লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ও ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে দুইজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও চারজন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে তিনজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। অপর দুইজন প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন।
শনিবার (১৫ আগস্ট) দুপুরে হাতীবান্ধা উপজেলা সদরের সোনালী ব্যাংক চত্বর সংলগ্ন এলাকার লালমনিরহাট-বুড়িমারী মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন-হাতীবান্ধা উপজেলার পশ্চিম সারডুবী এলাকার তৈয়ব আলীর ছেলে মো. জহুরুল ইসলাম (৫০) এবং দক্ষিণ গুড্ডিমারী এলাকার মোহাম্মদ আলীর ছেলে আব্দুল মজিদ (৬০)। দুর্ঘটনায় তারা ঘটনাস্থলেই মারা যান।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুড়িমারী স্থলবন্দরগামী একটি ট্রাক দ্রুতগতিতে যাওয়ার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে প্রথমে একটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষে জড়ায়। সংঘর্ষের পর ট্রাকটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশে থাকা একটি মোটরসাইকেলের শোরুমে ঢুকে পড়ে। এতে শোরুমে থাকা কয়েকটি মোটরসাইকেল দুমড়ে-মুচড়ে যায়।
এদিকে ট্রাকের ধাক্কায় অটোরিকশাটিও দুমড়ে-মুচড়ে যায়। এতে অটোরিকশায় থাকা দুই যাত্রী ঘটনাস্থলেই মারা যান এবং আরও চারজন আহত হন।
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের উদ্ধার করে হাতীবান্ধা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।
আহতদের মধ্যে মো. রশিদুল ইসলাম (৩৫), পিতা-আজিম উদ্দিন, পূর্ব বেজগ্রাম; রিনা বেগম (৩৭), স্বামী-জহুরুল ইসলাম, পশ্চিম সারডুবী; এবং মো. রবিউল ইসলাম (৩৬), পিতা-আব্দুল গফুর, উত্তর সিংগিমারী-এর অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
এছাড়া সাংবাদিক ফারুকের বড় ভাই মো. ফিরোজ আহম্মেদ দুর্ঘটনায় আহত হয়ে হাতীবান্ধা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা নেন। চিকিৎসা শেষে তিনি নিজ বাড়িতে ফিরে যান।
দুর্ঘটনার পর ঘটনাস্থলে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। মহাসড়কে কিছু সময়ের জন্য যান চলাচল ব্যাহত হয়। পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, লালমনিরহাট-বুড়িমারী মহাসড়কে বেপরোয়া গতিতে ও অসতর্কভাবে যানবাহন চলাচলের কারণে প্রায়ই দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। তারা মহাসড়কে যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণ এবং দুর্ঘটনা প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

এই সড়ক দুর্ঘটনায় ২ জনের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে স্থানীয় লোকজন ও সাবেক ছাত্রশিবির নেতা বুলেটসহ কয়েকজন সড়ক অবরোধের চেষ্টা করেন। এ সময় উপজেলা ছাত্রদলের সম্পাদক নোমান সেই সড়ক পথ অবরোধে বাধা প্রদান করেন এবং বলেন সড়ক পথ আরোধ করে ব্যবসা পেয়েছেন। এ নিয়ে উত্তেজনা সৃষ্টি হলে পুলিশের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হয়।
হাতীবান্ধা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশরাফুজ্জামান সরকার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, দুর্ঘটনার পর চালক পালিয়ে গেলেও ট্রাকটি আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।
লালমনিরহাট জেলা প্রতিনিধি : 


























