লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার ৫টি পুরাতন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তীব্র শিক্ষক সংকট দেখা দিয়েছে। অথচ কিছু বিদ্যালয়ে প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত শিক্ষক কর্মরত রয়েছেন। এই বৈষম্য দূর করতে সহকারী শিক্ষকের পদ সমন্বয় ও যৌক্তিক বণ্টনের দাবিতে উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর লিখিত আবেদন করেছেন ৫টি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকরা।
বুধবার (৩০ এপ্রিল) উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও প্রাথমিক শিক্ষা কমিটির সভাপতি বরাবর দেওয়া আবেদনে তারা উল্লেখ করেন, হাতীবান্ধা উপজেলাধীন ৫টি পুরাতন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মাত্র ৫ জন শিক্ষকের পদ রয়েছে। কিন্তু একটি বিদ্যালয়ে সুষ্ঠুভাবে পাঠদানের জন্য অন্তত ৭ জন শিক্ষকের প্রয়োজন।
আবেদনে আরও বলা হয়, লক্ষ্য করা যাচ্ছে কিছু বিদ্যালয়ে কোনো শাখা না থাকা সত্ত্বেও সেখানে ১০ থেকে ১৪ জন শিক্ষক কর্মরত আছেন। এর ফলে অন্যান্য বিদ্যালয়ে শিক্ষক ঘাটতি দেখা দিচ্ছে এবং নিয়মিত পাঠদান কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
যেসব বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকরা আবেদন করেছেন:
১. মোঃ শরিফুল হক, প্রধান শিক্ষক, উত্তর পারুলিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়
২. মোছাঃ মনোয়ারা বেগম, প্রধান শিক্ষক, বাড়াইপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়
৩. তাপস কর্মকার, প্রধান শিক্ষক, খোর্দ্দ বিছনদই মাহাতাব উদ্দিন সপ্রাবি
৪. আবু সালেহ মোঃ আরিফ বিল্লাহ, ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক, পূর্ব বিছনদই উত্তরপাড়া আবুল কাশেম সপ্রাবি
৫. মোঃ মফিদুল ইসলাম, প্রধান শিক্ষক, দোলাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়
প্রধান শিক্ষকরা জানান, শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ ও পাঠদান কার্যক্রম নিশ্চিত করার লক্ষ্যে দ্রুত বিদ্যালয়গুলোতে সহকারী শিক্ষকের পদ সমন্বয় ও যৌক্তিকভাবে বণ্টন করা জরুরি। এ বিষয়ে তারা উপজেলা প্রশাসনের সদয় হস্তক্ষেপ ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য বিনীত অনুরোধ করেছেন।
এ বিষয়ে উপজেলা শিক্ষা অফিসার জানান, হাতীবান্ধা সদরের স্কুলগুলোতে অনুমোদিত পদের সংখ্যা বেশি থাকায় সেখানে তুলনামূলক বেশি শিক্ষক কর্মরত রয়েছেন। তিনি বলেন, “পরবর্তীতে নতুন করে শিক্ষক নিয়োগ হলে আমরা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে যেসব স্কুলে শিক্ষক কম রয়েছে সেসব স্কুলেই শিক্ষক পদায়ন করব।”
এছাড়া পদ সমন্বয়ের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের বিবেচনাধীন রয়েছে বলেও জানান তিনি।
মো: ফারুক হোসেন (নিশাত) নিউজবিজয় প্রতিবেদক 



























