প্রাপ্তবয়স্কদের সাধারণত প্রতিদিন প্রায় ৭ থেকে ৯ ঘণ্টা ঘুমের পরামর্শ দেওয়া হয়। বয়স, শারীরিক অবস্থা ও ব্যক্তিভেদে প্রয়োজন কিছুটা কমবেশি হতে পারে।
তাই শুধু ঘুমের সময় নয়, ঘুমের মান, নিয়মিত জীবনযাপন এবং শারীরিক সক্রিয়তার দিকেও নজর দেওয়া জরুরি।
দীর্ঘদিন ধরে ৯ ঘণ্টার বেশি ঘুমানোর প্রয়োজন হলে, ঘুম থেকে ওঠার পরও অতিরিক্ত ক্লান্তি থাকলে বা দিনের বেশিরভাগ সময় ঘুমঘুম ভাব থাকলে বিষয়টি অবহেলা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
সুস্থ থাকার জন্য পর্যাপ্ত ঘুমের পাশাপাশি নিয়মিত হাঁটা বা শরীরচর্চা, সুষম খাদ্যাভ্যাস এবং সক্রিয় জীবনযাপনও জরুরি।
সুস্থ শরীর ও স্বাভাবিক জীবনযাপনের জন্য পর্যাপ্ত ঘুম অত্যন্ত জরুরি।
তবে ঘুমের ঘাটতি যেমন শরীর ও মনের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে, তেমনি নিয়মিত অতিরিক্ত ঘুম এবং শারীরিক নিষ্ক্রিয়তাও ডেকে আনতে পারে নানা স্বাস্থ্যঝুঁকি। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় এমনই সতর্কবার্তা উঠে এসেছে।
গবেষণায় দেখা গেছে, যারা প্রতিদিন দীর্ঘ সময় ঘুমান এবং একই সঙ্গে শারীরিকভাবে কম সক্রিয় থাকেন, তাদের অকালমৃত্যুর ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে। বিশেষ করে দিনে ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা ঘুমানোর পাশাপাশি যারা অলস জীবনযাপন করেন, তাদের ক্ষেত্রে এই ঝুঁকি অন্যদের তুলনায় প্রায় চারগুণ পর্যন্ত বেশি হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘ সময় ঘুমানোর সঙ্গে শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা যুক্ত হলে হৃদরোগ, ডায়াবেটিস ও স্থূলতার মতো বিভিন্ন দীর্ঘমেয়াদি রোগের ঝুঁকি বাড়তে পারে। বিশ্বজুড়ে অসংক্রামক রোগে বিপুলসংখ্যক মানুষের মৃত্যু হচ্ছে। তাই ঘুমের সময়ের পাশাপাশি নিয়মিত শরীরচর্চা ও সক্রিয় জীবনযাপনও সুস্থ থাকার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
অতিরিক্ত ঘুমে যেসব সমস্যা হতে পারে
বিষণ্ণতা ও মানসিক সমস্যার ঝুঁকি
দীর্ঘ সময় ঘুমানোর সঙ্গে মানসিক স্বাস্থ্যের বিভিন্ন সমস্যার সম্পর্ক পাওয়া গেছে। ২০১৮ সালের একটি গবেষণায় দেখা যায়, যারা নিয়মিত ১০ ঘণ্টা বা তার বেশি সময় ঘুমান, তাদের মধ্যে বিষণ্ণতার লক্ষণ তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যেতে পারে। তবে অতিরিক্ত ঘুম বিষণ্ণতার সরাসরি কারণ—এমন সিদ্ধান্তে যাওয়ার আগে আরও গবেষণা প্রয়োজন।
কর্মক্ষমতা কমতে পারে
অতিরিক্ত ঘুমের ফলে ঘুম থেকে ওঠার পরও অনেকের মধ্যে অলসতা, ঝিমুনি ও ক্লান্তি থাকতে পারে। এতে দৈনন্দিন কাজের প্রতি আগ্রহ ও কর্মক্ষমতা কমে যেতে পারে। দীর্ঘদিন এমন জীবনযাপন শারীরিক নিষ্ক্রিয়তাকেও বাড়িয়ে দিতে পারে।
ওজন বাড়ার আশঙ্কা
দীর্ঘ সময় ঘুমানো এবং কম শারীরিক পরিশ্রমের ফলে দৈনন্দিন ক্যালরি খরচ কমে যেতে পারে। এর সঙ্গে অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাস যুক্ত হলে ওজন বৃদ্ধি ও স্থূলতার ঝুঁকি বাড়তে পারে। তবে শুধু বেশি ঘুমের কারণেই ওজন বাড়ে-এমন সরল সম্পর্ক সব ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।
হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়তে পারে
নিয়মিত দীর্ঘ সময় ঘুমানোর সঙ্গে হৃদরোগের ঝুঁকির সম্পর্ক বিভিন্ন গবেষণায় উঠে এসেছে। বিশেষ করে যারা দীর্ঘ সময় ঘুমান এবং শারীরিকভাবে সক্রিয় নন, তাদের মধ্যে হৃদ্রোগসহ বিভিন্ন কার্ডিওভাসকুলার সমস্যার ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি দেখা যেতে পারে।
অকালমৃত্যুর ঝুঁকি বাড়তে পারে
বিভিন্ন গবেষণায় দীর্ঘ সময় ঘুমানোর সঙ্গে মৃত্যুঝুঁকি বৃদ্ধির একটি সম্পর্ক পাওয়া গেছে। প্রায় ১৪ লাখ মানুষের ওপর পরিচালিত গবেষণাগুলোর সমন্বিত বিশ্লেষণে দেখা গেছে, অতিরিক্ত ঘুমানো ব্যক্তিদের মধ্যে অকালমৃত্যুর ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে কিছুটা বেশি হতে পারে।
তবে গবেষণাগুলো মূলত সম্পর্ক বা association দেখায়; অতিরিক্ত ঘুমই যে সরাসরি অকালমৃত্যুর কারণ, তা নিশ্চিতভাবে বলা যায় না। দীর্ঘ ঘুমের পেছনে বিষণ্ণতা, স্থূলতা, হৃদরোগ, ঘুমের ব্যাধি বা অন্যান্য শারীরিক সমস্যাও ভূমিকা রাখতে পারে।
অনলাইন ডেস্ক : 
































