ঢাকা ০৭:১৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬, ৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং

🌤️ বাংলাদেশের বিভাগসমূহের লাইভ আবহাওয়া

কালীগঞ্জের সড়ক ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে, ক্ষোভ বাড়ছে মানুষের মধ্যে

ছবি -মো.হাসমত উল্লাহ

লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলার চাপারহাট থেকে জাওরানী সড়কের বেহাল অবস্থায় ভোগান্তিতে লাখো লাখো মানুষ। এ সড়কটি এখন যেন মৃত্যুর ফাঁদ। দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়া কালীমনের ব্রিজ সহ গত বছরের বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ সড়কটি চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। ফলে প্রতিদিন এ পথে যাতায়াতকারী কয়েক লাখ মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়ছেন।

সরেজমিনে দেখা যায়, সড়কটির চাপারহাট থেকে কালীমনের ব্রিজ পর্যন্ত দুই কিলোমিটার পাকাকরণ করা হলেও বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। কোথাও কোথাও কার্পেটিং উঠে গিয়ে মাটির রাস্তা বের হয়ে এসেছে। আবার কিছু কিছু অংশে সড়কের এক পাশ ধসে পড়েছে। কালীমনের ব্রিজের দুই পাশের কিনারা ভেঙ্গে পড়ে তা যানবহন চলাচলের অনুপোযোগী হয়েছে। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ছোট ছোট যানবাহনগুলো চলাচল করলেও মাঝেমধ্যে দুর্ঘটনার কবলে পড়ছে। যেকোনো সময় ব্রিজটি ভেঙ্গে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তাছাড়া কালীমনের ব্রিজ থেকে জাওরানী পর্যন্ত প্রায় দেড় কিলোমিটার রাস্তা কাঁচা হওয়ায় আরও করুন অবস্থা। স্থানীয়দের অভিযোগ, বর্ষা মৌসুমের শুরু হতে না হতেই সড়কটির অবস্থা আরও খারাপ হয়ে গেছে। কাদা এবং গর্তে ভরা সড়কটি চলাচল করা এখন ঝুঁকির ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। সড়কের এই দুরবস্থার কারণে প্রতিদিন হাজারো মানুষ ভোগান্তির শিকার হচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সড়কের অব্যবস্থাপনার কারণে যাত্রীদের এবং যানবাহনের জন্য চলাচল করা খুব কঠিন হয়ে পড়েছে। স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসার ছাত্র-ছাত্রী, চাকরিজীবী এবং ব্যবসায়ীরা সবাই এই সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন। বিশেষ করে শিশুদের স্কুলে যেতে এবং কর্মজীবীদের অফিসে পৌঁছাতে অনেক সময় ব্যয় হচ্ছে। অনেক পরিবার এখন তাদের কাজের জন্য অন্য পথ অবলম্বন করতে বাধ্য হচ্ছে, যা তাদের জন্য সময় ও অর্থ উভয়েই ক্ষতির কারণ। প্রতিদিনের জীবনে এই সড়ক সমস্যার কারণে স্বাস্থ্যগত ঝুঁকিও বেড়ে গেছে। নীরব দুর্ভোগে বাসিন্দারা অসুস্থ হয়ে পড়ছেন, কারণ তাদের দৈনন্দিন জীবনে হেঁটে চলার জন্য নিরাপদ সড়ক নেই। বিশেষ করে, বৃদ্ধ এবং শিশুদের জন্য এটি খুবই বিপজ্জনক। সড়কের কাদা এবং গর্তের কারণে দুর্ঘটনার আশঙ্কা বাড়ছে। তারা অভিযোগ করছেন যে, সঠিক সময়ে সংস্কার না হওয়ায় এলাকাটি দিনদিন আরও অবহেলিত হয়ে পড়ছে। প্রতি বছর বর্ষাকালে বন্যায় সড়কটি মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এরপর স্থানীয় বাসিন্দারা নিজেদের উদ্যোগে সাময়িকভাবে কিছু অংশ মেরামত করে চলাচলের উপযোগী করার চেষ্টা করেন। তবে তা টেকসই হয় না। এ সড়কটি দিয়ে প্রতিদিন লালমনিরহাট জেলার সবচেয়ে বড় হাট চাপারহাটে আসেন প্রায় দশ লাখ মানুষ। এটি জাওরানী থেকে যাতায়াতের অন্যতম প্রধান পথ। পাশাপাশি এটি সতীরপাড়-বুড়িরহাট-লতাবর-বোতলা হয়ে চন্দ্রপুর বাজার যাওয়ার একমাত্র সংযোগ সড়ক হওয়ায় জটিল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

এ বিষয়ে ভুক্তভোগী এলাকাবাসীর পক্ষে লতাবর গ্রামের বাসিন্দা ও আদিতমারী সরকারি ডিগ্রি কলেজের সহকারী অধ্যাপক ড. মো. হাসানুজ্জামান জুয়েল এর সাথে কথা বললে তিনি জানান, স্বাধীনতার পর বাংলাদেশের অবহেলিত জনপদের মধ্যে এটি অন্যতম। দীর্ঘদিন এই এলাকাটির জনগণ উন্নয়ন বঞ্চিত হয়েছে। বিদ্যুৎ সংযোগ থেকে শুরু করে রাস্তাঘাটের বেহাল অবস্থা থাকলেও ব্যাক্তিগত উদ্যোগে বিদ্যুৎ সমস্যার কিছুটা সমাধান করা হলেও রাস্তাঘাটের উন্নয়ন সম্ভব হয়নি। আশা করছি, বর্তমান সরকার এই অবহেলিত জনপদটির ওপর নজর দিয়ে উন্নয়ন ত্বরান্বিত করবেন।

নিউজ বিজয় ২৪ডট কম/এফএইচএন
আপলোডকারির তথ্য

NewsBijoy24. Com

📰 নিউজবিজয়২৪.কম এমন একটি অনলাইন সংবাদপত্র, যার প্রতিটি শব্দে জড়িয়ে আছে সত্যের অঙ্গীকার ও মানবিকতার দায়বদ্ধতা। এই পত্রিকাটি উৎসর্গ করা হলো আমার পরম শ্রদ্ধেয় মা ও বাবার পবিত্র স্মৃতির উদ্দেশ্যে-যারা আজ এই পৃথিবীতে নেই, কিন্তু তাদের শিক্ষা, আদর্শ ও দোয়ার আলো আজও আমাদের পথ দেখায়। তাদের নিঃস্বার্থ ত্যাগ ও ভালোবাসার প্রেরণায় প্রতিষ্ঠিত এই সংবাদমাধ্যমের লক্ষ্য সত্য প্রকাশ, অন্যায়ের প্রতিবাদ এবং মানুষের পাশে নির্ভীকভাবে দাঁড়ানো। হে আল্লাহ, আমার মা-বাবাকে জান্নাতুল ফেরদৌসে উচ্চ মাকাম দান করুন। আমিন। NewsBijoy24.Com 📰 সত্যের পথে, বিশ্বাসের সাথে।
জনপ্রিয় সংবাদ
⚽ বিশ্বকাপ ফুটবল লাইভ স্কোর ২০২৬

মেসি আমার আদর্শ, তাকে হারতে দেখতে ভালো লাগে না: কুবার্সি

কালীগঞ্জের সড়ক ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে, ক্ষোভ বাড়ছে মানুষের মধ্যে

আপডেট সময় ০৬:২০:১০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬

লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলার চাপারহাট থেকে জাওরানী সড়কের বেহাল অবস্থায় ভোগান্তিতে লাখো লাখো মানুষ। এ সড়কটি এখন যেন মৃত্যুর ফাঁদ। দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়া কালীমনের ব্রিজ সহ গত বছরের বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ সড়কটি চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। ফলে প্রতিদিন এ পথে যাতায়াতকারী কয়েক লাখ মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়ছেন।

🔔 নিউজ বিজয়ের সর্বশেষ খবর পেতে টেলিগ্রাম চ্যানেল জয়েন করুন

সরেজমিনে দেখা যায়, সড়কটির চাপারহাট থেকে কালীমনের ব্রিজ পর্যন্ত দুই কিলোমিটার পাকাকরণ করা হলেও বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। কোথাও কোথাও কার্পেটিং উঠে গিয়ে মাটির রাস্তা বের হয়ে এসেছে। আবার কিছু কিছু অংশে সড়কের এক পাশ ধসে পড়েছে। কালীমনের ব্রিজের দুই পাশের কিনারা ভেঙ্গে পড়ে তা যানবহন চলাচলের অনুপোযোগী হয়েছে। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ছোট ছোট যানবাহনগুলো চলাচল করলেও মাঝেমধ্যে দুর্ঘটনার কবলে পড়ছে। যেকোনো সময় ব্রিজটি ভেঙ্গে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তাছাড়া কালীমনের ব্রিজ থেকে জাওরানী পর্যন্ত প্রায় দেড় কিলোমিটার রাস্তা কাঁচা হওয়ায় আরও করুন অবস্থা। স্থানীয়দের অভিযোগ, বর্ষা মৌসুমের শুরু হতে না হতেই সড়কটির অবস্থা আরও খারাপ হয়ে গেছে। কাদা এবং গর্তে ভরা সড়কটি চলাচল করা এখন ঝুঁকির ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। সড়কের এই দুরবস্থার কারণে প্রতিদিন হাজারো মানুষ ভোগান্তির শিকার হচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সড়কের অব্যবস্থাপনার কারণে যাত্রীদের এবং যানবাহনের জন্য চলাচল করা খুব কঠিন হয়ে পড়েছে। স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসার ছাত্র-ছাত্রী, চাকরিজীবী এবং ব্যবসায়ীরা সবাই এই সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন। বিশেষ করে শিশুদের স্কুলে যেতে এবং কর্মজীবীদের অফিসে পৌঁছাতে অনেক সময় ব্যয় হচ্ছে। অনেক পরিবার এখন তাদের কাজের জন্য অন্য পথ অবলম্বন করতে বাধ্য হচ্ছে, যা তাদের জন্য সময় ও অর্থ উভয়েই ক্ষতির কারণ। প্রতিদিনের জীবনে এই সড়ক সমস্যার কারণে স্বাস্থ্যগত ঝুঁকিও বেড়ে গেছে। নীরব দুর্ভোগে বাসিন্দারা অসুস্থ হয়ে পড়ছেন, কারণ তাদের দৈনন্দিন জীবনে হেঁটে চলার জন্য নিরাপদ সড়ক নেই। বিশেষ করে, বৃদ্ধ এবং শিশুদের জন্য এটি খুবই বিপজ্জনক। সড়কের কাদা এবং গর্তের কারণে দুর্ঘটনার আশঙ্কা বাড়ছে। তারা অভিযোগ করছেন যে, সঠিক সময়ে সংস্কার না হওয়ায় এলাকাটি দিনদিন আরও অবহেলিত হয়ে পড়ছে। প্রতি বছর বর্ষাকালে বন্যায় সড়কটি মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এরপর স্থানীয় বাসিন্দারা নিজেদের উদ্যোগে সাময়িকভাবে কিছু অংশ মেরামত করে চলাচলের উপযোগী করার চেষ্টা করেন। তবে তা টেকসই হয় না। এ সড়কটি দিয়ে প্রতিদিন লালমনিরহাট জেলার সবচেয়ে বড় হাট চাপারহাটে আসেন প্রায় দশ লাখ মানুষ। এটি জাওরানী থেকে যাতায়াতের অন্যতম প্রধান পথ। পাশাপাশি এটি সতীরপাড়-বুড়িরহাট-লতাবর-বোতলা হয়ে চন্দ্রপুর বাজার যাওয়ার একমাত্র সংযোগ সড়ক হওয়ায় জটিল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

এ বিষয়ে ভুক্তভোগী এলাকাবাসীর পক্ষে লতাবর গ্রামের বাসিন্দা ও আদিতমারী সরকারি ডিগ্রি কলেজের সহকারী অধ্যাপক ড. মো. হাসানুজ্জামান জুয়েল এর সাথে কথা বললে তিনি জানান, স্বাধীনতার পর বাংলাদেশের অবহেলিত জনপদের মধ্যে এটি অন্যতম। দীর্ঘদিন এই এলাকাটির জনগণ উন্নয়ন বঞ্চিত হয়েছে। বিদ্যুৎ সংযোগ থেকে শুরু করে রাস্তাঘাটের বেহাল অবস্থা থাকলেও ব্যাক্তিগত উদ্যোগে বিদ্যুৎ সমস্যার কিছুটা সমাধান করা হলেও রাস্তাঘাটের উন্নয়ন সম্ভব হয়নি। আশা করছি, বর্তমান সরকার এই অবহেলিত জনপদটির ওপর নজর দিয়ে উন্নয়ন ত্বরান্বিত করবেন।