ঢাকা ০৪:৩৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬, ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং

🌤️ বাংলাদেশের বিভাগসমূহের লাইভ আবহাওয়া

বয়স শুধু সংখ্যা, ৫০-এর পরেও দারুণ ফিট রুবাবা

দেশের করপোরেট জগতের অন্যতম ব্যক্তিত্ব রুবাবা দৌলা। তিনি একইসাথে মেধা, নেতৃত্ব আর ঈর্ষণীয় ব্যক্তিত্বের এক অনন্য সংমিশ্রণ। সম্প্রতি একটি জনপ্রিয় ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের পডকাস্ট সাক্ষাৎকারে তিনি তার জীবনের না বলা অনেক গল্পের পাশাপাশি শেয়ার করেছেন নিজের চিরসবুজ থাকার রহস্য।

৫০ বছর বয়স পেরিয়েও কীভাবে তিনি নিজেকে এতটা ফিট, এলিগেন্ট আর প্রাণবন্ত রেখেছেন, তা নিয়ে ভক্তদের কৌতূহলের শেষ নেই। কালবেলার পাঠকদের জন্য তার সেই সুস্থ জীবনধারার মন্ত্রগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:

১. সুস্থতার শুরুটা মনে, শরীরে নয়
৫০ পেরিয়েও যেভাবে নিজেকে ফিট রেখেছেন রুবাবা
শুয়ে শুয়ে বই পড়েন? এতে কী কী ক্ষতি হচ্ছে জেনে নিন

রুবাবার মতে, ফিটনেসের সবচেয়ে বড় ভিত্তি হলো একটি ইতিবাচক মন বা পজিটিভ মাইন্ডসেট। তিনি মনে করেন, বাহ্যিক চাকচিক্যের চেয়েও ভেতর থেকে সতেজ থাকাটা জরুরি। তাই তিনি খুব কড়া ডায়েট বা কঠোর জিমের চেয়েও নিজেকে সবসময় স্ট্রেস-মুক্ত রাখার ওপর বেশি জোর দেন। তার ভাষ্যমতে, জীবনের যে বিষয়গুলো নিজের নিয়ন্ত্রণে নেই, সেগুলো নিয়ে অযথা দুশ্চিন্তা না করে বর্তমানের ইতিবাচক দিকগুলোতে মনোনিবেশ করাই তাকে সুস্থ রাখে।
৫০ পেরিয়েও যেভাবে নিজেকে ফিট রেখেছেন রুবাবা
শরীরে কোলেস্টেরল বাড়ছে কি না, খেয়াল রাখুন ৫ লক্ষণ

২. মানসিক স্বাস্থ্যের চর্চা ও মেডিটেশন

শারীরিক ফিটনেসের চেয়ে রুবাবা দৌলা তার মেন্টাল হেলথ বা মানসিক স্বাস্থ্যের চর্চাকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেন। তিনি বিশ্বাস করেন, মন ভালো থাকলে শরীরও ভালো থাকে। এজন্য তিনি নিয়মিত মেডিটেশন করেন এবং প্রতিদিন নিজের জন্য কিছুটা সময় বা ‘সলিচিউড’ বের করে নেন। নিজের সাথে কাটানো এই একান্ত সময়গুলো তাকে আত্মোপলব্ধি করতে এবং দৈনন্দিন কাজের চাপ সামলাতে সাহায্য করে।

৩. খাদ্যাভ্যাসে পরিমিতিবোধ ও ‘চিট মিল’

রুবাবা তার খাবারের তালিকায় বেশ সচেতনতা মেনে চলেন। তিনি নিয়মিত খাবারে চিনি এবং কার্বোহাইড্রেট (ভাত বা রুটি) এড়িয়ে চলার চেষ্টা করেন। তার রোজকার খাবারে প্রাধান্য পায় সালাদ, প্রচুর সবজি এবং প্রোটিন। অফিসের দিনগুলোতে তিনি খুবই হালকা লাঞ্চ করেন এবং রাত ৭.৩০ টার মধ্যে ডিনার সেরে ফেলার চেষ্টা করেন। তবে শত নিয়মের মাঝেও শুক্রবারটি তার জন্য স্পেশাল; সেদিন মায়ের হাতের ভর্তা-ভাত খাওয়া তার একমাত্র ‘চিট মিল’।

৪. শৈশবের খেলোয়াড় সত্তা ও শারীরিক সক্রিয়তা

রুবাবার ফিটনেসের পেছনে তার খেলোয়াড় জীবনের বড় ভূমিকা রয়েছে। ছোটবেলা থেকেই বাবার উৎসাহে তিনি হকি, ফুটবল, শুটিং ও ব্যাডমিন্টন খেলতেন। বর্তমানে তিনি নিয়মিত ব্যাডমিন্টন খেলেন। দীর্ঘ কয়েক বছর গ্যাপ থাকলেও তিনি আবারও বন্ধুদের নিয়ে গলফ খেলা শুরু করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এই শারীরিক সক্রিয়তা তাকে কেবল শারীরিকভাবেই নয়, মানসিকভাবেও চনমনে রাখে।

৫. সুরের মূর্ছনায় স্ট্রেস ম্যানেজমেন্ট

মানসিক প্রশান্তির জন্য রুবাবা গানের কাছে ফিরে যান। তিনি রবীন্দ্রসংগীত, নজরুল গীতি ও গজল চর্চা করেন। চাপের মুহূর্তে গান গাওয়া বা শোনা তার জন্য একটি ‘ভেন্টিং আউট’ বা মানসিক ভারমুক্ত হওয়ার মাধ্যম হিসেবে কাজ করে। প্রিয় গানের কথা আর সুরের ভেতরেই তিনি তার মানসিক প্রশান্তি খুঁজে পান।

৬. সুশৃঙ্খল পারিবারিক শিক্ষা

রুবাবার এই সুশৃঙ্খল ও মার্জিত জীবনের পেছনে রয়েছে তার পরিবারের বিশেষ করে তার বাবার দেওয়া সুশৃঙ্খল জীবনবোধের শিক্ষ। ছোটবেলা থেকেই কোনো কিছুতে ভয় না পেয়ে প্রতিকূলতা জয় করার যে মানসিকতা তিনি অর্জন করেছেন, সেটিই তাকে আজ এই পরিণত বয়সেও আত্মবিশ্বাসী ও ফিট রেখেছে।

রুবাবা দৌলার জীবনধারা আমাদের শেখায় যে, ফিটনেস মানে কেবল জিম করা নয়; বরং এটি হলো নিয়মমাফিক খাদ্যাভ্যাস, সৃজনশীল শখ এবং একটি প্রশান্ত মনের সুসমন্বয়।

নিউজ বিজয় ২৪ডট কম/এফএইচএন
আপলোডকারির তথ্য

NewsBijoy24. Com

📰 নিউজবিজয়২৪.কম এমন একটি অনলাইন সংবাদপত্র, যার প্রতিটি শব্দে জড়িয়ে আছে সত্যের অঙ্গীকার ও মানবিকতার দায়বদ্ধতা। এই পত্রিকাটি উৎসর্গ করা হলো আমার পরম শ্রদ্ধেয় মা ও বাবার পবিত্র স্মৃতির উদ্দেশ্যে-যারা আজ এই পৃথিবীতে নেই, কিন্তু তাদের শিক্ষা, আদর্শ ও দোয়ার আলো আজও আমাদের পথ দেখায়। তাদের নিঃস্বার্থ ত্যাগ ও ভালোবাসার প্রেরণায় প্রতিষ্ঠিত এই সংবাদমাধ্যমের লক্ষ্য সত্য প্রকাশ, অন্যায়ের প্রতিবাদ এবং মানুষের পাশে নির্ভীকভাবে দাঁড়ানো। হে আল্লাহ, আমার মা-বাবাকে জান্নাতুল ফেরদৌসে উচ্চ মাকাম দান করুন। আমিন। NewsBijoy24.Com 📰 সত্যের পথে, বিশ্বাসের সাথে।
জনপ্রিয় সংবাদ
⚽ বিশ্বকাপ ফুটবল লাইভ স্কোর ২০২৬

রাত ১টার মধ্যে বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে যেসব অঞ্চলে

বয়স শুধু সংখ্যা, ৫০-এর পরেও দারুণ ফিট রুবাবা

আপডেট সময় ০৩:৩৯:০৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৩ মে ২০২৬

দেশের করপোরেট জগতের অন্যতম ব্যক্তিত্ব রুবাবা দৌলা। তিনি একইসাথে মেধা, নেতৃত্ব আর ঈর্ষণীয় ব্যক্তিত্বের এক অনন্য সংমিশ্রণ। সম্প্রতি একটি জনপ্রিয় ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের পডকাস্ট সাক্ষাৎকারে তিনি তার জীবনের না বলা অনেক গল্পের পাশাপাশি শেয়ার করেছেন নিজের চিরসবুজ থাকার রহস্য।

৫০ বছর বয়স পেরিয়েও কীভাবে তিনি নিজেকে এতটা ফিট, এলিগেন্ট আর প্রাণবন্ত রেখেছেন, তা নিয়ে ভক্তদের কৌতূহলের শেষ নেই। কালবেলার পাঠকদের জন্য তার সেই সুস্থ জীবনধারার মন্ত্রগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:

১. সুস্থতার শুরুটা মনে, শরীরে নয়
৫০ পেরিয়েও যেভাবে নিজেকে ফিট রেখেছেন রুবাবা
শুয়ে শুয়ে বই পড়েন? এতে কী কী ক্ষতি হচ্ছে জেনে নিন

রুবাবার মতে, ফিটনেসের সবচেয়ে বড় ভিত্তি হলো একটি ইতিবাচক মন বা পজিটিভ মাইন্ডসেট। তিনি মনে করেন, বাহ্যিক চাকচিক্যের চেয়েও ভেতর থেকে সতেজ থাকাটা জরুরি। তাই তিনি খুব কড়া ডায়েট বা কঠোর জিমের চেয়েও নিজেকে সবসময় স্ট্রেস-মুক্ত রাখার ওপর বেশি জোর দেন। তার ভাষ্যমতে, জীবনের যে বিষয়গুলো নিজের নিয়ন্ত্রণে নেই, সেগুলো নিয়ে অযথা দুশ্চিন্তা না করে বর্তমানের ইতিবাচক দিকগুলোতে মনোনিবেশ করাই তাকে সুস্থ রাখে।
৫০ পেরিয়েও যেভাবে নিজেকে ফিট রেখেছেন রুবাবা
শরীরে কোলেস্টেরল বাড়ছে কি না, খেয়াল রাখুন ৫ লক্ষণ

২. মানসিক স্বাস্থ্যের চর্চা ও মেডিটেশন

শারীরিক ফিটনেসের চেয়ে রুবাবা দৌলা তার মেন্টাল হেলথ বা মানসিক স্বাস্থ্যের চর্চাকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেন। তিনি বিশ্বাস করেন, মন ভালো থাকলে শরীরও ভালো থাকে। এজন্য তিনি নিয়মিত মেডিটেশন করেন এবং প্রতিদিন নিজের জন্য কিছুটা সময় বা ‘সলিচিউড’ বের করে নেন। নিজের সাথে কাটানো এই একান্ত সময়গুলো তাকে আত্মোপলব্ধি করতে এবং দৈনন্দিন কাজের চাপ সামলাতে সাহায্য করে।

৩. খাদ্যাভ্যাসে পরিমিতিবোধ ও ‘চিট মিল’

রুবাবা তার খাবারের তালিকায় বেশ সচেতনতা মেনে চলেন। তিনি নিয়মিত খাবারে চিনি এবং কার্বোহাইড্রেট (ভাত বা রুটি) এড়িয়ে চলার চেষ্টা করেন। তার রোজকার খাবারে প্রাধান্য পায় সালাদ, প্রচুর সবজি এবং প্রোটিন। অফিসের দিনগুলোতে তিনি খুবই হালকা লাঞ্চ করেন এবং রাত ৭.৩০ টার মধ্যে ডিনার সেরে ফেলার চেষ্টা করেন। তবে শত নিয়মের মাঝেও শুক্রবারটি তার জন্য স্পেশাল; সেদিন মায়ের হাতের ভর্তা-ভাত খাওয়া তার একমাত্র ‘চিট মিল’।

৪. শৈশবের খেলোয়াড় সত্তা ও শারীরিক সক্রিয়তা

রুবাবার ফিটনেসের পেছনে তার খেলোয়াড় জীবনের বড় ভূমিকা রয়েছে। ছোটবেলা থেকেই বাবার উৎসাহে তিনি হকি, ফুটবল, শুটিং ও ব্যাডমিন্টন খেলতেন। বর্তমানে তিনি নিয়মিত ব্যাডমিন্টন খেলেন। দীর্ঘ কয়েক বছর গ্যাপ থাকলেও তিনি আবারও বন্ধুদের নিয়ে গলফ খেলা শুরু করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এই শারীরিক সক্রিয়তা তাকে কেবল শারীরিকভাবেই নয়, মানসিকভাবেও চনমনে রাখে।

৫. সুরের মূর্ছনায় স্ট্রেস ম্যানেজমেন্ট

মানসিক প্রশান্তির জন্য রুবাবা গানের কাছে ফিরে যান। তিনি রবীন্দ্রসংগীত, নজরুল গীতি ও গজল চর্চা করেন। চাপের মুহূর্তে গান গাওয়া বা শোনা তার জন্য একটি ‘ভেন্টিং আউট’ বা মানসিক ভারমুক্ত হওয়ার মাধ্যম হিসেবে কাজ করে। প্রিয় গানের কথা আর সুরের ভেতরেই তিনি তার মানসিক প্রশান্তি খুঁজে পান।

৬. সুশৃঙ্খল পারিবারিক শিক্ষা

রুবাবার এই সুশৃঙ্খল ও মার্জিত জীবনের পেছনে রয়েছে তার পরিবারের বিশেষ করে তার বাবার দেওয়া সুশৃঙ্খল জীবনবোধের শিক্ষ। ছোটবেলা থেকেই কোনো কিছুতে ভয় না পেয়ে প্রতিকূলতা জয় করার যে মানসিকতা তিনি অর্জন করেছেন, সেটিই তাকে আজ এই পরিণত বয়সেও আত্মবিশ্বাসী ও ফিট রেখেছে।

রুবাবা দৌলার জীবনধারা আমাদের শেখায় যে, ফিটনেস মানে কেবল জিম করা নয়; বরং এটি হলো নিয়মমাফিক খাদ্যাভ্যাস, সৃজনশীল শখ এবং একটি প্রশান্ত মনের সুসমন্বয়।