লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার তালুক দুলালী রাজকাছারী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবন ঝুঁকিপুর্ন হওয়ায় কোমলমতি শিক্ষার্থীদের পাঠদান চলছে মন্দিরের বারান্দায়।
সেই বিদ্যালয়ের নানা সমস্যা নিয়ে বিভিন্ন পত্রিকা ও অনলাইনে একটি সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে লালমনিরহাট আদিতমারী-কালিগঞ্জ আসনের সংসদ সদস্য রোকন উদ্দিন বাবুলের দৃষ্টিগোচর হয়। পরে তিনি তার প্রতিনিধি ও বিএনপির নেতৃবৃন্দ শনিবার (১১ জুলাই) বিকেলে বিদ্যালয়টি সরেজমিনে তদন্ত করে সত্যতা প্রমান পায় এবং সংসদ সদস্যর নিজস্ব অর্থায়নে ঐ বিদ্যালয়টিতে আপাদত ছাত্র-ছাত্রীদের পাঠদান যাতে ব্যহত না হয় তার জন্য নতুন করে একটি টিনের ঘর তৈরি করে দিচ্ছেন এবং এর কাজ দু-একদিনের মধ্যে শুরু হবে বলে সংসদ সদস্যর প্রতিনিধি জানান।
ভেলাবাড়ী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি গোলাম কিবরিয়া রিপন নিউজ বিজয়ের প্রতিনিধিকে বলেন, বিদ্যালয়টির ভবনটি দুই বছরের আগে ঝুঁকিপুর্ন ঘোষনা করা হলেও নতুন ভবন নির্মান করার উদ্দোগ কেহ নেন নি। যার ফলে অনেকদিন থেকে কোমলমতী শিশুরা মন্দিরে ক্লাশ করছে। এ সংক্রান্ত একটি সংবাদ প্রকাশ হলে সংসদ সদস্য আমাকে অবগত করলে আমি যোগাযোগ করে সংসদ সদস্যর নিজস্ব অর্থায়নে বিদ্যালয়ে একটি নতুন করে টিনের ঘর তৈরি করে দিবে সে কথা কর্তৃপক্ষের নিকট ঘোষনা করেন।
এ সময় সংসদ সদস্যর ব্যক্তিগত সহকারী আহমেদ কবীর আদনান,ভেলাবাড়ী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি গোলাম কিবরিয়া রিপন,পলাশী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি হামিদুর রহমান,উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব হাসানুল হক বান্না,কালিগঞ্জ উপজেলা যুবদলের আহবায়ক কমিটির সদস্য হাসানুজ্জামান জুয়েল,আদিতমারী যুগ্ন আহবায়ক আবু বক্কর সিদ্দিক,নুরুন্নবী,আব্দুস সোবহান, বিদ্যালয়ে শিক্ষক ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, আদিতমারী উপজেলার ভারতীয় সীমান্ত ঘেঁসা এলাকা তালুক দুলালী গ্রামে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিতে ১৯৭৮ সালে তালুক দুলালী রাজকাছারী প্রাথমিক বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করেন স্থানীয় লোকজন। কালক্রমে শিক্ষার্থীদের পাঠদানের জন্য সরকারী ভাবে দুইটি ভবন নির্মাণ করে সরকার। গত ২০১৩ সালে বিদ্যালয়টি জাতীয়করনও করা হয়। শিক্ষার্থীর সংখ্যার দিক থেকে উপজেলায় তৃতীয় পর্যায়ে অবস্থান করে নিয়েছে বিদ্যালয়টি। অঁঝোপাড়া গায়ের এ বিদ্যালয়টিতে বর্তমানে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ২৫৩ জন। দুই শিফটে বিদ্যালয়টিতে পাঠদান করেন ৬জন শিক্ষক।
বিদ্যালয়টির দুইটি ভবনের একটি গত দুই বছর আগে উপজেলা প্রকৌশল দপ্তর সরেজমিনে তদন্ত করে ঝুঁকিপুর্ন ঘোষনা করে। সেই থেকে ভবনটি পড়ে রয়েছে। অপর ভবনটির ৩টি রুমের একটি অফিস কক্ষ, বাকী দুটিতে পাঠদান চলে। দুই শিফটের এ বিদ্যালয়ে পাঠদানে নুন্যতম ৩টি শ্রেণি কক্ষ প্রয়োজন। অথচ এখানে রয়েছে মাত্র দুইটি। যার কারনে বাধ্য হয়ে পাশের মন্দিরের বারান্দায় চলছে পাঠদান। বারান্দার মেঝেতে বসে প্রথম শিফটে ক্লাশ করে প্রাক প্রাথমিক ও দ্বিতীয় শিফটে তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থীরা। খোলা মেলা পরিবেশে পাঠদান করায় কোমলমতি শিক্ষার্থীদের পাঠে মনোনিবেশ করাতে পারছেন না শিক্ষকরা। ফলে বিঘ্ন ঘটছে শিক্ষার পরিবেশ।
তালুক দুলালী রাজকাছারী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল মান্নান বলেন, বিদ্যালয়ের একটি ভবন ঝুঁকিপুর্ন, মন্দিরে ছাত্র-ছাত্রীরা পাঠদান শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করতে আপাদত একটি টিনের ঘর নির্মান করে দিতে সংসদ সদস্যর প্রতি কৃতজ্ঞা জ্ঞাপন করেন পাশাপাশি দ্রুত বিদ্যালয়টিতে যাতে একটি নতুন ভবন নির্মাণ করে দেওয়ার আহবান জানান।
রেজাউল করিম রাজ্জাক, বিশেষ প্রতিনিধি ;- 



























