ঢাকা ১১:৫৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং

🌤️ বাংলাদেশের বিভাগসমূহের লাইভ আবহাওয়া

সৌদি আরবে হামলায় ক্ষুব্ধ পাকিস্তান, মক্কা চুক্তি সক্রিয়ের হুঁশিয়ারি

সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বাড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ স্পষ্ট ভাষায় সতর্ক করেছেন, মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তির আওতায় থাকা কোনো এক দেশের ওপর হামলা হলে সেটিকে তিন দেশের ওপরই হামলা বলে ধরে নেওয়া হবে।
সম্প্রতি সৌদি আরবের আবহা, খামিস মুশাইত, জাজান ও নাজরান শহরসহ কয়েকটি এলাকায় হুথিদের হামলায় অন্তত ৭৩ জন বেসামরিক মানুষ আহত হয়েছেন। পাকিস্তান এ হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেছে, এটি সৌদি আরবের সার্বভৌমত্ব ও ভূখণ্ডের ওপর সরাসরি আঘাত।

এক টেলিভিশন অনুষ্ঠানে খাজা আসিফ বলেন, ইয়েমেনের সংঘাত যদি সৌদি আরবে ছড়িয়ে পড়ে বা কোনো উসকানিবিহীন হামলা হয়, তাহলে চুক্তির পারস্পরিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কাজে লাগানো হবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, এ ব্যাপারে কোনো অস্পষ্টতা নেই। এটি যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি। প্রয়োজন হলে পাকিস্তান তার অঙ্গীকার পূরণ করবে।

তবে আসিফ একথাও স্পষ্ট করেছেন যে, এই চুক্তি কোনো আক্রমণাত্মক সামরিক জোট নয়। তিন দেশ মিলে অন্য কোনো দেশের বিরুদ্ধে হামলা চালানোর জন্য এটা তৈরি হয়নি। বরং কোনো এক দেশ আক্রান্ত হলে বাকি দুই দেশ তার পাশে দাঁড়াবে, এটাই মূল উদ্দেশ্য।

হুথিদের উদ্দেশে তিনি সতর্কবার্তা দিয়ে বলেছেন, ইয়েমেনের অভ্যন্তরীণ লড়াই দেশের বাইরে ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করলে তার পরিণতি ভালো হবে না। হুথিরা যদি সংঘাত সৌদি আরবের দিকে টেনে নিয়ে যায়, তাহলে চুক্তির প্রতিরোধ ধারাগুলো সক্রিয় হয়ে যেতে পারে।

আসিফের মতে, চুক্তির আরেকটা বড় লক্ষ্য হলো সম্ভাব্য হামলা ঠেকানো। মানে হামলা হলেই পাল্টা হামলা করতেই হবে, এমন কথা নেই। তিনি বলেন, ইটের জবাব পাথর দিয়ে দিতেই হবে, এমন নয়। তিনটি সামরিকভাবে শক্তিশালী দেশের এই জোট নিজেদের সক্ষমতা ইতিমধ্যে প্রমাণ করেছে। তাই চুক্তিটা নিজেই হামলাকারীদের জন্য বড় সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করতে পারে।

২০১৪ সালের কথাও স্মরণ করেন আসিফ। তখন ইয়েমেন থেকে সৌদি আরবে হামলা হয়েছিল। সে সময় আনুষ্ঠানিক প্রতিরক্ষা চুক্তি না থাকলেও পাকিস্তান সৌদি আরবের পাশে দাঁড়িয়েছিল। সৌদি আরবের পবিত্র মর্যাদা আর দুই দেশের দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কই এর মূল কারণ বলে তিনি উল্লেখ করেন।

পরিস্থিতি খারাপ হলেও শান্তির সম্ভাবনা এখনো শেষ হয়ে যায়নি বলে মনে করেন আসিফ। তিনি বলেন, শান্তির পথ অবশ্যই বের হবে। আলোচনার দরজা এখনো খোলা আছে এবং বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে পরোক্ষ যোগাযোগও চলছে। এখন সবচেয়ে জরুরি হলো এমন পরিবেশ তৈরি করা, যেখানে পুরো অঞ্চলে শান্তি প্রতিষ্ঠার সুযোগ তৈরি হবে। কারণ চলমান সংঘাতে গোটা মধ্যপ্রাচ্যই ঝুঁকির মুখে রয়েছে।

হুথিদের হামলা অবশ্য নতুন নয়। এর আগে ২৩ জুলাই তারা দুটি সৌদি তেলবাহী জাহাজে হামলার দাবি করেছিল। হুথিদের নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকা গুরুত্বপূর্ণ বাব আল-মান্দাব প্রণালির কাছাকাছি। লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরকে যুক্ত করা এই জলপথ বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক নৌপথ। এখানে অস্থিরতা বাড়লে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল ও জ্বালানি সরবরাহও হুমকির মুখে পড়তে পারে।

হুথি হামলার হুমকির পর সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটও সতর্ক করে জানিয়েছে, সৌদি আরব, তার নাগরিক বা জাতীয় সম্পদের ওপর কোনো হামলার চেষ্টা হলে তারা কঠোর জবাব দেবে।

সূত্র: দ্য এক্সপ্রেস ট্রিবিউন

নিউজ বিজয় ২৪ডট কম/এফএইচএন
আপলোডকারির তথ্য

NewsBijoy24. Com

📰 নিউজবিজয়২৪.কম এমন একটি অনলাইন সংবাদপত্র, যার প্রতিটি শব্দে জড়িয়ে আছে সত্যের অঙ্গীকার ও মানবিকতার দায়বদ্ধতা। এই পত্রিকাটি উৎসর্গ করা হলো আমার পরম শ্রদ্ধেয় মা ও বাবার পবিত্র স্মৃতির উদ্দেশ্যে-যারা আজ এই পৃথিবীতে নেই, কিন্তু তাদের শিক্ষা, আদর্শ ও দোয়ার আলো আজও আমাদের পথ দেখায়। তাদের নিঃস্বার্থ ত্যাগ ও ভালোবাসার প্রেরণায় প্রতিষ্ঠিত এই সংবাদমাধ্যমের লক্ষ্য সত্য প্রকাশ, অন্যায়ের প্রতিবাদ এবং মানুষের পাশে নির্ভীকভাবে দাঁড়ানো। হে আল্লাহ, আমার মা-বাবাকে জান্নাতুল ফেরদৌসে উচ্চ মাকাম দান করুন। আমিন। NewsBijoy24.Com 📰 সত্যের পথে, বিশ্বাসের সাথে।
জনপ্রিয় সংবাদ
⚽ আজকের সেরা ম্যাচগুলো ও লাইভ স্কোর

চীনে বিদেশি কার্গো জাহাজে ভয়াবহ আগুন, ২৫ জনের মৃত্যু

সৌদি আরবে হামলায় ক্ষুব্ধ পাকিস্তান, মক্কা চুক্তি সক্রিয়ের হুঁশিয়ারি

আপডেট সময় ০৯:১৩:০৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বাড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ স্পষ্ট ভাষায় সতর্ক করেছেন, মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তির আওতায় থাকা কোনো এক দেশের ওপর হামলা হলে সেটিকে তিন দেশের ওপরই হামলা বলে ধরে নেওয়া হবে।
সম্প্রতি সৌদি আরবের আবহা, খামিস মুশাইত, জাজান ও নাজরান শহরসহ কয়েকটি এলাকায় হুথিদের হামলায় অন্তত ৭৩ জন বেসামরিক মানুষ আহত হয়েছেন। পাকিস্তান এ হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেছে, এটি সৌদি আরবের সার্বভৌমত্ব ও ভূখণ্ডের ওপর সরাসরি আঘাত।

🔔 নিউজ বিজয়ের সর্বশেষ খবর পেতে টেলিগ্রাম চ্যানেল জয়েন করুন

এক টেলিভিশন অনুষ্ঠানে খাজা আসিফ বলেন, ইয়েমেনের সংঘাত যদি সৌদি আরবে ছড়িয়ে পড়ে বা কোনো উসকানিবিহীন হামলা হয়, তাহলে চুক্তির পারস্পরিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কাজে লাগানো হবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, এ ব্যাপারে কোনো অস্পষ্টতা নেই। এটি যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি। প্রয়োজন হলে পাকিস্তান তার অঙ্গীকার পূরণ করবে।

তবে আসিফ একথাও স্পষ্ট করেছেন যে, এই চুক্তি কোনো আক্রমণাত্মক সামরিক জোট নয়। তিন দেশ মিলে অন্য কোনো দেশের বিরুদ্ধে হামলা চালানোর জন্য এটা তৈরি হয়নি। বরং কোনো এক দেশ আক্রান্ত হলে বাকি দুই দেশ তার পাশে দাঁড়াবে, এটাই মূল উদ্দেশ্য।

হুথিদের উদ্দেশে তিনি সতর্কবার্তা দিয়ে বলেছেন, ইয়েমেনের অভ্যন্তরীণ লড়াই দেশের বাইরে ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করলে তার পরিণতি ভালো হবে না। হুথিরা যদি সংঘাত সৌদি আরবের দিকে টেনে নিয়ে যায়, তাহলে চুক্তির প্রতিরোধ ধারাগুলো সক্রিয় হয়ে যেতে পারে।

আসিফের মতে, চুক্তির আরেকটা বড় লক্ষ্য হলো সম্ভাব্য হামলা ঠেকানো। মানে হামলা হলেই পাল্টা হামলা করতেই হবে, এমন কথা নেই। তিনি বলেন, ইটের জবাব পাথর দিয়ে দিতেই হবে, এমন নয়। তিনটি সামরিকভাবে শক্তিশালী দেশের এই জোট নিজেদের সক্ষমতা ইতিমধ্যে প্রমাণ করেছে। তাই চুক্তিটা নিজেই হামলাকারীদের জন্য বড় সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করতে পারে।

২০১৪ সালের কথাও স্মরণ করেন আসিফ। তখন ইয়েমেন থেকে সৌদি আরবে হামলা হয়েছিল। সে সময় আনুষ্ঠানিক প্রতিরক্ষা চুক্তি না থাকলেও পাকিস্তান সৌদি আরবের পাশে দাঁড়িয়েছিল। সৌদি আরবের পবিত্র মর্যাদা আর দুই দেশের দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কই এর মূল কারণ বলে তিনি উল্লেখ করেন।

পরিস্থিতি খারাপ হলেও শান্তির সম্ভাবনা এখনো শেষ হয়ে যায়নি বলে মনে করেন আসিফ। তিনি বলেন, শান্তির পথ অবশ্যই বের হবে। আলোচনার দরজা এখনো খোলা আছে এবং বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে পরোক্ষ যোগাযোগও চলছে। এখন সবচেয়ে জরুরি হলো এমন পরিবেশ তৈরি করা, যেখানে পুরো অঞ্চলে শান্তি প্রতিষ্ঠার সুযোগ তৈরি হবে। কারণ চলমান সংঘাতে গোটা মধ্যপ্রাচ্যই ঝুঁকির মুখে রয়েছে।

হুথিদের হামলা অবশ্য নতুন নয়। এর আগে ২৩ জুলাই তারা দুটি সৌদি তেলবাহী জাহাজে হামলার দাবি করেছিল। হুথিদের নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকা গুরুত্বপূর্ণ বাব আল-মান্দাব প্রণালির কাছাকাছি। লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরকে যুক্ত করা এই জলপথ বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক নৌপথ। এখানে অস্থিরতা বাড়লে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল ও জ্বালানি সরবরাহও হুমকির মুখে পড়তে পারে।

হুথি হামলার হুমকির পর সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটও সতর্ক করে জানিয়েছে, সৌদি আরব, তার নাগরিক বা জাতীয় সম্পদের ওপর কোনো হামলার চেষ্টা হলে তারা কঠোর জবাব দেবে।

সূত্র: দ্য এক্সপ্রেস ট্রিবিউন