ঢাকা ১১:৪০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬, ১১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং

🌤️ বাংলাদেশের বিভাগসমূহের লাইভ আবহাওয়া

মাদক মামলার বিচারে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল হচ্ছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। ছবি: সংগৃহীত

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, মাদক নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তাদের অস্ত্র দেওয়ার পাশাপাশি মাদক মামলার বিচারে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার দুপুরে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে ‘মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচারবিরোধী আন্তর্জাতিক দিবস ২০২৬’ উপলক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিদ্যমান মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন সংশোধন ও আধুনিকায়নের কাজ চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে, যা আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই জাতীয় সংসদে উত্থাপন করা হবে।

তিনি বলেন, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের সক্ষমতা বাড়াতে অধিদপ্তরে অত্যাধুনিক অস্ত্র, ল্যাবরেটরি, পর্যাপ্ত ট্রান্সপোর্টেশন ও ডগ স্কোয়াড যুক্ত করা হচ্ছে। এছাড়া আসামিদের থানায় সোপর্দ করার মধ্যবর্তী সময়ের জন্য আধুনিক হাজতখানা নির্মাণ করা হবে।

মন্ত্রী বলেন, অপরাধীরা এখন প্রযুক্তির সহায়তায় অনলাইন ও অর্থ পাচারের মাধ্যমে মাদক ব্যবসা পরিচালনা করছে। তাই কেবল বিদ্যমান আইনি ভিত্তি দিয়ে এই অপরাধ দমন সম্ভব নয়। অপরাধীদের কঠোর শাস্তি এবং সমাজ পরিবর্তনের জন্য একটি অভেদ্য আইনি দেয়াল গড়ে তোলা হচ্ছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, মামলা জটের কারণে আসামিরা যেন পার পেয়ে না যায়, সে লক্ষ্যে মাদক সংক্রান্ত অপরাধের দ্রুত বিচারের জন্য আলাদা ‘বিশেষ ট্রাইব্যুনাল’ ও এখতিয়ার সম্পন্ন আদালত গঠনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, মাদকের পাশাপাশি অনলাইন জুয়া রোধে সম্প্রতি একটি আধুনিক আইন উত্থাপন করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে সাইবার অপরাধ দমন এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর আধুনিকায়ন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে আইনি সংস্কার আনা হচ্ছে।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত এক জাতীয় গবেষণার তথ্য উল্লেখ করে মন্ত্রী জানান, দেশে বর্তমানে প্রায় ৮২ লাখ মানুষ (মোট জনসংখ্যার প্রায় ৪.৮৮ শতাংশ) মাদকাসক্ত।

মাদকাসক্তদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনে সরকারের নানামুখী পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ঢাকার তেজগাঁওয়ের নিরাময়কেন্দ্রসহ তিনটি বিভাগীয় শহরের কেন্দ্রের শয্যা সংখ্যা বৃদ্ধি করা হয়েছে। এছাড়া ঢাকাস্থ কেন্দ্রীয় মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রকে ২৫০ শয্যায় উন্নীতকরণের কাজ চলমান রয়েছে। একই সাথে দেশের ৭টি বিভাগীয় শহরে (চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল, রংপুর, সিলেট ও ময়মনসিংহ) ১ হাজার ৪১৩ কোটি টাকা ব্যয়ে ২০০ শয্যা বিশিষ্ট অত্যাধুনিক মাদকাসক্তি নিরাময় ও পুনর্বাসন কেন্দ্র নির্মাণের প্রকল্প শুরু হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, সরকারি সুবিধার পাশাপাশি বেসরকারি উদ্যোগকে গতিশীল করতে চলতি ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে দেশব্যাপী লাইসেন্সপ্রাপ্ত ৪০৩টি কেন্দ্রের মধ্যে নির্বাচিত ৭৩টি বেসরকারি মাদকাসক্তি নিরাময় ও পুনর্বাসন কেন্দ্রকে মোট ১ কোটি ১০ লাখ টাকা আর্থিক অনুদান প্রদান করা হচ্ছে।

এর আগে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকার নির্বাচিত ১৫টি বেসরকারি মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রের প্রতিনিধিদের হাতে অনুদানের চেক হস্তান্তর করেন।

এ সময় মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. হাসান মারুফসহ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, বেসরকারি মাদকাসক্তি নিরাময় ও পুনর্বাসন কেন্দ্রসমূহের প্রতিনিধিগণ উপস্থিত ছিলেন।

নিউজ বিজয় ২৪ডট কম/এফএইচএন
আপলোডকারির তথ্য

NewsBijoy24. Com

📰 নিউজবিজয়২৪.কম এমন একটি অনলাইন সংবাদপত্র, যার প্রতিটি শব্দে জড়িয়ে আছে সত্যের অঙ্গীকার ও মানবিকতার দায়বদ্ধতা। এই পত্রিকাটি উৎসর্গ করা হলো আমার পরম শ্রদ্ধেয় মা ও বাবার পবিত্র স্মৃতির উদ্দেশ্যে-যারা আজ এই পৃথিবীতে নেই, কিন্তু তাদের শিক্ষা, আদর্শ ও দোয়ার আলো আজও আমাদের পথ দেখায়। তাদের নিঃস্বার্থ ত্যাগ ও ভালোবাসার প্রেরণায় প্রতিষ্ঠিত এই সংবাদমাধ্যমের লক্ষ্য সত্য প্রকাশ, অন্যায়ের প্রতিবাদ এবং মানুষের পাশে নির্ভীকভাবে দাঁড়ানো। হে আল্লাহ, আমার মা-বাবাকে জান্নাতুল ফেরদৌসে উচ্চ মাকাম দান করুন। আমিন। NewsBijoy24.Com 📰 সত্যের পথে, বিশ্বাসের সাথে।
⚽ বিশ্বকাপ ফুটবল লাইভ স্কোর ২০২৬

ডোমারে স্বপ্নসারথি কিশোরীদের ১ম পর্বের সমাপনী অনুষ্ঠান

মাদক মামলার বিচারে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল হচ্ছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

আপডেট সময় ০৯:৫৪:১৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, মাদক নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তাদের অস্ত্র দেওয়ার পাশাপাশি মাদক মামলার বিচারে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হচ্ছে।

🔔 নিউজ বিজয়ের সর্বশেষ খবর পেতে টেলিগ্রাম চ্যানেল জয়েন করুন

বৃহস্পতিবার দুপুরে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে ‘মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচারবিরোধী আন্তর্জাতিক দিবস ২০২৬’ উপলক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিদ্যমান মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন সংশোধন ও আধুনিকায়নের কাজ চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে, যা আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই জাতীয় সংসদে উত্থাপন করা হবে।

তিনি বলেন, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের সক্ষমতা বাড়াতে অধিদপ্তরে অত্যাধুনিক অস্ত্র, ল্যাবরেটরি, পর্যাপ্ত ট্রান্সপোর্টেশন ও ডগ স্কোয়াড যুক্ত করা হচ্ছে। এছাড়া আসামিদের থানায় সোপর্দ করার মধ্যবর্তী সময়ের জন্য আধুনিক হাজতখানা নির্মাণ করা হবে।

মন্ত্রী বলেন, অপরাধীরা এখন প্রযুক্তির সহায়তায় অনলাইন ও অর্থ পাচারের মাধ্যমে মাদক ব্যবসা পরিচালনা করছে। তাই কেবল বিদ্যমান আইনি ভিত্তি দিয়ে এই অপরাধ দমন সম্ভব নয়। অপরাধীদের কঠোর শাস্তি এবং সমাজ পরিবর্তনের জন্য একটি অভেদ্য আইনি দেয়াল গড়ে তোলা হচ্ছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, মামলা জটের কারণে আসামিরা যেন পার পেয়ে না যায়, সে লক্ষ্যে মাদক সংক্রান্ত অপরাধের দ্রুত বিচারের জন্য আলাদা ‘বিশেষ ট্রাইব্যুনাল’ ও এখতিয়ার সম্পন্ন আদালত গঠনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, মাদকের পাশাপাশি অনলাইন জুয়া রোধে সম্প্রতি একটি আধুনিক আইন উত্থাপন করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে সাইবার অপরাধ দমন এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর আধুনিকায়ন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে আইনি সংস্কার আনা হচ্ছে।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত এক জাতীয় গবেষণার তথ্য উল্লেখ করে মন্ত্রী জানান, দেশে বর্তমানে প্রায় ৮২ লাখ মানুষ (মোট জনসংখ্যার প্রায় ৪.৮৮ শতাংশ) মাদকাসক্ত।

মাদকাসক্তদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনে সরকারের নানামুখী পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ঢাকার তেজগাঁওয়ের নিরাময়কেন্দ্রসহ তিনটি বিভাগীয় শহরের কেন্দ্রের শয্যা সংখ্যা বৃদ্ধি করা হয়েছে। এছাড়া ঢাকাস্থ কেন্দ্রীয় মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রকে ২৫০ শয্যায় উন্নীতকরণের কাজ চলমান রয়েছে। একই সাথে দেশের ৭টি বিভাগীয় শহরে (চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল, রংপুর, সিলেট ও ময়মনসিংহ) ১ হাজার ৪১৩ কোটি টাকা ব্যয়ে ২০০ শয্যা বিশিষ্ট অত্যাধুনিক মাদকাসক্তি নিরাময় ও পুনর্বাসন কেন্দ্র নির্মাণের প্রকল্প শুরু হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, সরকারি সুবিধার পাশাপাশি বেসরকারি উদ্যোগকে গতিশীল করতে চলতি ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে দেশব্যাপী লাইসেন্সপ্রাপ্ত ৪০৩টি কেন্দ্রের মধ্যে নির্বাচিত ৭৩টি বেসরকারি মাদকাসক্তি নিরাময় ও পুনর্বাসন কেন্দ্রকে মোট ১ কোটি ১০ লাখ টাকা আর্থিক অনুদান প্রদান করা হচ্ছে।

এর আগে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকার নির্বাচিত ১৫টি বেসরকারি মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রের প্রতিনিধিদের হাতে অনুদানের চেক হস্তান্তর করেন।

এ সময় মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. হাসান মারুফসহ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, বেসরকারি মাদকাসক্তি নিরাময় ও পুনর্বাসন কেন্দ্রসমূহের প্রতিনিধিগণ উপস্থিত ছিলেন।