নওগাঁর বদলগাছীতে টানা দু’দিন ধরে সূর্যের দেখা নেই। দিন ও রাতে বৃষ্টির মতো কুয়াশা ঝরছে। ঘন কুয়াশা, হিমেল হাওয়া ও কমতে থাকা তাপমাত্রার কারণে সারাদিন-সারারাত শীত অনুভূত হচ্ছে। চলমান শৈত্যপ্রবাহের প্রভাবে দিন দিন বেড়েই চলেছে শীতের তীব্রতা।
প্রতিদিন সন্ধ্যার পর থেকেই হিমেল হাওয়া বইতে শুরু করে এবং রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ঘন কুয়াশা চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। এতে পুরো উপজেলায় শীত জেঁকে বসেছে। শীতের প্রকোপে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন ছিন্নমূল ও নিম্ন আয়ের মানুষ।
শীত থেকে রক্ষা পেতে তারা ছুটছেন হাটবাজার, ফুটপাত ও গরম কাপড়ের দোকানগুলোতে। ফলে বদলগাছীসহ আশপাশের এলাকায় গরম কাপড়ের বেচাকেনা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
বদলগাছী কৃষি আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র সূত্রে জানা গেছে, আজ ৩০ ডিসেম্বর (রোববার) সকাল ৯টায় নওগাঁ জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১২ দশমিক ০ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। এর আগের দিন শনিবার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১১ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
শীত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাজারে বাহারি রঙ ও ডিজাইনের শীতবস্ত্রের সমাহার দেখা যাচ্ছে। দোকানগুলোতে জ্যাকেট, সোয়েটার, হুডি, ব্লেজার, মোটা কাপড়ের টি-শার্ট, মাফলার, কানটুপি ও হাতমোজা সাজিয়ে রাখা হয়েছে। ক্রেতাদের চাহিদা অনুযায়ী পোশাক দেখাতে ব্যস্ত সময় পার করছেন বিক্রেতারা।
শহরের মার্কেট ছাড়াও গ্রামের হাটবাজার ও ফুটপাতের দোকানগুলোতে বাড়ছে ক্রেতাদের ভিড়। স্বল্প ও মধ্যবিত্ত আয়ের মানুষ কম দামে শীতের পোশাক কিনতে এসব দোকানে ভরসা করছেন। ফুটপাতের দোকানগুলোতে ১৫০ টাকা থেকে ১ হাজার টাকার মধ্যে বিভিন্ন ধরনের শীতের পোশাক পাওয়া যাচ্ছে।
এছাড়া রাস্তার পাশে ভ্যান ও ফুটপাতের দোকানে পুরোনো গরম কাপড় বিক্রিরও ধুম পড়েছে। সন্ধ্যার পর এসব দোকানে ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড় দেখা যায়। অল্প দামে পুরোনো সোয়েটার, জ্যাকেট, ফুলহাতা গেঞ্জি, মোজা ও মাফলার কিনছেন স্বল্প আয়ের মানুষ।
বদলগাছীর কাপড় বিক্রেতা মোসলেম বলেন, শীত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বেচাকেনাও বাড়ছে। তবে গত বছরের তুলনায় এবার কাপড়ের দাম কিছুটা বেশি।
বদলগাছী হাটের বিক্রেতা করিম জানান, শীতের কারণে নিম্ন আয়ের মানুষ থেকে শুরু করে মধ্যবিত্তরাও ফুটপাতের দোকানে ভিড় করছেন।
এ বিষয়ে বদলগাছী আবহাওয়া ও কৃষি পর্যবেক্ষণাগারের উচ্চ পর্যবেক্ষক হামিদুল হক বলেন, মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়তে পারে, যা দুপুর পর্যন্ত কোথাও কোথাও স্থায়ী হতে পারে। কুয়াশার কারণে সড়ক যোগাযোগসহ বিভিন্ন পরিবহন ব্যবস্থায় সাময়িক বিঘ্ন ঘটতে পারে। তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকলেও শীতের অনুভূতি অব্যাহত থাকবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইশরাত জাহান ছনি বলেন, সরকার থেকে শীতার্ত, দুস্থ ও অসহায় মানুষের জন্য যে শীতবস্ত্র (কম্বল) বরাদ্দ পাওয়া গেছে, তা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদস্যদের মাধ্যমে বিতরণ করা হচ্ছে। পাশাপাশি উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকেও যাচাই-বাছাই করে প্রকৃত শীতার্তদের মাঝে কম্বল বিতরণ করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে অতিরিক্ত বরাদ্দ পাওয়া গেলে পর্যায়ক্রমে তা বিতরণ করা হবে।
নিউজ বিজয় ২৪ডট কম/এফএইচএন
সৈকত সোবহান,প্রতিনিধি, বদলগাছী (নওগাঁ): 

































