ঢাকা ০৫:৩০ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং
হোম

🌤️ বাংলাদেশের বিভাগসমূহের লাইভ আবহাওয়া

জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস আজ

আজ ৭ নভেম্বর, জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস। স্বাধীন বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে তাৎপর্যপূর্ণ ও ঘটনাবহুল একটি দিন। ১৯৭৫ সালের এই দিনে সিপাহি-জনতার ঐতিহাসিক অভ্যুত্থানে দেশের রাজনৈতিক গতিপথে বড় ধরনের পরিবর্তন আসে। সংকটময় রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে সেনাসদস্য ও সাধারণ মানুষের সম্মিলিত অংশগ্রহণে সংঘটিত এ ঘটনা বাংলাদেশের ইতিহাসে বিশেষ স্থান করে নিয়েছে।
দিবসটি কেবল ক্ষমতার পালাবদলের ঘটনা নয়, বরং দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, জাতীয় ঐক্য ও রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে এক গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক অধ্যায়। প্রতিবছর বিএনপি দিনটিকে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস হিসেবে পালন করে। এবার দীর্ঘ বিরতির পর ব্যাপক কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দিবসটি উদযাপনের প্রস্তুতি নিয়েছে দলটি।
যেভাবে সংঘটিত হয়েছিল ৭ নভেম্বরের বিপ্লব১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সপরিবারে নিহত হওয়ার পর দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ক্রমেই অস্থিতিশীল হয়ে ওঠে। ৩ নভেম্বর ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে জাতীয় চার নেতাকে হত্যার ঘটনার পর সেনাবাহিনীর অভ্যন্তরীণ উত্তেজনা আরও বাড়ে।
এ পরিস্থিতিতে সেনাবাহিনীর তৎকালীন উপপ্রধান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল খালেদ মোশাররফের নেতৃত্বে একটি অভ্যুত্থান সংঘটিত হয়। ওই অভ্যুত্থানে সেনাপ্রধান মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমানকে ঢাকা সেনানিবাসের বাসভবনে গৃহবন্দি করা হয়।
খালেদ মোশাররফ নিজেকে সেনাপ্রধান ঘোষণা করেন। পরে রাষ্ট্রপতি খন্দকার মোশতাক আহমেদকে গ্রেপ্তার, মন্ত্রিসভা বাতিল ও জাতীয় সংসদ ভেঙে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়। প্রধান বিচারপতি আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েম রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
এ অবস্থায় ৬ নভেম্বর দিবাগত রাতে সেনাবাহিনীর সাধারণ সিপাহিরা সংগঠিত হয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। তাদের সঙ্গে সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত সমর্থন যুক্ত হলে ৭ নভেম্বরের অভ্যুত্থান নতুন মাত্রা পায়। বন্দিদশা থেকে মুক্ত হন জিয়াউর রহমান। পাল্টা অভ্যুত্থানের সময় খালেদ মোশাররফ ও তাঁর কয়েকজন সহযোগী নিহত হন। পরবর্তী সময়ে জিয়াউর রহমান দেশের রাজনৈতিক ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে আসেন।
বিএনপির সপ্তাহব্যাপী কর্মসূচিজাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনগুলো ৫ থেকে ১১ নভেম্বর পর্যন্ত সপ্তাহব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা করেছে।
মূল কর্মসূচির অংশ হিসেবে আজ শনিবার বিকেল ৩টায় রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে বর্ণাঢ্য র‍্যালির উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। গতকাল শুক্রবার নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
তিনি জানান, দেশের অধিকাংশ জেলা ও মহানগরে দিবসটি উপলক্ষে র‍্যালি অনুষ্ঠিত হবে। ঢাকার র‍্যালিটি নয়াপল্টন থেকে শুরু হয়ে কাকরাইল, হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল মোড়, বাংলামোটর ও ফার্মগেট হয়ে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে গিয়ে শেষ হবে।
এর আগে সকাল সাড়ে ৮টায় শেরেবাংলা নগরে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কবরে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা জানাবেন প্রধানমন্ত্রীসহ দলের জ্যেষ্ঠ নেতারা।
এ ছাড়া বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে আলোচনা সভা, আলোকচিত্র প্রদর্শনী ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। ১০ নভেম্বর যুবদলের আলোচনা সভা, ৯ নভেম্বর কৃষক দলের আলোচনা সভা এবং একই দিন জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থার (জাসাস) উদ্যোগে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে।
ছাত্রদল ৭ নভেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে আলোকচিত্র প্রদর্শনী এবং ৮ নভেম্বর আলোচনা সভার আয়োজন করবে। ওলামা দল এতিম শিক্ষার্থীদের মধ্যে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ করবে। ৮ নভেম্বর দেশের বিভিন্ন থানা ও উপজেলা পর্যায়েও র‍্যালি করবে বিএনপি।
রাষ্ট্রপতির বাণী: ঐক্যবদ্ধভাবে দুর্নীতি ও বৈষম্য প্রতিরোধের আহ্বানজাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে দেওয়া বাণীতে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দেশের সব নাগরিককে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। একই সঙ্গে ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের সিপাহি-জনতার বিপ্লবে অংশগ্রহণকারী বীর সেনানী ও দেশপ্রেমিক জনতার প্রতি শ্রদ্ধা জানান তিনি।
বাণীতে রাষ্ট্রপতি বলেন, ৭ নভেম্বরের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে দলমত নির্বিশেষে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে দুর্নীতি, বৈষম্য ও সব ধরনের ষড়যন্ত্রের অবসানে কাজ করতে হবে। ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ দর্শনের ভিত্তিতে রাষ্ট্র পরিচালিত হবে। জাতীয় স্বার্থ, সাম্য, ন্যায্যতা ও গণতন্ত্রচর্চা পাবে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।
তিনি আরও বলেন, জাতীয় জীবনে বিপ্লব ও সংহতির গুরুত্ব অপরিসীম। দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখতে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানসহ রাষ্ট্রের সব প্রতিষ্ঠানকে আরও শক্তিশালী করা জরুরি।
প্রধানমন্ত্রীর বাণী: স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় ঐক্যের গুরুত্বদিবসটি উপলক্ষে দেওয়া বাণীতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ১৯৭৫ সালের ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বরের সিপাহি-জনতার বিপ্লব বাংলাদেশের পথ নির্ধারণ করেছিল।
তিনি বলেন, যারা বাংলাদেশকে তাঁবেদার রাষ্ট্রে পরিণত করতে চেয়েছিল, জনগণের গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক অধিকার হরণ করে একদলীয় স্বৈরাচারী শাসন প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিল এবং সেনাবাহিনীর গৌরব ক্ষুণ্ন করতে চেয়েছিল, দেশপ্রেমিক সিপাহি-জনতার ঐতিহাসিক বিপ্লবের মাধ্যমে তাদের পরাজয় ঘটেছিল।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ৭ নভেম্বর সিপাহি-জনতা ঐক্যবদ্ধভাবে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে সব চক্রান্ত রুখে দিয়েছিল। বাংলাদেশের ইতিহাসে দিনটি ছিল শত্রু-মিত্র চিহ্নিত করার এক ঐতিহাসিক দিন।
রাজনৈতিক ইতিহাসে ৭ নভেম্বরের তাৎপর্য১৯৭৫ সালের নভেম্বরের ঘটনাপ্রবাহ বাংলাদেশের রাজনীতিতে সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলে। এ সময়ের পটপরিবর্তনের মধ্য দিয়ে জিয়াউর রহমান রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার কেন্দ্রে চলে আসেন। পরবর্তী সময়ে তাঁর নেতৃত্বে দেশের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক কাঠামোয় বিভিন্ন পরিবর্তন আসে।
বিএনপি ৭ নভেম্বরকে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস হিসেবে পালন করে আসছে। দলটির কাছে দিনটি জাতীয় ঐক্য, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার প্রতীক। অন্যদিকে, বাংলাদেশের ইতিহাসে এ দিনের ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে রাজনৈতিক ও ঐতিহাসিক মহলে বিভিন্ন মূল্যায়ন রয়েছে।
সব মিলিয়ে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে আজ রাজধানীসহ সারা দেশে বিভিন্ন কর্মসূচি পালিত হচ্ছে। দিবসটি ঘিরে জাতীয় ঐক্য, গণতন্ত্র, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্ন নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

নিউজ বিজয় ২৪ডট কম/এফএইচএন
আপলোডকারির তথ্য

NewsBijoy24. Com

📰 নিউজবিজয়২৪.কম এমন একটি অনলাইন সংবাদপত্র, যার প্রতিটি শব্দে জড়িয়ে আছে সত্যের অঙ্গীকার ও মানবিকতার দায়বদ্ধতা। এই পত্রিকাটি উৎসর্গ করা হলো আমার পরম শ্রদ্ধেয় মা ও বাবার পবিত্র স্মৃতির উদ্দেশ্যে-যারা আজ এই পৃথিবীতে নেই, কিন্তু তাদের শিক্ষা, আদর্শ ও দোয়ার আলো আজও আমাদের পথ দেখায়। তাদের নিঃস্বার্থ ত্যাগ ও ভালোবাসার প্রেরণায় প্রতিষ্ঠিত এই সংবাদমাধ্যমের লক্ষ্য সত্য প্রকাশ, অন্যায়ের প্রতিবাদ এবং মানুষের পাশে নির্ভীকভাবে দাঁড়ানো। হে আল্লাহ, আমার মা-বাবাকে জান্নাতুল ফেরদৌসে উচ্চ মাকাম দান করুন। আমিন। NewsBijoy24.Com 📰 সত্যের পথে, বিশ্বাসের সাথে।
জনপ্রিয় সংবাদ
⚽ আজকের সেরা ম্যাচগুলো ও লাইভ স্কোর

হাতীবান্ধায় জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালিত, আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত

জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস আজ

আপডেট সময় ০৯:৪৯:১৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৭ নভেম্বর ২০২৬

আজ ৭ নভেম্বর, জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস। স্বাধীন বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে তাৎপর্যপূর্ণ ও ঘটনাবহুল একটি দিন। ১৯৭৫ সালের এই দিনে সিপাহি-জনতার ঐতিহাসিক অভ্যুত্থানে দেশের রাজনৈতিক গতিপথে বড় ধরনের পরিবর্তন আসে। সংকটময় রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে সেনাসদস্য ও সাধারণ মানুষের সম্মিলিত অংশগ্রহণে সংঘটিত এ ঘটনা বাংলাদেশের ইতিহাসে বিশেষ স্থান করে নিয়েছে।
দিবসটি কেবল ক্ষমতার পালাবদলের ঘটনা নয়, বরং দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, জাতীয় ঐক্য ও রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে এক গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক অধ্যায়। প্রতিবছর বিএনপি দিনটিকে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস হিসেবে পালন করে। এবার দীর্ঘ বিরতির পর ব্যাপক কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দিবসটি উদযাপনের প্রস্তুতি নিয়েছে দলটি।
যেভাবে সংঘটিত হয়েছিল ৭ নভেম্বরের বিপ্লব১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সপরিবারে নিহত হওয়ার পর দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ক্রমেই অস্থিতিশীল হয়ে ওঠে। ৩ নভেম্বর ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে জাতীয় চার নেতাকে হত্যার ঘটনার পর সেনাবাহিনীর অভ্যন্তরীণ উত্তেজনা আরও বাড়ে।
এ পরিস্থিতিতে সেনাবাহিনীর তৎকালীন উপপ্রধান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল খালেদ মোশাররফের নেতৃত্বে একটি অভ্যুত্থান সংঘটিত হয়। ওই অভ্যুত্থানে সেনাপ্রধান মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমানকে ঢাকা সেনানিবাসের বাসভবনে গৃহবন্দি করা হয়।
খালেদ মোশাররফ নিজেকে সেনাপ্রধান ঘোষণা করেন। পরে রাষ্ট্রপতি খন্দকার মোশতাক আহমেদকে গ্রেপ্তার, মন্ত্রিসভা বাতিল ও জাতীয় সংসদ ভেঙে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়। প্রধান বিচারপতি আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েম রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
এ অবস্থায় ৬ নভেম্বর দিবাগত রাতে সেনাবাহিনীর সাধারণ সিপাহিরা সংগঠিত হয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। তাদের সঙ্গে সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত সমর্থন যুক্ত হলে ৭ নভেম্বরের অভ্যুত্থান নতুন মাত্রা পায়। বন্দিদশা থেকে মুক্ত হন জিয়াউর রহমান। পাল্টা অভ্যুত্থানের সময় খালেদ মোশাররফ ও তাঁর কয়েকজন সহযোগী নিহত হন। পরবর্তী সময়ে জিয়াউর রহমান দেশের রাজনৈতিক ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে আসেন।
বিএনপির সপ্তাহব্যাপী কর্মসূচিজাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনগুলো ৫ থেকে ১১ নভেম্বর পর্যন্ত সপ্তাহব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা করেছে।
মূল কর্মসূচির অংশ হিসেবে আজ শনিবার বিকেল ৩টায় রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে বর্ণাঢ্য র‍্যালির উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। গতকাল শুক্রবার নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
তিনি জানান, দেশের অধিকাংশ জেলা ও মহানগরে দিবসটি উপলক্ষে র‍্যালি অনুষ্ঠিত হবে। ঢাকার র‍্যালিটি নয়াপল্টন থেকে শুরু হয়ে কাকরাইল, হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল মোড়, বাংলামোটর ও ফার্মগেট হয়ে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে গিয়ে শেষ হবে।
এর আগে সকাল সাড়ে ৮টায় শেরেবাংলা নগরে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কবরে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা জানাবেন প্রধানমন্ত্রীসহ দলের জ্যেষ্ঠ নেতারা।
এ ছাড়া বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে আলোচনা সভা, আলোকচিত্র প্রদর্শনী ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। ১০ নভেম্বর যুবদলের আলোচনা সভা, ৯ নভেম্বর কৃষক দলের আলোচনা সভা এবং একই দিন জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থার (জাসাস) উদ্যোগে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে।
ছাত্রদল ৭ নভেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে আলোকচিত্র প্রদর্শনী এবং ৮ নভেম্বর আলোচনা সভার আয়োজন করবে। ওলামা দল এতিম শিক্ষার্থীদের মধ্যে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ করবে। ৮ নভেম্বর দেশের বিভিন্ন থানা ও উপজেলা পর্যায়েও র‍্যালি করবে বিএনপি।
রাষ্ট্রপতির বাণী: ঐক্যবদ্ধভাবে দুর্নীতি ও বৈষম্য প্রতিরোধের আহ্বানজাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে দেওয়া বাণীতে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দেশের সব নাগরিককে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। একই সঙ্গে ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের সিপাহি-জনতার বিপ্লবে অংশগ্রহণকারী বীর সেনানী ও দেশপ্রেমিক জনতার প্রতি শ্রদ্ধা জানান তিনি।
বাণীতে রাষ্ট্রপতি বলেন, ৭ নভেম্বরের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে দলমত নির্বিশেষে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে দুর্নীতি, বৈষম্য ও সব ধরনের ষড়যন্ত্রের অবসানে কাজ করতে হবে। ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ দর্শনের ভিত্তিতে রাষ্ট্র পরিচালিত হবে। জাতীয় স্বার্থ, সাম্য, ন্যায্যতা ও গণতন্ত্রচর্চা পাবে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।
তিনি আরও বলেন, জাতীয় জীবনে বিপ্লব ও সংহতির গুরুত্ব অপরিসীম। দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখতে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানসহ রাষ্ট্রের সব প্রতিষ্ঠানকে আরও শক্তিশালী করা জরুরি।
প্রধানমন্ত্রীর বাণী: স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় ঐক্যের গুরুত্বদিবসটি উপলক্ষে দেওয়া বাণীতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ১৯৭৫ সালের ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বরের সিপাহি-জনতার বিপ্লব বাংলাদেশের পথ নির্ধারণ করেছিল।
তিনি বলেন, যারা বাংলাদেশকে তাঁবেদার রাষ্ট্রে পরিণত করতে চেয়েছিল, জনগণের গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক অধিকার হরণ করে একদলীয় স্বৈরাচারী শাসন প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিল এবং সেনাবাহিনীর গৌরব ক্ষুণ্ন করতে চেয়েছিল, দেশপ্রেমিক সিপাহি-জনতার ঐতিহাসিক বিপ্লবের মাধ্যমে তাদের পরাজয় ঘটেছিল।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ৭ নভেম্বর সিপাহি-জনতা ঐক্যবদ্ধভাবে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে সব চক্রান্ত রুখে দিয়েছিল। বাংলাদেশের ইতিহাসে দিনটি ছিল শত্রু-মিত্র চিহ্নিত করার এক ঐতিহাসিক দিন।
রাজনৈতিক ইতিহাসে ৭ নভেম্বরের তাৎপর্য১৯৭৫ সালের নভেম্বরের ঘটনাপ্রবাহ বাংলাদেশের রাজনীতিতে সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলে। এ সময়ের পটপরিবর্তনের মধ্য দিয়ে জিয়াউর রহমান রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার কেন্দ্রে চলে আসেন। পরবর্তী সময়ে তাঁর নেতৃত্বে দেশের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক কাঠামোয় বিভিন্ন পরিবর্তন আসে।
বিএনপি ৭ নভেম্বরকে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস হিসেবে পালন করে আসছে। দলটির কাছে দিনটি জাতীয় ঐক্য, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার প্রতীক। অন্যদিকে, বাংলাদেশের ইতিহাসে এ দিনের ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে রাজনৈতিক ও ঐতিহাসিক মহলে বিভিন্ন মূল্যায়ন রয়েছে।
সব মিলিয়ে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে আজ রাজধানীসহ সারা দেশে বিভিন্ন কর্মসূচি পালিত হচ্ছে। দিবসটি ঘিরে জাতীয় ঐক্য, গণতন্ত্র, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্ন নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

🔔 নিউজ বিজয়ের সর্বশেষ খবর পেতে টেলিগ্রাম চ্যানেল জয়েন করুন