বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে ফুটবল বিশ্বকাপের উন্মাদনা। ইতিহাসের সবচেয়ে বড় এবং জমকালো আয়োজনে এবার প্রথমবার মুখোমুখি হচ্ছে ৪৮টি দল।
যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো এবং কানাডার ১৬টি ভেন্যুতে যৌথভাবে বসছে বিশ্বমঞ্চের এই মহোৎসব।
আগামী ১১ জুন থেকে শুরু হয়ে টানা পাঁচ সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে চলবে এই ফুটবল যুদ্ধ।
১২টি গ্রুপে বিভক্ত হয়ে দলগুলো লড়বে নকআউট পর্বে ওঠার জন্য, যেখানে এবারই প্রথম যুক্ত হয়েছে ‘রাউন্ড অব ৩২’। আর আগামী ১৯ জুলাই নিউ জার্সির ইস্ট রাদারফোর্ডে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ফিফা প্রধান জান্নি ইনফান্তিনোর উপস্থিতিতে বিজয়ীদের হাতে তুলে দেওয়া হবে কাঙ্ক্ষিত সেই ট্রফি।
আসন্ন এই মেগা টুর্নামেন্টকে সামনে রেখে ফুটবলপ্রেমীদের কৌতুহল মেটাতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-এর সাহায্য নিয়েছে ক্রীড়া পরিসংখ্যানের নির্ভরযোগ্য প্রতিষ্ঠান ‘অপ্টা’ (Opta)। তাদের সুপারকম্পিউটার পুরো টুর্নামেন্টটিকে ১০ হাজার বার সিমুলেশন (কাল্পনিকভাবে পরিচালনা) করে প্রকাশ করেছে এক চমকপ্রদ ও রোমাঞ্চকর পূর্বাভাস।
অপ্টা সুপারকম্পিউটারের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৬ বিশ্বকাপের ট্রফি জয়ের সবচেয়ে বড় দাবিদার স্পেন। ১০ হাজার সিমুলেশনের মধ্যে সর্বোচ্চ ১৬.১ শতাংশ বারই চ্যাম্পিয়ন হয়েছে ‘লা রোজা’রা। ইউরো ২০২৪-এর চ্যাম্পিয়নরা এবার গ্রুপ ‘এইচ’-এ উরুগুয়ে, সৌদি আরব এবং কেপ ভার্দের মুখোমুখি হবে।
সুপারকম্পিউটারের চোখে স্পেনের কোয়ার্টার ফাইনালে পৌঁছানোর সম্ভাবনা ৫২.১ শতাংশ এবং ফাইনালে খেলার সম্ভাবনা ২৫.৬ শতাংশ। বার্সেলোনার বিস্ময় বালক লামিন ইয়ামাল এবং ম্যান সিটির তারকা মিডফিল্ডার রদ্রির ওপর ভর করে এবার দারুণ শক্তিশালী লুইস দে লা ফুয়েন্তের দল।
শিরোপা জয়ের দৌড়ে স্পেনের ঠিক পেছনেই অবস্থান করছে ফুটবল বিশ্বের আরও তিন পরাশক্তি। এদের প্রত্যেকেরই ট্রফি জেতার সম্ভাবনা ১০ শতাংশের ওপরে।
ফ্রান্স (১৩ শতাংশ): টানা দুইবারের ফাইনালিস্ট ফ্রান্স এবার সুপারকম্পিউটারের হিসাবে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ফেবারিট। কোচ হিসেবে দিদিয়ে দেশমের বিদায়ী টুর্নামেন্ট এটি। রিয়াল মাদ্রিদ তারকা কিলিয়ান এমবাপ্পের নেতৃত্বে ফরাসীদের ফাইনালে ওঠার সম্ভাবনা ২১.৩ শতাংশ।
ইংল্যান্ড (১১.২ শতাংশ): টমাস টুখেলের অধীনে বাছাইপর্বে এক গোলও না হজম করে রেকর্ড গড়া ইংল্যান্ড এবার তৃতীয় ফেবারিট। বায়ার্ন মিউনিখের হয়ে ৬১ গোল করে ইউরোপিয়ান গোল্ডেন শু জেতা হ্যারি কেইন এবং জুড বেলিংহামদের হাত ধরে দীর্ঘ ৬০ বছরের ট্রফি খরা কাটাতে মরিয়া থ্রি লায়নসরা।
আর্জেন্টিনা (১০.৪ শতাংশ): বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা এবার ট্রফি ধরে রাখার মিশনে নামবে। ৩৮ বছর বয়সী কিংবদন্তি লিওনেল মেসির নেতৃত্বে লা আলবিসেলেস্তেদের গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার সম্ভাবনা ৭৩ শতাংশ এবং ফাইনালে যাওয়ার সম্ভাবনা ১৮.১ শতাংশ।
শীর্ষ চারের পর বড় প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে রয়েছে আরও তিনটি দেশ:
পর্তুগাল (৭ শতাংশ): ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর শেষ বিশ্বকাপে পর্তুগালের সেমিফাইনালে যাওয়ার সম্ভাবনা ২৩.৯ শতাংশ।
ব্রাজিল (৬.৬ শতাংশ): কার্লো আনচেলত্তির অধীনে পাঁচবারের চ্যাম্পিয়ন সেলেসাওরা এবার তাদের ২৪ বছরের শিরোপা খরা কাটাতে লড়বে। গ্রুপ পর্বে তাদের শীর্ষস্থান পাওয়ার সম্ভাবনা ৬০.৪ শতাংশ।
জার্মানি (৫.১ শতাংশ): দীর্ঘ ১২ বছর পর বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে জায়গা করে নিয়ে নিজেদের ভাগ্য বদলাতে চাইবে জুলিয়ান নাগেলসম্যানের দল।
নেদারল্যান্ডস (৩.৬ শতাংশ), নরওয়ে (৩.৫ শতাংশ), বেলজিয়াম (২.৪ শতাংশ), কলম্বিয়া (২.১ শতাংশ) এবং মরক্কো (১.৯ শতাংশ)-কে এবার টুর্নামেন্টের ‘ডার্ক হর্স’ হিসেবে ধরা হচ্ছে। বিশেষ করে আর্লিং হালান্ডের নরওয়ে বাছাইপর্বে রেকর্ড ৩৭টি গোল করে মূল মঞ্চে এসেছে।
অন্যদিকে, ২০২৬ বিশ্বকাপে অভিষেক ঘটছে চার দেশ কেপ ভার্দে, কুরাসাও, জর্ডান এবং উজবেকিস্তানের। সুপারকম্পিউটার অনুযায়ী, ক্ষুদ্রতম দেশ কুরাসাও ১০ হাজার সিমুলেশনের মধ্যে একবারও চ্যাম্পিয়ন হতে পারেনি। তবে অবাক করা বিষয় হলো, দুর্বল হাইতি ১০ হাজার বারের মধ্যে একবার বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে!
এর বাইরে তিন সহ-আয়োজক দেশের মধ্যে সবচেয়ে এগিয়ে আছে যুক্তরাষ্ট্র (১.২ শতাংশ)। মাউরিসিও পচেত্তিনোর দল গ্রুপ ‘ডি’ থেকে নকআউটে যাওয়ার ভালো সম্ভাবনা রাখছে। এছাড়া মেক্সিকো (১ শতাংশ) এবং কানাডার নকআউট বা শেষ ১৬-তে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকলেও ট্রফি জেতার দৌড়ে তারা বেশ পিছিয়ে রয়েছে।
অপ্টা সুপারকম্পিউটার স্পষ্ট করে জানিয়েছে, টুর্নামেন্টের ৪৮টি দলের মধ্যে ৩৫.৯ শতাংশ সম্ভাবনা রয়েছে সম্পূর্ণ নতুন কোনো দেশের চ্যাম্পিয়ন হওয়ার। তবে মাঠের খেলায় অঘটন ঘটলে যেকোনো হিসাব মুহূর্তেই ওলটপালট হয়ে যেতে পারে।
অনলাইন ডেস্ক : 



























