মাদক, বাল্যবিবাহ, যৌতুক, জুয়া ও সামাজিক অবক্ষয়মুক্ত সচেতন, মানবিক ও সমৃদ্ধ লালমনিরহাট গড়ে তোলার লক্ষ্যে হাতীবান্ধায় ‘আলোকিত লালমনিরহাট’ কর্মসূচির অবহিতকরণ সভা ও সচেতনতামূলক র্যালি অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) হাতীবান্ধা উপজেলার ৪ নম্বর টংভাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে মাদক নির্মূল, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ, তরুণ প্রজন্মকে অপরাধ থেকে দূরে রাখা এবং সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়।
সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন হাতীবান্ধা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দীপজন মিত্র। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিএনপি নেতা সাহেদুজ্জামান কোয়েল, মোহাম্মদ জালাল উদ্দিন, শাহাজাদ ফেরদৌস কিঞ্জল ও মোহাম্মদ আশরাফ আলীসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, মাদক ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেয়। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মকে মাদকের ভয়াবহ ছোবল থেকে রক্ষা করতে প্রশাসনিক তৎপরতার পাশাপাশি সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, জনপ্রতিনিধি ও সচেতন নাগরিকদের সম্মিলিত উদ্যোগ ছাড়া মাদকমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়।
বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ প্রসঙ্গে বক্তারা বলেন, বাল্যবিবাহ একটি মেয়ের শিক্ষাজীবন, স্বাভাবিক বেড়ে ওঠা, শারীরিক ও মানসিক বিকাশ এবং ভবিষ্যৎ সম্ভাবনাকে বাধাগ্রস্ত করে। তাই বাল্যবিবাহের কুফল সম্পর্কে অভিভাবকদের সচেতন করার পাশাপাশি প্রতিটি গ্রাম ও পাড়া-মহল্লায় সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। কোথাও বাল্যবিবাহের আয়োজনের খবর পাওয়া গেলে দ্রুত প্রশাসনকে অবহিত করার আহ্বান জানানো হয়।
বক্তারা আরও বলেন, একটি আলোকিত সমাজ গড়ে তুলতে হলে মানুষের চিন্তা-চেতনা, বিবেক ও নৈতিক মূল্যবোধের পরিবর্তন জরুরি। মাদক, বাল্যবিবাহ, যৌতুক, জুয়া ও অন্যান্য সামাজিক অপরাধের বিরুদ্ধে ঘরে ঘরে সচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে। পাশাপাশি তরুণ প্রজন্মকে খেলাধুলা, শিক্ষা, সংস্কৃতি ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করতে হবে।
তাঁরা বলেন, শুধু আইন প্রয়োগের মাধ্যমে সামাজিক অপরাধ নির্মূল করা সম্ভব নয়; এর জন্য প্রয়োজন পারিবারিক সচেতনতা, নৈতিক শিক্ষা এবং সর্বস্তরের মানুষের সম্মিলিত অংশগ্রহণ। এ ক্ষেত্রে প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, শিক্ষক, ধর্মীয় নেতা ও অভিভাবকদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
সভা শেষে মাদক, বাল্যবিবাহ ও সামাজিক অপরাধের বিরুদ্ধে জনসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে একটি র্যালি বের করা হয়। র্যালিটি ইউনিয়ন পরিষদ প্রাঙ্গণ থেকে শুরু হয়ে লালমনিরহাট-বুড়িমারী মহাসড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় ইউনিয়ন পরিষদে এসে শেষ হয়।
‘আলোকিত লালমনিরহাট’ কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য হলো জেলার প্রতিটি এলাকায় ইতিবাচক সামাজিক পরিবর্তন সৃষ্টি, অপরাধ প্রতিরোধে জনসম্পৃক্ততা বৃদ্ধি এবং একটি নিরাপদ, সুন্দর ও মানবিক সমাজ প্রতিষ্ঠা করা। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে ইউনিয়ন ও গ্রাম পর্যায়ে ধারাবাহিক সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয় ।
মাদক ও বাল্যবিবাহমুক্ত সমাজ গড়তে হাতীবান্ধায় ‘আলোকিত লালমনিরহাটের’ অবহিতকরণ সভা ও র্যালি অনুষ্ঠিত
-
মোঃ নজরুল ইসলাম - আপডেট সময় ০৫:১৫:৪৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬
- 8




























