ঢাকা ০৯:৪৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং
হোম

🌤️ বাংলাদেশের বিভাগসমূহের লাইভ আবহাওয়া

গর্ভবতী মায়েদের জন্য সতর্কবার্তা, জেনে নিন কী ঘটছে

জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বিশ্বজুড়ে প্রতিনিয়ত বাড়ছে তাপপ্রবাহ ও তীব্র গরম, যার সরাসরি ও মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে গর্ভবতী নারী ও অনাগত শিশুদের স্বাস্থ্যের ওপর। রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে জানায়, অতিরিক্ত তাপমাত্রার কারণে গর্ভপাত, মৃত সন্তান প্রসব, উচ্চ রক্তচাপ এবং নির্ধারিত সময়ের আগেই সন্তান প্রসব বা অপরিণত শিশু জন্ম নেওয়ার ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে গর্ভাবস্থার শেষ মাসে অতিরিক্ত তাপপ্রবাহের মুখে পড়লে অপরিণত সন্তান জন্মের হার ১৮ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে।
দক্ষিণ আফ্রিকা, মেক্সিকো ও যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশের সাম্প্রতিক গবেষণা এবং চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণ বলছে, বসবাসের এলাকার গড় তাপমাত্রা প্রতি ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস বাড়লে পরবর্তীতে অপরিণত সন্তান প্রসবের আশঙ্কা ৪ শতাংশ বাড়ে, যা তাপপ্রবাহের পরের সপ্তাহে ২৬ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে।

এছাড়া অতিরিক্ত গরমের সঙ্গে প্রি-এক্লাম্পসিয়ার মতো গুরুতর গর্ভকালীন জটিলতা, জন্মগত ত্রুটি এবং প্লাসেন্টা বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার গভীর যোগসূত্র রয়েছে। চীনে পরিচালিত দুই লাখ নারীর ওপর এক গবেষণায় দেখা গেছে, অস্বাভাবিক গরমের কারণে প্রি-এক্লাম্পসিয়ার ঝুঁকি ১৩ শতাংশ বৃদ্ধি পায়। মেক্সিকোর ৮০ হাজার জন্মসংক্রান্ত তথ্য বিশ্লেষণেও দেখা গেছে যে সন্তান জন্মের আগের চার সপ্তাহে তাপপ্রবাহ থাকলে অপরিণত শিশু জন্মের হার গড়ে প্রায় ৬.৫ শতাংশ বৃদ্ধি পায়।

গর্ভবতী নারীদের পাশাপাশি এই ঝুঁকি বেশি থাকে বেশি বয়সি, দরিদ্র, ধূমপায়ী এবং আগে থেকেই শারীরিক জটিলতাথাকা নারীদের ক্ষেত্রে। এমনকি জোহানেসবার্গের গবেষক ও চিকিৎসক দর্শনিকা লাখুর মতো অনেক নারীও তীব্র গরমের কারণে যমজ সন্তান নির্ধারিত সময়ের আগেই জন্ম নেওয়ার মতো জটিলতার মুখোমুখি হয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্র, ব্রাজিল ও ভারতের বিভিন্ন হাসপাতালে তাপপ্রবাহের সময় গর্ভবতী নারীদের জরুরি বিভাগে যাওয়া, হাসপাতালে ভর্তি হওয়া কিংবা নবজাতকদের আইসিইউতে নেওয়ার হার বেড়ে যাওয়ার ঘটনাও লক্ষ্য করা গেছে।

বিজ্ঞানীদের ধারণা, শরীর ঠান্ডা রাখতে গিয়ে অতিরিক্ত গরমে মায়ের শরীর জরায়ু বা প্লাসেন্টায় রক্ত সরবরাহ কমিয়ে দেয়, যার ফলে ভ্রূণের ওপর তীব্র চাপ সৃষ্টি হয়। এছাড়া তাপমাত্রা হরমোনের কার্যকারিতায় ব্যাঘাত ঘটানোসহ ভ্রূণের অঙ্গপ্রত্যঙ্গ গঠনে জিনের স্বাভাবিক কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টি করতে পারে। গর্ভাবস্থার শুরুর দিকে অতিরিক্ত গরম জন্মগত ত্রুটি ও উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি বাড়ালেও শেষের দিকে তা মৃত সন্তান প্রসবের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।

এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় গর্ভবতী নারীদের যথাসম্ভব অতিরিক্ত গরম এড়িয়ে চলার পাশাপাশি পর্যাপ্ত পানি পান করা, ঢিলেঢালা পোশাক পরা এবং ঠান্ডা পরিবেশে থাকার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকেরা। সেই সঙ্গে নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং কোনো অস্বাভাবিক উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়ার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

গবেষকদের মতে, কেবল ব্যক্তিগত সচেতনতাই নয়, বরং গর্ভাবস্থায় নারীদের ছুটির সুযোগ বৃদ্ধিকরণ, নিরাপদ পানি ও শীতলীকরণ কেন্দ্রের ব্যবস্থা এবং স্বাস্থ্যসেবা ও সরকারি নীতিমালায় জরুরি পরিবর্তন আনার মাধ্যমেই কেবল অনাগত শিশু ও গর্ভবতী মায়েদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা সম্ভব।

সূত্র: জিও টিভি

নিউজ বিজয় ২৪ডট কম/এফএইচএন
আপলোডকারির তথ্য

NewsBijoy24. Com

📰 নিউজবিজয়২৪.কম এমন একটি অনলাইন সংবাদপত্র, যার প্রতিটি শব্দে জড়িয়ে আছে সত্যের অঙ্গীকার ও মানবিকতার দায়বদ্ধতা। এই পত্রিকাটি উৎসর্গ করা হলো আমার পরম শ্রদ্ধেয় মা ও বাবার পবিত্র স্মৃতির উদ্দেশ্যে-যারা আজ এই পৃথিবীতে নেই, কিন্তু তাদের শিক্ষা, আদর্শ ও দোয়ার আলো আজও আমাদের পথ দেখায়। তাদের নিঃস্বার্থ ত্যাগ ও ভালোবাসার প্রেরণায় প্রতিষ্ঠিত এই সংবাদমাধ্যমের লক্ষ্য সত্য প্রকাশ, অন্যায়ের প্রতিবাদ এবং মানুষের পাশে নির্ভীকভাবে দাঁড়ানো। হে আল্লাহ, আমার মা-বাবাকে জান্নাতুল ফেরদৌসে উচ্চ মাকাম দান করুন। আমিন। NewsBijoy24.Com 📰 সত্যের পথে, বিশ্বাসের সাথে।
জনপ্রিয় সংবাদ
⚽ আজকের সেরা ম্যাচগুলো ও লাইভ স্কোর

প্রভিডেন্ট ফান্ড-বিমাসহ চাকরির সুযোগ, সপ্তাহে ২ দিন ছুটি

গর্ভবতী মায়েদের জন্য সতর্কবার্তা, জেনে নিন কী ঘটছে

আপডেট সময় ০৬:৪৪:০৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬

জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বিশ্বজুড়ে প্রতিনিয়ত বাড়ছে তাপপ্রবাহ ও তীব্র গরম, যার সরাসরি ও মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে গর্ভবতী নারী ও অনাগত শিশুদের স্বাস্থ্যের ওপর। রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে জানায়, অতিরিক্ত তাপমাত্রার কারণে গর্ভপাত, মৃত সন্তান প্রসব, উচ্চ রক্তচাপ এবং নির্ধারিত সময়ের আগেই সন্তান প্রসব বা অপরিণত শিশু জন্ম নেওয়ার ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে গর্ভাবস্থার শেষ মাসে অতিরিক্ত তাপপ্রবাহের মুখে পড়লে অপরিণত সন্তান জন্মের হার ১৮ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে।
দক্ষিণ আফ্রিকা, মেক্সিকো ও যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশের সাম্প্রতিক গবেষণা এবং চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণ বলছে, বসবাসের এলাকার গড় তাপমাত্রা প্রতি ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস বাড়লে পরবর্তীতে অপরিণত সন্তান প্রসবের আশঙ্কা ৪ শতাংশ বাড়ে, যা তাপপ্রবাহের পরের সপ্তাহে ২৬ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে।

🔔 নিউজ বিজয়ের সর্বশেষ খবর পেতে টেলিগ্রাম চ্যানেল জয়েন করুন

এছাড়া অতিরিক্ত গরমের সঙ্গে প্রি-এক্লাম্পসিয়ার মতো গুরুতর গর্ভকালীন জটিলতা, জন্মগত ত্রুটি এবং প্লাসেন্টা বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার গভীর যোগসূত্র রয়েছে। চীনে পরিচালিত দুই লাখ নারীর ওপর এক গবেষণায় দেখা গেছে, অস্বাভাবিক গরমের কারণে প্রি-এক্লাম্পসিয়ার ঝুঁকি ১৩ শতাংশ বৃদ্ধি পায়। মেক্সিকোর ৮০ হাজার জন্মসংক্রান্ত তথ্য বিশ্লেষণেও দেখা গেছে যে সন্তান জন্মের আগের চার সপ্তাহে তাপপ্রবাহ থাকলে অপরিণত শিশু জন্মের হার গড়ে প্রায় ৬.৫ শতাংশ বৃদ্ধি পায়।

গর্ভবতী নারীদের পাশাপাশি এই ঝুঁকি বেশি থাকে বেশি বয়সি, দরিদ্র, ধূমপায়ী এবং আগে থেকেই শারীরিক জটিলতাথাকা নারীদের ক্ষেত্রে। এমনকি জোহানেসবার্গের গবেষক ও চিকিৎসক দর্শনিকা লাখুর মতো অনেক নারীও তীব্র গরমের কারণে যমজ সন্তান নির্ধারিত সময়ের আগেই জন্ম নেওয়ার মতো জটিলতার মুখোমুখি হয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্র, ব্রাজিল ও ভারতের বিভিন্ন হাসপাতালে তাপপ্রবাহের সময় গর্ভবতী নারীদের জরুরি বিভাগে যাওয়া, হাসপাতালে ভর্তি হওয়া কিংবা নবজাতকদের আইসিইউতে নেওয়ার হার বেড়ে যাওয়ার ঘটনাও লক্ষ্য করা গেছে।

বিজ্ঞানীদের ধারণা, শরীর ঠান্ডা রাখতে গিয়ে অতিরিক্ত গরমে মায়ের শরীর জরায়ু বা প্লাসেন্টায় রক্ত সরবরাহ কমিয়ে দেয়, যার ফলে ভ্রূণের ওপর তীব্র চাপ সৃষ্টি হয়। এছাড়া তাপমাত্রা হরমোনের কার্যকারিতায় ব্যাঘাত ঘটানোসহ ভ্রূণের অঙ্গপ্রত্যঙ্গ গঠনে জিনের স্বাভাবিক কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টি করতে পারে। গর্ভাবস্থার শুরুর দিকে অতিরিক্ত গরম জন্মগত ত্রুটি ও উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি বাড়ালেও শেষের দিকে তা মৃত সন্তান প্রসবের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।

এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় গর্ভবতী নারীদের যথাসম্ভব অতিরিক্ত গরম এড়িয়ে চলার পাশাপাশি পর্যাপ্ত পানি পান করা, ঢিলেঢালা পোশাক পরা এবং ঠান্ডা পরিবেশে থাকার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকেরা। সেই সঙ্গে নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং কোনো অস্বাভাবিক উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়ার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

গবেষকদের মতে, কেবল ব্যক্তিগত সচেতনতাই নয়, বরং গর্ভাবস্থায় নারীদের ছুটির সুযোগ বৃদ্ধিকরণ, নিরাপদ পানি ও শীতলীকরণ কেন্দ্রের ব্যবস্থা এবং স্বাস্থ্যসেবা ও সরকারি নীতিমালায় জরুরি পরিবর্তন আনার মাধ্যমেই কেবল অনাগত শিশু ও গর্ভবতী মায়েদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা সম্ভব।

সূত্র: জিও টিভি