দীর্ঘ কয়েকবছর ধরে অবহেলিত ও খানাখন্দে ভরা নওগাঁর বদলগাছীর আঞ্চলিক সড়কের পাশেই বদলগাছী উপজেলার ডাকবাংলার সামনে রাস্তা সংস্কারের দাবী জানাতে জানাতে ক্লান্ত হয়ে অভিনব প্রতিবাদ হিসেবে রাস্তার পাশে ধানের চারা লাগায় স্থানীয় এলাকাবাসী। ৪মাস প্রতীক্ষার সেই ধান পাকলে সেই ধান কেটে পিঠা উৎসবের আয়োজন করে ভুক্তভোগী এলাকাবাসী।আর সেই রাস্তার ধান কাটাকে কেন্দ্র করে যে উৎসব হলো, তা হাসি-ঠাট্টায় ভরা ঠিকই, কিন্তু ভিতরে লুকিয়ে আছে দীর্ঘদিনের ক্ষোভ, অবহেলা আর সংগ্রাম।
অভিযোগ, বছরের পর বছর ধরে ভাঙাচোরা সড়কটি মেরামতের দাবি জানাতে জানাতে মানুষ ক্লান্ত। বর্ষায় গর্তে পানি জমে জলাবদ্ধতা তৈরি হয়, শুকনো মৌসুমে ধুলোয় চোখ-মুখ বন্ধ হয়ে আসে। আর এই অবহেলায় প্রতিবাদে ধানের চারা রোপন করেন স্থানীয়রা। ধান রোপণ শেষে কাটা হলেও আজ অব্দি রাস্তা সংস্কার হয়নি।
কেউ প্রথমে বিষয়টি দেখেছিল মজা হিসেবে, পরে সেটিই হয়ে ওঠে মানুষের প্রতিবাদের প্রতীক।
মঙ্গলবার ২৪শে নভেম্বর বিকেল ৫টার দিকে যে দৃশ্য দেখা গেল রাস্তার একপাশে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে ধান কাটছেন কিছু পুরুষ, অপর পাশে শিশু সহ স্থানীয় কৌতূহলী মানুষজনের ভিড়। কারও হাতে কাঁচি, কারও হাতে হাসি। রাস্তা যেন পরিণত হলো জনমতের এক বিশাল মঞ্চে।
ধান কাটে আটি বাধা শেষ হলে শুরু হয় পিঠা বানানোর প্রস্তুতি।
। নতুন চালের চালের আটার পিঠা তৈরি আর পিঠার চাটনি তৈরির শব্দে মুখর হয়ে ওঠে আশপাশ। স্থানীয় নারীরা একে একে বানিয়ে ফেললেন ভাপা, চিতই, সবমিলিয়ে এক অনন্য ‘প্রতিবাদী পিঠা উৎসব’।
উৎসবের ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই আলোচনার ঝড়।
জানাযায়, নওগাঁর বদলগাছীর গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক সড়ক ডাকবাংলো মোড় যা দিয়ে প্রতিদিন হাজারো মানুষের চলাচল। বর্ষা মৌসুমে কাদা পানি,আর শুষ্ক মৌসুমে ধলোর রাজত্ব। এসব থেকে মুক্তি পেতে স্থানীয়রা গত চার মাস আগে ডাকবাংলো তিন মাথা মোড়ে ধানের চারা লাগিয়েছিলো। পরম আদর যত্ন করায় সেই সড়কে যেনো একসবুজ ক্ষুদ্র ধানের ক্ষেতে রূপ নিয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারহীন অবস্থায় পড়ে থাকা রাস্তাটি স্থানীয়দের কাছে এখন ‘ধানের রাস্তা’ নামেই পরিচিত।
ধান গাছে যখন শীষ ধরল, স্থানীয়দের অভিমান তখন আর চেপে রাখা গেল না। তারা সিদ্ধান্ত নিলেন এই ধান শুধু কাটবেনই না, বরং এই ধানের চাল দিয়ে আয়োজন করবেন এমন এক উৎসব, যার বার্তা পৌঁছে যাবে উর্ধত্বন প্রশাসনের টেবিল পর্যন্ত।
স্হানীয় টগর বলেন, যে রাস্তায় গাড়ি চলাচলে সমস্যা, সেখানে ধান জন্মালেও অবাক হওয়ার কিছু নেই। তিনি আরো বলেন,অবাক হওয়া উচিত যারা দেখেও দেখেন না, তাদের আচরণে।
স্থানীয় বাসিন্দা নয়ন হোসেন,“হাসির আড়ালে জমে থাকা ক্ষোভও স্পষ্ট “রাস্তাটা যদি ঠিক না হয়, তাহলে হয়তো পরের বছর আমরা আরও বড় মাঠ পাবো ধান রোপণের জন্য।”
স্থানীয়দের আশা, এই ব্যতিক্রমী বার্তাটি এবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ঘুম ভাঙাবে। রাস্তায় ধান জন্মানোকে হাসি ঠাট্টা দিয়ে উড়িয়ে দেওয়া যায়, কিন্তু সেই ধানের কেটে পিঠা খেয়ে প্রতিবাদের স্বাদ এড়িয়ে যাওয়া সহজ হবে কি?
নিউজ বিজয় ২৪ডট কম/এফএইচএন
সৈকত সোবহান, প্রতিনিধি বদলগাছী(নওগাঁ):- 

































