ঢাকা ১১:৩১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৯ জুলাই ২০২৬, ২৫ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং

🌤️ বাংলাদেশের বিভাগসমূহের লাইভ আবহাওয়া

পে স্কেলের গেজেট প্রকাশে বিলম্ব, সামনে এলো আসল কারণ

ছবি: সংগৃহীত

নতুন অর্থবছর শুরু হলেও নবম পে স্কেলের গেজেট প্রকাশ না হওয়ায় সরকারি চাকরিজীবীদের মধ্যে নানা আলোচনা ও গুঞ্জন তৈরি হয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, এটি কোনো নীতিগত বিলম্ব নয়; বরং প্রশাসনিক, আর্থিক ও আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতেই সময় লাগছে।
অর্থ মন্ত্রণালয় ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, আর্থিক সংকটের কারণে পূর্ববর্তী সরকারের রেখে যাওয়া পে স্কেলের সুপারিশ হুবহু বাস্তবায়নের সুযোগ দেখছে না সরকার। রাজস্ব আয়ের চাপ, বাজেট ঘাটতি, ঋণ পরিশোধের দায় এবং উচ্চ মূল্যস্ফীতির বাস্তবতায় প্রস্তাবিত কাঠামোর বিভিন্ন অংশ পুনর্বিবেচনা করা হচ্ছে।

সূত্রগুলো জানায়, বিভিন্ন গ্রেডের মূল বেতন, বাড়িভাড়া, চিকিৎসা, যাতায়াতসহ কয়েকটি ভাতা ও সুযোগ সুবিধায় পরিবর্তন আনার বিষয়ে আলোচনা চলছে। সরকারের নীতিগত অবস্থান হলো, নবম পে স্কেল কার্যকর ধরা হবে ১ জুলাই থেকে। ফলে চূড়ান্ত প্রজ্ঞাপন জারি হলে ওই তারিখ থেকেই বেতন ভাতা ও অন্যান্য আর্থিক সুবিধা সমন্বয় করা হবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, নতুন পে স্কেল দুই অর্থবছরে সর্বোচ্চ তিন ধাপে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। চলতি অর্থবছরে মূল বেতন কার্যকর করা হতে পারে। এরপর আগামী অর্থবছরের শুরুতে বাড়িভাড়া এবং একই অর্থবছরের দ্বিতীয়ার্ধে, অর্থাৎ জানুয়ারি থেকে অন্যান্য ভাতা কার্যকর করার প্রস্তাব বিবেচনায় রয়েছে।

এ ছাড়া সচিব কমিটির আলোচনায় গ্রেড ১১ থেকে ২০ পর্যন্ত কর্মচারীদের মূল বেতন ও ভাতা তুলনামূলক বেশি এবং গ্রেড ১ থেকে ১০ পর্যন্ত কম হারে বৃদ্ধির সুপারিশের বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে। এর আগে সর্বোচ্চ ১০০ থেকে ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত বেতন ভাতা বৃদ্ধির সুপারিশ থাকলেও বর্তমান আর্থিক পরিস্থিতির কারণে তা পুরোপুরি বাস্তবায়নের সম্ভাবনা কম বলে জানা গেছে।

ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সফটওয়্যার হালনাগাদ, হিসাবরক্ষণ, পেনশন পুনর্নির্ধারণ এবং বেতন সমন্বয়সহ বেশ কিছু প্রযুক্তিগত জটিলতাও রয়েছে। এসব বিষয় কীভাবে সহজ করা যায়, তা নিয়েও কাজ করছে পুনর্গঠিত সচিব কমিটি।

গত সোমবার সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির নেতৃত্বে পুনর্গঠিত সচিব কমিটির পঞ্চম বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়, পে স্কেলের বিষয়টি তাড়াহুড়া করে নয়, বরং নির্ধারিত প্রশাসনিক ও আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই এগিয়ে নেওয়া হবে।

বৈঠকে অংশ নেওয়া এক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা যুগান্তরকে জানান, পে স্কেল দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক দায়বদ্ধতার বিষয়। তাই প্রতিটি সুপারিশের আর্থিক প্রভাব, প্রশাসনিক বাস্তবতা এবং আইনগত দিক যাচাই করেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

তিনি বলেন, চলতি জুলাই মাসের শেষ নাগাদ সচিব কমিটি তাদের চূড়ান্ত সুপারিশ মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে জমা দিতে পারে। এর আগে আরও দুটি বৈঠকে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মতামত, সরকারের আর্থিক সক্ষমতা, বাস্তবায়ন কৌশল এবং ধাপভিত্তিক কাঠামো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, সচিব কমিটির সুপারিশ জমা দেওয়ার পর বিষয়টি মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করা হবে। এরপর প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদন, আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিং এবং সরকারি গেজেট প্রকাশের মধ্য দিয়েই নবম পে স্কেল আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হবে।

নিউজ বিজয় ২৪ডট কম/এফএইচএন
আপলোডকারির তথ্য

NewsBijoy24. Com

📰 নিউজবিজয়২৪.কম এমন একটি অনলাইন সংবাদপত্র, যার প্রতিটি শব্দে জড়িয়ে আছে সত্যের অঙ্গীকার ও মানবিকতার দায়বদ্ধতা। এই পত্রিকাটি উৎসর্গ করা হলো আমার পরম শ্রদ্ধেয় মা ও বাবার পবিত্র স্মৃতির উদ্দেশ্যে-যারা আজ এই পৃথিবীতে নেই, কিন্তু তাদের শিক্ষা, আদর্শ ও দোয়ার আলো আজও আমাদের পথ দেখায়। তাদের নিঃস্বার্থ ত্যাগ ও ভালোবাসার প্রেরণায় প্রতিষ্ঠিত এই সংবাদমাধ্যমের লক্ষ্য সত্য প্রকাশ, অন্যায়ের প্রতিবাদ এবং মানুষের পাশে নির্ভীকভাবে দাঁড়ানো। হে আল্লাহ, আমার মা-বাবাকে জান্নাতুল ফেরদৌসে উচ্চ মাকাম দান করুন। আমিন। NewsBijoy24.Com 📰 সত্যের পথে, বিশ্বাসের সাথে।
জনপ্রিয় সংবাদ
⚽ বিশ্বকাপ ফুটবল লাইভ স্কোর ২০২৬

ঘরে ঘরে ব্রাজিল-আর্জেন্টিনার যুদ্ধ চলমান: সংসদে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী

পে স্কেলের গেজেট প্রকাশে বিলম্ব, সামনে এলো আসল কারণ

আপডেট সময় ০৩:৪৬:৪৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই ২০২৬

নতুন অর্থবছর শুরু হলেও নবম পে স্কেলের গেজেট প্রকাশ না হওয়ায় সরকারি চাকরিজীবীদের মধ্যে নানা আলোচনা ও গুঞ্জন তৈরি হয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, এটি কোনো নীতিগত বিলম্ব নয়; বরং প্রশাসনিক, আর্থিক ও আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতেই সময় লাগছে।
অর্থ মন্ত্রণালয় ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, আর্থিক সংকটের কারণে পূর্ববর্তী সরকারের রেখে যাওয়া পে স্কেলের সুপারিশ হুবহু বাস্তবায়নের সুযোগ দেখছে না সরকার। রাজস্ব আয়ের চাপ, বাজেট ঘাটতি, ঋণ পরিশোধের দায় এবং উচ্চ মূল্যস্ফীতির বাস্তবতায় প্রস্তাবিত কাঠামোর বিভিন্ন অংশ পুনর্বিবেচনা করা হচ্ছে।

🔔 নিউজ বিজয়ের সর্বশেষ খবর পেতে টেলিগ্রাম চ্যানেল জয়েন করুন

সূত্রগুলো জানায়, বিভিন্ন গ্রেডের মূল বেতন, বাড়িভাড়া, চিকিৎসা, যাতায়াতসহ কয়েকটি ভাতা ও সুযোগ সুবিধায় পরিবর্তন আনার বিষয়ে আলোচনা চলছে। সরকারের নীতিগত অবস্থান হলো, নবম পে স্কেল কার্যকর ধরা হবে ১ জুলাই থেকে। ফলে চূড়ান্ত প্রজ্ঞাপন জারি হলে ওই তারিখ থেকেই বেতন ভাতা ও অন্যান্য আর্থিক সুবিধা সমন্বয় করা হবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, নতুন পে স্কেল দুই অর্থবছরে সর্বোচ্চ তিন ধাপে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। চলতি অর্থবছরে মূল বেতন কার্যকর করা হতে পারে। এরপর আগামী অর্থবছরের শুরুতে বাড়িভাড়া এবং একই অর্থবছরের দ্বিতীয়ার্ধে, অর্থাৎ জানুয়ারি থেকে অন্যান্য ভাতা কার্যকর করার প্রস্তাব বিবেচনায় রয়েছে।

এ ছাড়া সচিব কমিটির আলোচনায় গ্রেড ১১ থেকে ২০ পর্যন্ত কর্মচারীদের মূল বেতন ও ভাতা তুলনামূলক বেশি এবং গ্রেড ১ থেকে ১০ পর্যন্ত কম হারে বৃদ্ধির সুপারিশের বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে। এর আগে সর্বোচ্চ ১০০ থেকে ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত বেতন ভাতা বৃদ্ধির সুপারিশ থাকলেও বর্তমান আর্থিক পরিস্থিতির কারণে তা পুরোপুরি বাস্তবায়নের সম্ভাবনা কম বলে জানা গেছে।

ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সফটওয়্যার হালনাগাদ, হিসাবরক্ষণ, পেনশন পুনর্নির্ধারণ এবং বেতন সমন্বয়সহ বেশ কিছু প্রযুক্তিগত জটিলতাও রয়েছে। এসব বিষয় কীভাবে সহজ করা যায়, তা নিয়েও কাজ করছে পুনর্গঠিত সচিব কমিটি।

গত সোমবার সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির নেতৃত্বে পুনর্গঠিত সচিব কমিটির পঞ্চম বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়, পে স্কেলের বিষয়টি তাড়াহুড়া করে নয়, বরং নির্ধারিত প্রশাসনিক ও আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই এগিয়ে নেওয়া হবে।

বৈঠকে অংশ নেওয়া এক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা যুগান্তরকে জানান, পে স্কেল দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক দায়বদ্ধতার বিষয়। তাই প্রতিটি সুপারিশের আর্থিক প্রভাব, প্রশাসনিক বাস্তবতা এবং আইনগত দিক যাচাই করেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

তিনি বলেন, চলতি জুলাই মাসের শেষ নাগাদ সচিব কমিটি তাদের চূড়ান্ত সুপারিশ মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে জমা দিতে পারে। এর আগে আরও দুটি বৈঠকে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মতামত, সরকারের আর্থিক সক্ষমতা, বাস্তবায়ন কৌশল এবং ধাপভিত্তিক কাঠামো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, সচিব কমিটির সুপারিশ জমা দেওয়ার পর বিষয়টি মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করা হবে। এরপর প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদন, আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিং এবং সরকারি গেজেট প্রকাশের মধ্য দিয়েই নবম পে স্কেল আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হবে।