ঢাকা ১১:৫৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং
হোম

🌤️ বাংলাদেশের বিভাগসমূহের লাইভ আবহাওয়া

উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তার ভুমিকা নিয়ে প্রশ্ন

রৌমারীতে মাদক মামলার আসামি হয়েও সরকারি চাকরিতে বহাল, স্বাস্থ্য কর্মকর্তার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

উপজেলা স্বাস্থ্য ও প.প কর্মকর্তার যোগসাজসে মাদক মামলার আসামী হয়েও চর বোয়ালমারী কমিউনিটি ক্লিনিক এর দায়িত্বপ্রাপ্ত কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার (সিএইচসিপি) আবু মোহায়েম খান চাকুরিতে বহাল রয়েছেন। মাদক মামলায় দু’দফা জেল খাটার পরেও উপজেলা স্বাস্থ্য ও প.প কর্মকর্তা তার বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা না নেওয়ায় নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। এনিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা সমালোচনার ঝড় উঠেছে।
মামলা ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চাকুরির আড়ালে আবু মোহায়েম খান দীর্ঘদিন থেকে মাদক বিক্রি ও সেবন করে আসছিলেন। ২৭ মার্চ ২০২৪ সালে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রৌমারী থানার পুলিশ অভিযান চালিয়ে নিজ এলাকা থেকে মাদক সহ তাকে আটক করেন। এ ঘটনায় পুলিশ বাদি হয়ে রৌমারী থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। যার মামলা নং ৪০/৫৯, তারিখ, ২৭ মার্চ ২০২৪ ইং। পরে ১৯৯০ সালের মাদক নিয়ন্ত্রণ আইনে এ মামলাটি রুজু করে কুড়িগ্রাম জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়। এই মামলায় জামিনে মুক্ত হওয়া ওই কর্মচারী সকল নিয়ম ভঙ্গ করে নিয়মিত অফিস করছেন অনায়াসে।
রৌমারী থানার একটি মামলার সূত্র জানা গেছে, ২৭ মার্চ ২৪ সালে উপজেলার শৌলমারী ইউনিয়নের গয়টাপাড়া নিজ এলাকায় মাদকদ্রব্যসহ পুলিশের হাতে আটক হন আবু মোহায়েম খান (৩৮)। তার কাছ থেকে ১২ পিচ ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করেন পুলিশ। এ ঘটনায় পুলিশ বাদি হয়ে রৌমারী থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলা নং ৪০/৫৯, তারিখ, ২৭ মার্চ। মামলাটি তদন্ত করেন রৌমারী থানার সাবেক এসআই আনসার আলী। পুলিশের এক কর্মকর্তা বলেন, দীর্ঘ তদন্তে নিশ্চিত হওয়া গেছে, আবু মোহায়েম খান একজন চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী। সরকারি কর্মচারী হয়েও সে চাকরির আড়ালে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় মাদক সাপ্লাই দেয়। মাদক বিক্রির জন্য একটি সিন্ডিকেটও রয়েছে তার। আবু মোহায়েম খানের প্যান্টের পকেট থেকেই মাদকদ্রব্য উদ্ধার হয়েছে। এ মামলায় আসামির বিরুদ্ধে চার্জশিট দেয়া হয়েছে। এদিকে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মাদক মামলায় আটক হয়ে কিছুদিন জেল খাটেন আবু মোহায়েম খান। এর পর জামিনে মুক্ত হন। মামলাটি চলমান থাকাবস্থায় নিয়মিত অফিস করছেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় এক বাসিন্দার দাবি ওই এলাকার কমিউনিটি ক্লিনিকের ভিতরেই মাদক সেবন করেন এবং বিক্রিও করেন।
এর আগে ২০১৯ সালে আবু মোহায়েম খান ইয়াবাসহ পুলিশের হাতে আটক হয়। মামলা চলমান অবস্থায় সাবেক উপজেলা স্বাস্থ্য ও প.প কর্মকর্তা উদ্ধর্তন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে তাকে সাময়িক ভাবে বরখাস্ত করেন। কিছু দিন জেল খাটার পর সে জামিনে ও পরে নি:শর্ত মুক্তি পায়। আবু মোহায়েম খান ৫ বছর পর আবারো ইয়াবা বিক্রি ও সেবনের সময়ে খবর পেয়ে পুলিশ অভিযান চালিয়ে তাকে হাতে-নাতে আটক করেন।
সরকারি চাকরিজীবরি বিরুদ্ধে মামলা ও জেলখাটা প্রসঙ্গে সুপ্রিম কোর্টের বিশিষ্ট আইনজীবী মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তাক দৈনিক জবাবদিহিকে বলেন, প্রজাতন্ত্রের কোনো সরকারি কর্মচারী ফৌজদারি অপরাধের মামলায় আটক হলে রায়ে খালাসপ্রাপ্ত না হওয়া পর্যন্ত তিনি চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত থাকবেন। এটাই সরকারি চাকরির বিধান। কিন্তু ফৌজদারি মামলায় আটক হওয়ার পরও মামলা নিষ্পত্তির আগ পর্যন্ত তিনি কিভাবে চাকুরিতে বহাল থাকেন তা বোধগম্য নয়। তবে ধারণা করা হচ্ছে, তার ঊর্ধ্বতনদের তিনি বিশেষ কারণ দেখিয়ে অফিসে অনুপস্থির কথা উল্লেখ করেন। অথবা অন্যকোন ভাবে তিনি তার ঊর্ধ্বতনদের ম্যানেজ করেছেন। এনিয়ে গত ২৮ অক্টোবর উপজেলা আইনশৃঙ্খলা সভায় বিস্তর আলোচনা হয়।
এবিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা স্বাস্থ্য ও প.প কর্মকর্তা ডা.আব্দুস সামাদ বলেন, এ ব্যাপারে তাকে কারণ দর্শনো নোটিশ দেওয়া হয়েছে।
রৌমারী থানার অফিসার ইনচার্জ কাওসার আলী বলেন, মাদক সহ মোহায়েম খান নামের একজন আটক হয়েছিল এবং তাকে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়। মামলা চলমান রয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাহবুবুল হাসান জানান, বিষয়টি আমার জানা নেই, তবে খোজ খবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কুড়িগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন এর ব্যবহৃত ফোন নম্বরে কল করলেও তিনি রিসিভ করেননি।

মাজহারুল ইসলাম
০১৭১৮১০৫০৭৫

 

নিউজ বিজয় ২৪ডট কম/এফএইচএন
আপলোডকারির তথ্য

NewsBijoy24. Com

📰 নিউজবিজয়২৪.কম এমন একটি অনলাইন সংবাদপত্র, যার প্রতিটি শব্দে জড়িয়ে আছে সত্যের অঙ্গীকার ও মানবিকতার দায়বদ্ধতা। এই পত্রিকাটি উৎসর্গ করা হলো আমার পরম শ্রদ্ধেয় মা ও বাবার পবিত্র স্মৃতির উদ্দেশ্যে-যারা আজ এই পৃথিবীতে নেই, কিন্তু তাদের শিক্ষা, আদর্শ ও দোয়ার আলো আজও আমাদের পথ দেখায়। তাদের নিঃস্বার্থ ত্যাগ ও ভালোবাসার প্রেরণায় প্রতিষ্ঠিত এই সংবাদমাধ্যমের লক্ষ্য সত্য প্রকাশ, অন্যায়ের প্রতিবাদ এবং মানুষের পাশে নির্ভীকভাবে দাঁড়ানো। হে আল্লাহ, আমার মা-বাবাকে জান্নাতুল ফেরদৌসে উচ্চ মাকাম দান করুন। আমিন। NewsBijoy24.Com 📰 সত্যের পথে, বিশ্বাসের সাথে।
জনপ্রিয় সংবাদ
⚽ আজকের সেরা ম্যাচগুলো ও লাইভ স্কোর

‘জনগণের কাছে একটা কার্ড আছে, সেটি হলো লাল কার্ড’

উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তার ভুমিকা নিয়ে প্রশ্ন

রৌমারীতে মাদক মামলার আসামি হয়েও সরকারি চাকরিতে বহাল, স্বাস্থ্য কর্মকর্তার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

আপডেট সময় ১০:৪৩:৪০ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬

উপজেলা স্বাস্থ্য ও প.প কর্মকর্তার যোগসাজসে মাদক মামলার আসামী হয়েও চর বোয়ালমারী কমিউনিটি ক্লিনিক এর দায়িত্বপ্রাপ্ত কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার (সিএইচসিপি) আবু মোহায়েম খান চাকুরিতে বহাল রয়েছেন। মাদক মামলায় দু’দফা জেল খাটার পরেও উপজেলা স্বাস্থ্য ও প.প কর্মকর্তা তার বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা না নেওয়ায় নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। এনিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা সমালোচনার ঝড় উঠেছে।
মামলা ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চাকুরির আড়ালে আবু মোহায়েম খান দীর্ঘদিন থেকে মাদক বিক্রি ও সেবন করে আসছিলেন। ২৭ মার্চ ২০২৪ সালে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রৌমারী থানার পুলিশ অভিযান চালিয়ে নিজ এলাকা থেকে মাদক সহ তাকে আটক করেন। এ ঘটনায় পুলিশ বাদি হয়ে রৌমারী থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। যার মামলা নং ৪০/৫৯, তারিখ, ২৭ মার্চ ২০২৪ ইং। পরে ১৯৯০ সালের মাদক নিয়ন্ত্রণ আইনে এ মামলাটি রুজু করে কুড়িগ্রাম জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়। এই মামলায় জামিনে মুক্ত হওয়া ওই কর্মচারী সকল নিয়ম ভঙ্গ করে নিয়মিত অফিস করছেন অনায়াসে।
রৌমারী থানার একটি মামলার সূত্র জানা গেছে, ২৭ মার্চ ২৪ সালে উপজেলার শৌলমারী ইউনিয়নের গয়টাপাড়া নিজ এলাকায় মাদকদ্রব্যসহ পুলিশের হাতে আটক হন আবু মোহায়েম খান (৩৮)। তার কাছ থেকে ১২ পিচ ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করেন পুলিশ। এ ঘটনায় পুলিশ বাদি হয়ে রৌমারী থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলা নং ৪০/৫৯, তারিখ, ২৭ মার্চ। মামলাটি তদন্ত করেন রৌমারী থানার সাবেক এসআই আনসার আলী। পুলিশের এক কর্মকর্তা বলেন, দীর্ঘ তদন্তে নিশ্চিত হওয়া গেছে, আবু মোহায়েম খান একজন চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী। সরকারি কর্মচারী হয়েও সে চাকরির আড়ালে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় মাদক সাপ্লাই দেয়। মাদক বিক্রির জন্য একটি সিন্ডিকেটও রয়েছে তার। আবু মোহায়েম খানের প্যান্টের পকেট থেকেই মাদকদ্রব্য উদ্ধার হয়েছে। এ মামলায় আসামির বিরুদ্ধে চার্জশিট দেয়া হয়েছে। এদিকে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মাদক মামলায় আটক হয়ে কিছুদিন জেল খাটেন আবু মোহায়েম খান। এর পর জামিনে মুক্ত হন। মামলাটি চলমান থাকাবস্থায় নিয়মিত অফিস করছেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় এক বাসিন্দার দাবি ওই এলাকার কমিউনিটি ক্লিনিকের ভিতরেই মাদক সেবন করেন এবং বিক্রিও করেন।
এর আগে ২০১৯ সালে আবু মোহায়েম খান ইয়াবাসহ পুলিশের হাতে আটক হয়। মামলা চলমান অবস্থায় সাবেক উপজেলা স্বাস্থ্য ও প.প কর্মকর্তা উদ্ধর্তন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে তাকে সাময়িক ভাবে বরখাস্ত করেন। কিছু দিন জেল খাটার পর সে জামিনে ও পরে নি:শর্ত মুক্তি পায়। আবু মোহায়েম খান ৫ বছর পর আবারো ইয়াবা বিক্রি ও সেবনের সময়ে খবর পেয়ে পুলিশ অভিযান চালিয়ে তাকে হাতে-নাতে আটক করেন।
সরকারি চাকরিজীবরি বিরুদ্ধে মামলা ও জেলখাটা প্রসঙ্গে সুপ্রিম কোর্টের বিশিষ্ট আইনজীবী মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তাক দৈনিক জবাবদিহিকে বলেন, প্রজাতন্ত্রের কোনো সরকারি কর্মচারী ফৌজদারি অপরাধের মামলায় আটক হলে রায়ে খালাসপ্রাপ্ত না হওয়া পর্যন্ত তিনি চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত থাকবেন। এটাই সরকারি চাকরির বিধান। কিন্তু ফৌজদারি মামলায় আটক হওয়ার পরও মামলা নিষ্পত্তির আগ পর্যন্ত তিনি কিভাবে চাকুরিতে বহাল থাকেন তা বোধগম্য নয়। তবে ধারণা করা হচ্ছে, তার ঊর্ধ্বতনদের তিনি বিশেষ কারণ দেখিয়ে অফিসে অনুপস্থির কথা উল্লেখ করেন। অথবা অন্যকোন ভাবে তিনি তার ঊর্ধ্বতনদের ম্যানেজ করেছেন। এনিয়ে গত ২৮ অক্টোবর উপজেলা আইনশৃঙ্খলা সভায় বিস্তর আলোচনা হয়।
এবিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা স্বাস্থ্য ও প.প কর্মকর্তা ডা.আব্দুস সামাদ বলেন, এ ব্যাপারে তাকে কারণ দর্শনো নোটিশ দেওয়া হয়েছে।
রৌমারী থানার অফিসার ইনচার্জ কাওসার আলী বলেন, মাদক সহ মোহায়েম খান নামের একজন আটক হয়েছিল এবং তাকে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়। মামলা চলমান রয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাহবুবুল হাসান জানান, বিষয়টি আমার জানা নেই, তবে খোজ খবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কুড়িগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন এর ব্যবহৃত ফোন নম্বরে কল করলেও তিনি রিসিভ করেননি।

🔔 নিউজ বিজয়ের সর্বশেষ খবর পেতে টেলিগ্রাম চ্যানেল জয়েন করুন

মাজহারুল ইসলাম
০১৭১৮১০৫০৭৫