নবীন সদস্যকে নিয়ে মেতে গোটা পরিবার। আনন্দের বান ডেকেছে নতুন মায়ের মন জুড়েও। এ যেন এক অন্যরকম তৃপ্তি। এতদিন অচেনা হয়ে থাকা এক অপার্থিব মাধুর্য! কুট্টি একটা মানুষ, যার সবটুকু এ মায়ের শরীর ও মনজুড়েই। আর মা হওয়ার নতুন সফরে সন্তানের পাশাপাশি নিজের শারীরিক ও মানসিক সুস্থতার যত্ন নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।
কোলে এসেছে ফুটফুটে সন্তান। নতুন মা হয়েছেন। আপনার সন্তান ও নিজের সুস্থতার জন্য সঠিক পুষ্টি, পর্যাপ্ত পরিমাণে বিশ্রাম, পরিচ্ছন্নতা ও নিয়মিত দুধপান করানো একজন মায়ের সবচেয়ে জরুরি। মাতৃত্বের এই নতুন সফর যেমন আনন্দের, ঠিক তেমনি প্রথম দিকে এটি কিছুটা কঠিনও মনে হতে পারে।
শিশু যখন ঘুমাবে তখন নিজে বিশ্রাম নেওয়া, পুষ্টিকর ডায়েট বজায় রাখা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী পরিবারের সাহায্য নেওয়া প্রসবপরবর্তী সময়কে সহজ করে তোলে।
চলুন জানা যাক, শিশুর যত্নে মায়ের ভালোবাসা—
আপনার নবজাতক সন্তানকে সঠিক সময়ে দুধপান করান। জন্মের পর পরই শিশুকে শালদুধ দিন এবং প্রথম ছয় মাস শুধু মায়ের বুকের দুধই খাওয়ান। আর আপনার নবজাতককে প্রতি ২ থেকে ৩ ঘণ্টা পরপর দুধ খাওয়াতে হবে। শিশুকে কোলে নেওয়ার আগে হাত ভালোভাবে সাবান বা স্যানিটাইজার দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। আর শিশুর ঘাড় ও পেশি অত্যন্ত নরম থাকে, তাই কোলে তুলে নেওয়ার সময় সর্বদা মাথা ও ঘাড়ে হাত দিয়ে সাপোর্ট দিন।
প্রতিবার দুধ খাওয়ানোর পর শিশুকে কাঁধে নিয়ে আলতো করে পিঠ চাপড়ে গ্যাস বের করুন কিংবা ‘ঢেকুর’ তোলাবেন। আর শিশুকে সবসময় চিত করে সমতল বিছানায় ঘুম পাড়াবেন এবং চারপাশে নরম বালিশ বা কাপড় রাখবেন না, যেন নাক-মুখ ঢেকে যায়।
সেই সঙ্গে বাইরে থেকে আসা অতিথিদের ভিড় সীমিত রাখুন এবং শিশুকে অতিরিক্ত চুমু খাওয়া থেকে বিরত থাকুন। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী সঠিক সময়ে শিশুর সব জরুরি ভ্যাকসিন কিংবা টিকা নিশ্চিত করুন।
নতুন মায়ের নিজের যত্ন ও বিশ্রাম নির্দিষ্ট সময়ে একটা অভ্যাসে পরিণত করুন। কারণ শিশু যখনই ঘুমাবে, আপনিও তখন ছোট ছোট ঘুমে নিজের বিশ্রাম ও ক্লান্তি দূর করে নিন। আর আপনার শরীর সুস্থ রাখতে এবং বুকের দুধের প্রবাহ ঠিক রাখতে প্রোটিন, ক্যালসিয়াম ও আয়রনসমৃদ্ধ সুষম খাবার খান।
সেই সঙ্গে পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করুন। কারণ দিনে প্রচুর পরিমাণে পানি, স্যুপ বা তরল খাবার গ্রহণ করুন, যাতে আপনার শরীর ডিহাইড্রেটেড না হয়। আর প্রসবের পর হরমোনের ওঠানামার কারণে মন খারাপ বা ‘বেবি ব্লুজ’ হওয়া স্বাভাবিক, তাই পরিবারের সঙ্গে কথা বলুন এবং প্রয়োজনে সাহায্য চান। বিশেষ করে সিজারিয়ান ডেলিভারি হলে প্রথম কয়েক সপ্তাহ ভারি কোনো জিনিস তোলা বা অতিরিক্ত পরিশ্রম থেকে বিরত থাকুন।
অনলাইন ডেস্ক : 























