কিশোরগঞ্জের বাজিতপুর বাজারে পূর্ববিরোধের জেরে কৈলাগ ইউনিয়ন ও পৌরসভার দরিঘাগটিয়া এলাকার দুই পক্ষের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। প্রায় চার ঘণ্টা ধরে চলা দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
এ সময় বাজারের বিভিন্ন দোকানে ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগও উঠেছে। সংঘর্ষে পুরো বাজার এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) বাজিতপুর বাজারের এমপি মার্কেটের সামনে জিদান ও দরিঘাগটিয়া এলাকার কালামের মধ্যে কথা-কাটাকাটির সূত্রপাত হয়। একটি মোবাইল ফোনের দোকানের ভেতর থেকে কালাম জিদানকে উদ্দেশ করে ‘তুই বাজারে কী করস’ বলে প্রশ্ন করলে পূর্ববিরোধের জেরে দুজনের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়।একপর্যায়ে মুরাদের দোকানে তাদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনাও ঘটে। পরে উভয় পক্ষ ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।অভিযোগ রয়েছে, এর কিছুক্ষণ পর জিদান কৈলাগ ইউনিয়ন থেকে লোকজন নিয়ে বাজিতপুর বাজারে আসেন। সেখানে কালামকে না পেয়ে ওই মোবাইল ফোনের দোকানদারকে টেঁটা দিয়ে আঘাত করেন এবং দোকানে ভাঙচুর চালান। পরে তারা ঘটনাস্থল থেকে চলে যান।
এ ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে দরিঘাগটিয়া এলাকার লোকজন বাজিতপুর বাজারে জড়ো হন। এরপর উভয় পক্ষের মধ্যে আবারও সংঘর্ষ শুরু হয়। কয়েক দফায় ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষে পুরো বাজিতপুর বাজার রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। একপর্যায়ে পৌরসভার বিভিন্ন এলাকার লোকজনও সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন বলে স্থানীয়রা জানান।
সংঘর্ষ চলাকালে বাজারের বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে ব্যবসায়ীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষ নিয়ন্ত্রণে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বাজারের ব্যবসায়ীরা। তাদের অভিযোগ, সংঘর্ষ চলাকালে পুলিশের নীরব ভূমিকার কারণে পরিস্থিতি আরও অবনতির দিকে যায়।
এ বিষয়ে বাজিতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এসএম শহিদুল্লাহ বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। সংঘর্ষে আহতদের প্রকৃত সংখ্যা, পরিচয় ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
অনলাইন ডেস্ক : 



























