লালমনিরহাটের আদিতমারীতে বিয়ের দাবিতে তিন দিন ধরে প্রেমিকের বাড়িতে অনশনে বসেছেন প্রবাসীর স্ত্রী আন্নী বেগম নামের দুই সন্তানের এক জননী। প্রেমের সম্পর্ক মেনে নিয়ে বিয়ের দাবি না মানা পর্যন্ত প্রেমিক রাহুল হাসানের বাড়িতে অনশন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। রাহুল নিজে এক সন্তানের জনক ও পেশায় একজন ট্রাক্টর চালক। অনশনরত নারী মাদারীপুর জেলার ডাসার উপজেলার বাঘরিয়া এলাকার আব্দুল গফুরের মেয়ে এবং এক সৌদিপ্রবাসীর স্ত্রী।
সোমবার (১২ অক্টোবর) লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার ভেলাবাড়ী ইউনিয়নের চেয়ারম্যানটারী ভোটগড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে আশপাশের এলাকায় ব্যাপক কৌতূহলের সৃষ্টি হয় এবং অনশনরত নারীকে দেখতে স্থানীয় লোকজনের ভিড় জমে।
অভিযুক্ত রাহুল ভেলাবাড়ী ইউনিয়নের মৃত গোলাপ হোসেনের ছেলে। পরকীয়া প্রেমিকা বাড়িতে অনশনে বসার পর থেকেই তিনি আত্মগোপনে রয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ফেসবুকের মাধ্যমে লালমনিরহাটের রাহুলের সঙ্গে মাদারীপুরের আন্নী বেগমের পরিচয় হয়। একপর্যায়ে তাঁদের মধ্যে পরকীয়া প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। দুজনই বিবাহিত এবং তাঁদের নিজ নিজ পরিবার ও সন্তান রয়েছে। নারীটির স্বামী প্রবাসে থাকার সুযোগে স্ত্রীর অগোচরে রাহুল প্রায় দুই বছর ধরে তাঁর সঙ্গে গোপন সম্পর্ক চালিয়ে যান।
অনশনরত নারীর দাবি, বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে রাহুল তাঁর সঙ্গে শারীরিক ও মানসিক সম্পর্ক গড়ে তোলেন এবং বিভিন্ন স্থানে ঘুরে বেড়ান। এ ছাড়া প্রবাসী স্বামীর পাঠানো টাকাও রাহুলের হাতে তুলে দিয়েছেন তিনি। সম্প্রতি রাহুলের স্ত্রী বিষয়টি জেনে ফেললে রাহুল যোগাযোগ কমিয়ে দেন এবং বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানান।
কোনো উপায় না পেয়ে শনিবার (১০ অক্টোবর) সকালে মাদারীপুর থেকে সুদূর লালমনিরহাটে প্রেমিক রাহুলের বাড়িতে এসে অবস্থান নেন ওই নারী। তাঁর উপস্থিতি টের পেয়ে রাহুল বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যান। এরপর থেকে ওই নারী বিয়ের দাবিতে রাহুলের বাড়িতেই অনশন শুরু করেন।
পরদিন রোববার স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান, সদস্য ও মাতব্বরদের উপস্থিতিতে কয়েক ঘণ্টা ধরে আপস-মীমাংসার চেষ্টা চালানো হয়। সমাধান না হওয়ায় একপর্যায়ে মুচলেকা নিয়ে প্রেমিক রাহুলকে অনশনরত নারীর বড় বোন ও ভগ্নিপতির জিম্মায় তুলে দেওয়া হয়। সেখান থেকে তাঁরা মাইক্রোবাসযোগে মাদারীপুর যাওয়ার পথে রংপুরে গাড়ি থামিয়ে রাহুল পালিয়ে যান। অনশনরত নারীও গাড়ি থেকে নেমে পুনরায় আদিতমারীতে রাহুলের বাড়িতে ফিরে এসে অনশন শুরু করেন।
অনশনরত নারী আন্নী বেগম বলেন, “আমাকে বিয়ের মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে ও আমার সংসার ও জীবন ধ্বংস করেছে সে। বিয়ের প্রলোভনে একাধিকবার আমাদের মধ্যে শারীরিক সম্পর্ক হয়েছে। এমনকি আমার স্বামীর পাঠানো টাকার লোভে সে অনেক মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এ সম্পর্কের কথা জেনে যাওয়ায় আমার স্বামী আমাকে আর মেনে নেবেন না। রাহুল আমাকে বিয়ে না করলে আমার আর যাওয়ার জায়গা নেই। আমাকে স্ত্রীর মর্যাদা না দিলে এই বাড়িতেই আমি প্রাণ বিসর্জন দেব।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, রাহুলের পরিবারের লোকজন রাতে তাঁকে নানাভাবে নির্যাতন করেছেন।
এ বিষয়ে রাহুলের বক্তব্য জানার জন্য একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি আত্মগোপনে থাকায় কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
ভেলাবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলী ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, রাহুল বাড়িতে না থাকায় ওই নারীকে স্থানীয় মেম্বার ও চৌকিদারের মাধ্যমে থানায় পাঠানো হয়েছে।
আদিতমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুস সজীব সাকিব জানান, এ সংক্রান্ত একটি ঘটনা তিনি শুনেছেন। তবে এখন পর্যন্ত কেউ লিখিত অভিযোগ দেননি। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
রেজাউল করিম রাজ্জাক, বিশেষ প্রতিনিধি ;- 






























