ঢাকা ১২:০০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং

🌤️ বাংলাদেশের বিভাগসমূহের লাইভ আবহাওয়া

স্কুল ফিডিং চালুর পর লালমনিরহাটে বাড়ছে প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি

লালমনিরহাটের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে ‘মিড ডে মিল’ (স্কুল ফিডিং) কর্মসূচি চালুর পর থেকে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতির হার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। জেলার পাটগ্রাম ও কালীগঞ্জ উপজেলায় গত বছরের ১ ডিসেম্বর থেকে চলমান এই উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের নিয়মিত বিদ্যালয়মুখী করতে বড় ভূমিকা রাখছে।

প্রকল্প সূত্রে জানা যায়, পাটগ্রাম উপজেলার ১৪৫টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ২৫,৩৫৬ জন এবং কালীগঞ্জ উপজেলার ১৬২টি বিদ্যালয়ের ২২,০৪৪ জন শিক্ষার্থীর মাঝে নিয়মিত টিফিন সরবরাহ করা হচ্ছে। শিশুদের পুষ্টির চাহিদা পূরণ, শতভাগ উপস্থিতি নিশ্চিত করা এবং ঝরে পড়ার হার রোধ করাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। কর্মসূচির আওতায় সপ্তাহে ৫ দিন পুষ্টিকর বনরুটি, কলা, ডিম, দুধ ও ফর্টিফাইড বিস্কুট দেওয়া হচ্ছে।

কালীগঞ্জ উপজেলার ভোটমারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আসাদুজ্জামান দুলু বলেন, “আগে দীর্ঘ সময় না খেয়ে ক্লাস করায় শিশুরা ক্ষুধায় পরিশ্রান্ত হয়ে পড়ত এবং বিদ্যালয়ে আসার প্রতি অনীহা দেখাত। এখন পুষ্টিকর ও তাজা খাবার সরবরাহ করায় তাদের উপস্থিতি যেমন বেড়েছে, তেমনি পড়ালেখায় মনোযোগও সুদৃঢ় হয়েছে।”
প্রকল্পটির কারিগরি ও সরবরাহ ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে রয়েছে ‘ইকো সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন’ (ইএসডিএফ)। সংস্থার স্কুল ফিডিং প্রকল্পের জেনারেল ম্যানেজার আশিক আহমেদ জেবাল জানান, সরকারের এই উদ্যোগ বাস্তবায়নে তাদের দল সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে এবং খাবারের গুণগত মান বজায় রাখতে নিয়মিত মাঠ পর্যায়ে তদারকি চালানো হচ্ছে।

পুষ্টিকর টিফিন পেয়ে উচ্ছ্বসিত শিক্ষার্থীরাও। পাটগ্রামের মুন্সীটারি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী ইসরাত জাহান বলে, “আগে টিফিনের সময় ক্ষুধা লাগলে ক্লাসে মন বসত না। এখন নিয়মিত রুটি, ডিম, কলা ও দুধ পাওয়ায় পেট ভরা থাকে, মনোযোগ দিয়ে সব ক্লাস করতে পারি।”
খাবারের মান নিয়ন্ত্রণে বিশেষ জোর দিচ্ছে সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলো। মানসম্মত বনরুটি সরবরাহের দায়িত্বে থাকা ‘আল মদিনা বেকারি অ্যান্ড কনফেকশনারি’-এর স্বত্বাধিকারী খলিলুর রহমান বলেন, “আমাদের নিজস্ব ফুড টেকনোলজিস্ট ও ল্যাবরেটরি রয়েছে। প্রতিদিন বৈজ্ঞানিক পরীক্ষার মাধ্যমে মান নিশ্চিত করার পরেই রুটি বিদ্যালয়ে পাঠানো হয়।”

পাটগ্রাম উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবদুল হামিদ সরকার জানান, টিফিনের বিরতিতে পুষ্টিকর খাবারের নিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় বর্ষাকাল বা প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যেও শিশুদের উপস্থিতির হার বেশ ইতিবাচক। খাবারের বৈচিত্র্য শিশুদের মাঝে আগ্রহ সৃষ্টির পাশাপাশি পুষ্টি নিশ্চিতকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

নিউজ বিজয় ২৪ডট কম/এফএইচএন
আপলোডকারির তথ্য

NewsBijoy24. Com

📰 নিউজবিজয়২৪.কম এমন একটি অনলাইন সংবাদপত্র, যার প্রতিটি শব্দে জড়িয়ে আছে সত্যের অঙ্গীকার ও মানবিকতার দায়বদ্ধতা। এই পত্রিকাটি উৎসর্গ করা হলো আমার পরম শ্রদ্ধেয় মা ও বাবার পবিত্র স্মৃতির উদ্দেশ্যে-যারা আজ এই পৃথিবীতে নেই, কিন্তু তাদের শিক্ষা, আদর্শ ও দোয়ার আলো আজও আমাদের পথ দেখায়। তাদের নিঃস্বার্থ ত্যাগ ও ভালোবাসার প্রেরণায় প্রতিষ্ঠিত এই সংবাদমাধ্যমের লক্ষ্য সত্য প্রকাশ, অন্যায়ের প্রতিবাদ এবং মানুষের পাশে নির্ভীকভাবে দাঁড়ানো। হে আল্লাহ, আমার মা-বাবাকে জান্নাতুল ফেরদৌসে উচ্চ মাকাম দান করুন। আমিন। NewsBijoy24.Com 📰 সত্যের পথে, বিশ্বাসের সাথে।
জনপ্রিয় সংবাদ
⚽ আজকের সেরা ম্যাচগুলো ও লাইভ স্কোর

নির্বাচনে প্রার্থীর ডোপ টেস্ট বাধ্যতামূলক করা প্রশ্নে রুল

স্কুল ফিডিং চালুর পর লালমনিরহাটে বাড়ছে প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি

আপডেট সময় ০৩:০২:২৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

লালমনিরহাটের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে ‘মিড ডে মিল’ (স্কুল ফিডিং) কর্মসূচি চালুর পর থেকে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতির হার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। জেলার পাটগ্রাম ও কালীগঞ্জ উপজেলায় গত বছরের ১ ডিসেম্বর থেকে চলমান এই উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের নিয়মিত বিদ্যালয়মুখী করতে বড় ভূমিকা রাখছে।

🔔 নিউজ বিজয়ের সর্বশেষ খবর পেতে টেলিগ্রাম চ্যানেল জয়েন করুন

প্রকল্প সূত্রে জানা যায়, পাটগ্রাম উপজেলার ১৪৫টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ২৫,৩৫৬ জন এবং কালীগঞ্জ উপজেলার ১৬২টি বিদ্যালয়ের ২২,০৪৪ জন শিক্ষার্থীর মাঝে নিয়মিত টিফিন সরবরাহ করা হচ্ছে। শিশুদের পুষ্টির চাহিদা পূরণ, শতভাগ উপস্থিতি নিশ্চিত করা এবং ঝরে পড়ার হার রোধ করাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। কর্মসূচির আওতায় সপ্তাহে ৫ দিন পুষ্টিকর বনরুটি, কলা, ডিম, দুধ ও ফর্টিফাইড বিস্কুট দেওয়া হচ্ছে।

কালীগঞ্জ উপজেলার ভোটমারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আসাদুজ্জামান দুলু বলেন, “আগে দীর্ঘ সময় না খেয়ে ক্লাস করায় শিশুরা ক্ষুধায় পরিশ্রান্ত হয়ে পড়ত এবং বিদ্যালয়ে আসার প্রতি অনীহা দেখাত। এখন পুষ্টিকর ও তাজা খাবার সরবরাহ করায় তাদের উপস্থিতি যেমন বেড়েছে, তেমনি পড়ালেখায় মনোযোগও সুদৃঢ় হয়েছে।”
প্রকল্পটির কারিগরি ও সরবরাহ ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে রয়েছে ‘ইকো সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন’ (ইএসডিএফ)। সংস্থার স্কুল ফিডিং প্রকল্পের জেনারেল ম্যানেজার আশিক আহমেদ জেবাল জানান, সরকারের এই উদ্যোগ বাস্তবায়নে তাদের দল সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে এবং খাবারের গুণগত মান বজায় রাখতে নিয়মিত মাঠ পর্যায়ে তদারকি চালানো হচ্ছে।

পুষ্টিকর টিফিন পেয়ে উচ্ছ্বসিত শিক্ষার্থীরাও। পাটগ্রামের মুন্সীটারি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী ইসরাত জাহান বলে, “আগে টিফিনের সময় ক্ষুধা লাগলে ক্লাসে মন বসত না। এখন নিয়মিত রুটি, ডিম, কলা ও দুধ পাওয়ায় পেট ভরা থাকে, মনোযোগ দিয়ে সব ক্লাস করতে পারি।”
খাবারের মান নিয়ন্ত্রণে বিশেষ জোর দিচ্ছে সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলো। মানসম্মত বনরুটি সরবরাহের দায়িত্বে থাকা ‘আল মদিনা বেকারি অ্যান্ড কনফেকশনারি’-এর স্বত্বাধিকারী খলিলুর রহমান বলেন, “আমাদের নিজস্ব ফুড টেকনোলজিস্ট ও ল্যাবরেটরি রয়েছে। প্রতিদিন বৈজ্ঞানিক পরীক্ষার মাধ্যমে মান নিশ্চিত করার পরেই রুটি বিদ্যালয়ে পাঠানো হয়।”

পাটগ্রাম উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবদুল হামিদ সরকার জানান, টিফিনের বিরতিতে পুষ্টিকর খাবারের নিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় বর্ষাকাল বা প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যেও শিশুদের উপস্থিতির হার বেশ ইতিবাচক। খাবারের বৈচিত্র্য শিশুদের মাঝে আগ্রহ সৃষ্টির পাশাপাশি পুষ্টি নিশ্চিতকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।