকতে পারে। আবার থাইরয়েডের কার্যকারিতায় সমস্যা কিংবা শনাক্ত না হওয়া ঘুমের সমস্যাও খাবারের পর অতিরিক্ত ক্লান্তির কারণ হতে পারে।