ঢাকা ১২:৩৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬, ২৫ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং

🌤️ বাংলাদেশের বিভাগসমূহের লাইভ আবহাওয়া

শিক্ষাক্রমে আমূল পরিবর্তন নয়, সংশোধন হচ্ছে বিদ্যমান কাঠামো

প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষাব্যবস্থায় নতুন শিক্ষাক্রম আসছে না। সরকারের বিভিন্ন মহল থেকে বিভিন্ন সময়ে নতুন শিক্ষাক্রম চালুর বিষয়ে আভাস দেওয়া হলেও, শেষ পর্যন্ত বিদ্যমান কারিকুলামের আলোকেই ছাত্রছাত্রীদের পাঠদান প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে নতুন কারিকুলাম না এলেও, বর্তমান কারিকুলামে বড় ধরনের পরিমার্জন ও সংস্কার আনা হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, শিক্ষার্থীদের আধুনিক, আদর্শ ও দক্ষ জনগোষ্ঠী হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে বর্তমান পাঠ্যবইগুলোতে ব্যাপক পরিবর্তন আনা হবে। এর অংশ হিসেবে প্রয়োজনীয় ও সময়োপযোগী নতুন পাঠ সংযোজন করা হবে। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের ওপর থেকে পড়াশোনার অতিরিক্ত মানসিক চাপ কমাতে শিক্ষাকে আরও সহজ ও আনন্দদায়ক করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

পরিমার্জিত পরিকল্পনা অনুযায়ী, চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থীরা ‘ক্রীড়া’ ও ‘সংস্কৃতি’ নামে দুটি নতুন বিষয়ের বই পাবে। অন্যদিকে, মাধ্যমিক স্তরের ষষ্ঠ শ্রেণিতে যুক্ত হচ্ছে দুটি পৃথক বিষয়—‘কারিগরি শিক্ষা’ এবং ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ বা ‘আনন্দময় শিক্ষা’। শিক্ষার্থীদের পড়াশোনাকে আরও আনন্দদায়ক ও বাস্তবমুখী করতেই এই উদ্যোগ।

শিক্ষার্থীদের বাংলা ও ইংরেজির পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে টিকে থাকার জন্য যেকোনো একটি ‘তৃতীয় ভাষা’ শিক্ষাদানের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন ভাষাভাষীর সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিতে এবং বহির্বিশ্বে কর্মক্ষেত্রের সুবিধার্থে সরকার এই ভাষা দক্ষতার সুযোগ সৃষ্টি করছে।

২০২৭ শিক্ষাবর্ষেও শিক্ষার্থীরা ২০১২ খ্রিষ্টাব্দের পুরোনো কারিকুলাম অনুযায়ীই পাঠ্যবই পাচ্ছে। তবে ২০২৮ খ্রিষ্টাব্দ থেকে বড় পরিসরে পরিমার্জিত নতুন বই দেওয়া হবে। এই লক্ষ্যে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) বই পরিমার্জনের কাজ এখন পুরোদমে চলছে।

জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) সূত্রের বরাতে জানা গেছে, বর্তমান কারিকুলাম পরিমার্জনের একটি বড় ধরনের কর্মযজ্ঞ চলছে। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে শিক্ষা সংশ্লিষ্ট অংশীজন ও বিশেষজ্ঞদের নিয়ে পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন কর্মশালার আয়োজন করা হচ্ছে। নতুন এই পরিমার্জন প্রক্রিয়ায় বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারের ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ দর্শন এবং ‘শিক্ষা সংস্কারের ৩১ দফা’ বিশেষভাবে গুরুত্ব পাচ্ছে বলে সূত্রটি নিশ্চিত করেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রটি আরও জানিয়েছে, একটি নতুন কারিকুলাম পুরোপুরি চালু করার জন্য পর্যাপ্ত সময় ও ব্যাপক গবেষণার প্রয়োজন। হুট করে শিক্ষার্থীদের ওপর নতুন কারিকুলাম চাপিয়ে দেওয়া হলে তারা মারাত্মক সমস্যায় পড়তে পারে। এমনকি হুট করে এক কারিকুলাম থেকে অন্য কারিকুলামে স্থানান্তরের ফলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে বড় ধরনের শিখন শূন্যতা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

নতুন কোনো শিক্ষাক্রম চালু করা হচ্ছে না, বরং বর্তমান কারিকুলামকেই বড় পরিসরে পরিমার্জন ও ঢেলে সাজানো হচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন। তিনি উল্লেখ করেন, শিক্ষার্থীদের শুধু সার্টিফিকেটনির্ভর ও একাডেমিক পড়াশোনার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে, তাদের সামনে পুরো বিশ্বকে উন্মোচিত করাই মূল লক্ষ্য। বাজেট প্রসঙ্গে ড. মাহদী আমিন বলেন, শিক্ষা খাতের বড় বরাদ্দ যেন কোনো উৎসব বা আনুষ্ঠানিকতায় অপচয় না হয়ে যথাযথ ও কার্যকর জায়গায় বিনিয়োগ করা হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে।

প্রসঙ্গত, ২০২৩ খ্রিষ্টাব্দে নতুন জাতীয় শিক্ষা কারিকুলাম বাস্তবায়ন করে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকার। এই কারিকুলাম নিয়ে সমালোচনা হলেও ২০২৪ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের পাঠদান করা হয়। কিন্তু ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনার ক্ষমতাচ্যুতির পর ২০১২ খ্রিষ্টাব্দের পুরোনো কারিকুলাম ফিরিয়ে আনা হয়। বর্তমান সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর আগামী ২০২৮ খ্রিষ্টাব্দে শিক্ষাব্যবস্থায় নতুন কারিকুলাম চালুর কথা জানিয়েছিল।

নিউজ বিজয় ২৪ডট কম/এফএইচএন
আপলোডকারির তথ্য

NewsBijoy24. Com

📰 নিউজবিজয়২৪.কম এমন একটি অনলাইন সংবাদপত্র, যার প্রতিটি শব্দে জড়িয়ে আছে সত্যের অঙ্গীকার ও মানবিকতার দায়বদ্ধতা। এই পত্রিকাটি উৎসর্গ করা হলো আমার পরম শ্রদ্ধেয় মা ও বাবার পবিত্র স্মৃতির উদ্দেশ্যে-যারা আজ এই পৃথিবীতে নেই, কিন্তু তাদের শিক্ষা, আদর্শ ও দোয়ার আলো আজও আমাদের পথ দেখায়। তাদের নিঃস্বার্থ ত্যাগ ও ভালোবাসার প্রেরণায় প্রতিষ্ঠিত এই সংবাদমাধ্যমের লক্ষ্য সত্য প্রকাশ, অন্যায়ের প্রতিবাদ এবং মানুষের পাশে নির্ভীকভাবে দাঁড়ানো। হে আল্লাহ, আমার মা-বাবাকে জান্নাতুল ফেরদৌসে উচ্চ মাকাম দান করুন। আমিন। NewsBijoy24.Com 📰 সত্যের পথে, বিশ্বাসের সাথে।
জনপ্রিয় সংবাদ
⚽ বিশ্বকাপ ফুটবল লাইভ স্কোর ২০২৬

ঘরে ঘরে ব্রাজিল-আর্জেন্টিনার যুদ্ধ চলমান: সংসদে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী

শিক্ষাক্রমে আমূল পরিবর্তন নয়, সংশোধন হচ্ছে বিদ্যমান কাঠামো

আপডেট সময় ১২:৩০:৩৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই ২০২৬

প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষাব্যবস্থায় নতুন শিক্ষাক্রম আসছে না। সরকারের বিভিন্ন মহল থেকে বিভিন্ন সময়ে নতুন শিক্ষাক্রম চালুর বিষয়ে আভাস দেওয়া হলেও, শেষ পর্যন্ত বিদ্যমান কারিকুলামের আলোকেই ছাত্রছাত্রীদের পাঠদান প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে নতুন কারিকুলাম না এলেও, বর্তমান কারিকুলামে বড় ধরনের পরিমার্জন ও সংস্কার আনা হচ্ছে।

🔔 নিউজ বিজয়ের সর্বশেষ খবর পেতে টেলিগ্রাম চ্যানেল জয়েন করুন

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, শিক্ষার্থীদের আধুনিক, আদর্শ ও দক্ষ জনগোষ্ঠী হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে বর্তমান পাঠ্যবইগুলোতে ব্যাপক পরিবর্তন আনা হবে। এর অংশ হিসেবে প্রয়োজনীয় ও সময়োপযোগী নতুন পাঠ সংযোজন করা হবে। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের ওপর থেকে পড়াশোনার অতিরিক্ত মানসিক চাপ কমাতে শিক্ষাকে আরও সহজ ও আনন্দদায়ক করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

পরিমার্জিত পরিকল্পনা অনুযায়ী, চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থীরা ‘ক্রীড়া’ ও ‘সংস্কৃতি’ নামে দুটি নতুন বিষয়ের বই পাবে। অন্যদিকে, মাধ্যমিক স্তরের ষষ্ঠ শ্রেণিতে যুক্ত হচ্ছে দুটি পৃথক বিষয়—‘কারিগরি শিক্ষা’ এবং ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ বা ‘আনন্দময় শিক্ষা’। শিক্ষার্থীদের পড়াশোনাকে আরও আনন্দদায়ক ও বাস্তবমুখী করতেই এই উদ্যোগ।

শিক্ষার্থীদের বাংলা ও ইংরেজির পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে টিকে থাকার জন্য যেকোনো একটি ‘তৃতীয় ভাষা’ শিক্ষাদানের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন ভাষাভাষীর সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিতে এবং বহির্বিশ্বে কর্মক্ষেত্রের সুবিধার্থে সরকার এই ভাষা দক্ষতার সুযোগ সৃষ্টি করছে।

২০২৭ শিক্ষাবর্ষেও শিক্ষার্থীরা ২০১২ খ্রিষ্টাব্দের পুরোনো কারিকুলাম অনুযায়ীই পাঠ্যবই পাচ্ছে। তবে ২০২৮ খ্রিষ্টাব্দ থেকে বড় পরিসরে পরিমার্জিত নতুন বই দেওয়া হবে। এই লক্ষ্যে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) বই পরিমার্জনের কাজ এখন পুরোদমে চলছে।

জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) সূত্রের বরাতে জানা গেছে, বর্তমান কারিকুলাম পরিমার্জনের একটি বড় ধরনের কর্মযজ্ঞ চলছে। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে শিক্ষা সংশ্লিষ্ট অংশীজন ও বিশেষজ্ঞদের নিয়ে পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন কর্মশালার আয়োজন করা হচ্ছে। নতুন এই পরিমার্জন প্রক্রিয়ায় বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারের ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ দর্শন এবং ‘শিক্ষা সংস্কারের ৩১ দফা’ বিশেষভাবে গুরুত্ব পাচ্ছে বলে সূত্রটি নিশ্চিত করেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রটি আরও জানিয়েছে, একটি নতুন কারিকুলাম পুরোপুরি চালু করার জন্য পর্যাপ্ত সময় ও ব্যাপক গবেষণার প্রয়োজন। হুট করে শিক্ষার্থীদের ওপর নতুন কারিকুলাম চাপিয়ে দেওয়া হলে তারা মারাত্মক সমস্যায় পড়তে পারে। এমনকি হুট করে এক কারিকুলাম থেকে অন্য কারিকুলামে স্থানান্তরের ফলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে বড় ধরনের শিখন শূন্যতা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

নতুন কোনো শিক্ষাক্রম চালু করা হচ্ছে না, বরং বর্তমান কারিকুলামকেই বড় পরিসরে পরিমার্জন ও ঢেলে সাজানো হচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন। তিনি উল্লেখ করেন, শিক্ষার্থীদের শুধু সার্টিফিকেটনির্ভর ও একাডেমিক পড়াশোনার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে, তাদের সামনে পুরো বিশ্বকে উন্মোচিত করাই মূল লক্ষ্য। বাজেট প্রসঙ্গে ড. মাহদী আমিন বলেন, শিক্ষা খাতের বড় বরাদ্দ যেন কোনো উৎসব বা আনুষ্ঠানিকতায় অপচয় না হয়ে যথাযথ ও কার্যকর জায়গায় বিনিয়োগ করা হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে।

প্রসঙ্গত, ২০২৩ খ্রিষ্টাব্দে নতুন জাতীয় শিক্ষা কারিকুলাম বাস্তবায়ন করে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকার। এই কারিকুলাম নিয়ে সমালোচনা হলেও ২০২৪ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের পাঠদান করা হয়। কিন্তু ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনার ক্ষমতাচ্যুতির পর ২০১২ খ্রিষ্টাব্দের পুরোনো কারিকুলাম ফিরিয়ে আনা হয়। বর্তমান সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর আগামী ২০২৮ খ্রিষ্টাব্দে শিক্ষাব্যবস্থায় নতুন কারিকুলাম চালুর কথা জানিয়েছিল।