ঢাকা ১২:২৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬, ২৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং

🌤️ বাংলাদেশের বিভাগসমূহের লাইভ আবহাওয়া

‘হারিয়ে যাওয়া সম্মান কি ফিরিয়ে দেবে রাষ্ট্র?’

পাঁচ বছর আগে রাজধানীর বনানীর বাসায় র‍্যাবের অভিযানে গ্রেপ্তার হওয়ার ঘটনাটি ‘সম্পূর্ণ বেআইনি’ বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকাই সিনেমার আলোচিত নায়িকা শামসুন্নাহার স্মৃতি পরীমনি।

তিনি দাবি করেছেন ২০২১ সালের ৪ আগস্ট তাকে ‘বিশেষ মহলের স্বার্থে’ এবং মিথ্যা ও বানোয়াট মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।

দীর্ঘদিন বিষয়টি নিয়ে চুপচাপ থেকেছেন পরীমনি। বিভিন্ন অনুষ্ঠান বা টক শোতে ওই গ্রেপ্তার নিয়ে প্রশ্ন এড়িয়ে গেছেন। কয়েক বছর আগে কলকাতায় বাংলা দৈনিক আনন্দবাজারের একটি অনুষ্ঠানেও গ্রেপ্তার নিয়ে প্রশ্নে পরীমনি বলেছিলেন, ‘সময় হলে এই বিষয়ে লিখবেন তিনি’।

এবার পরীমনি লিখেছেন। ফেইবুকে শুক্রবার রাত ১২টা ২০ মিনিটে এক দীর্ঘ পোস্টে গ্রেপ্তার, মামলা, রিমান্ড নিয়ে নিজের বক্তব্য তুলে ধরেছেন তিনি।

এই অভিনেত্রীর ভাষ্য গ্রেপ্তারের দিন থেকে এখন পর্যন্ত তিনি সেই ঘটনার একজন ভুক্তভোগী হয়েই জীবন কাটাচ্ছেন।

ওই ঘটনায় তার ব্যক্তিগত, সামাজিক ও পেশাগত জীবন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে অভিযোগ করে পরীমনি রাষ্ট্রের কাছে একটি প্রশ্ন রেখেছেন।

তিনি জানতে চেয়েছেন, হারিয়ে যাওয়া সম্মান, মানসিক শান্তি ও জীবনের সেই সময়গুলো আদৌ ফিরিয়ে দেওয়া সম্ভব কি না।

পোস্টের শুরুতে পরীমনি র‍্যাবের সাবেক গোয়েন্দাপ্রধান লেফটেন্যান্ট কর্নেল খাইরুল ইসলামকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন।

গোয়েন্দাপ্রধান লেফটেন্যান্ট কর্নেল খাইরুল ইসলামকে উদ্দেশ্য করে পরীমনি বলেন, “সম্প্রতি একটি অনলাইন টকশোতে দেরিতে হলেও আপনি এমন কিছু সত্য প্রকাশ্যে স্বীকার করেছেন, যার মাধ্যমে দেশের মানুষ জানতে পারলো যে ২০২১ সালের ৪ অগাস্ট বনানীতে আমার বাসায় দীর্ঘ সময় অভিযান চালানোর নামে নাটকীয়তার পর তৎকালীন র‍্যাব প্রধান ও সাবেক আইজিপি চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুনের নির্দেশে আমাকে অন্যায়ভাবে, সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে এবং বিশেষ মহলের স্বার্থসংশ্লিষ্ট কারণে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।”

গ্রেপ্তার, রিমান্ড ও কারাবাসের অভিজ্ঞতা তাকে কতটা ‘ক্ষতবিক্ষত’ করেছে তা লেখায় তুলে ধরেছেন পরীমনি। কিন্তু তার বিশ্বাস ছিল, ‘সত্য চাপা রাখা যায় না’।

“পরবর্তীতে মিথ্যা ও বানোয়াট মামলায় আমাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে ৭ দিনের রিমান্ড টানা ২০ দিন কারাগারে রাখা হয়েছিল। সেই সময়ের অভিজ্ঞতা আমার জীবনকে কতটা ক্ষতিগ্রস্ত ও বিপর্যস্ত করেছে, তা আল্লাহ আর আমি ছাড়া পৃথিবীর আর কারও পক্ষে পুরোপুরি বোঝা সম্ভব নয়।

তবুও আমি বিশ্বাস করি, সত্য একদিন না একদিন প্রকাশিত হয়। সময় লাগতে পারে, কিন্তু সত্যকে চিরদিন চাপা রাখা যায় না।”

পরীমনির ভাষ্য, গ্রেপ্তারের দিন থেকে এ পর্যন্ত তিনি সেই ঘটনার একজন ভুক্তভোগী হয়েই জীবন কাটাচ্ছেন। তার অভিযোগ রাষ্ট্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ বাহিনীকে ব্যবহার করে একজন নারী শিল্পীর জীবনকে বিপর্যস্ত করা হয়েছে।

তিনি লিখেছেন, “যেভাবে আমাকে অপদস্থ করা হয়েছে, আমার সম্মান, নৈতিকতা এবং চরিত্রকে প্রশ্নবিদ্ধ করা হয়েছে, তা বাংলাদেশের ইতিহাসে এক বেদনাদায়ক অধ্যায় হয়ে থাকবে। রাষ্ট্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ বাহিনীকে ব্যবহার করে একজন সাধারণ নারী শিল্পীর জীবনকে যেভাবে বিপর্যস্ত করা হয়েছে, আমি শুধু চাই ভবিষ্যতে আর কোনো নির্দোষ মানুষ যেন এমন অভিজ্ঞতার শিকার না হন।

ক্ষতিগ্রস্ত ও বিপর্যস্ত করেছে, তা আল্লাহ আর আমি ছাড়া পৃথিবীর আর কারও পক্ষে পুরোপুরি বোঝা সম্ভব নয়।”

প্রতিশোধ হয়, পরীমনি বলেছেন তার অবস্থান ন্যায়ের পক্ষে।

“এতোগুলা দিন পর আমি কোনো ক্ষোভ বা প্রতিশোধের কথা বলতে চাই না। আমি শুধু সত্য, ন্যায়বিচার এবং মানবিকতার পক্ষে কথা বলতে চাই।”

মামলা থেকে রেহাই পাওয়ার আকুতি জানিয়ে রাষ্ট্রের কাছে একটি প্রশ্ন রেখেছেন পরীমনি।

তিনি বলেন, “এবার হয়ত রাষ্ট্রী সেই সাজানো মামলা থেকে মাননীয় আদালত আমাকে অব্যাহতি দিবেন। কিন্তু আমার সেই দিনগুলো কি ফিরিয়ে দেওয়া সম্ভব? যে জীবন, যে সম্মান, যে মানসিক শান্তি আমি হারিয়েছি, তা কি আর কখনো ফিরে পাব? মানুষের মনে আমাকে নিয়ে যে অসত্য, বিভ্রান্তিকর ও বিতর্কিত ধারণা তৈরি করা হয়েছে, রাষ্ট্র কি তার দায় নেবে? রাষ্ট্রের কাছে আমি এই প্রশ্নগুলোর জবাব চাইলে কি দিতে পারবেন?”

পরীমনির কথায়, “আমি কখনো চাইনি আমার পরিচয় একজন বিতর্কিত মানুষ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হোক। আমি সব সময় একজন শিল্পী হিসেবে মানুষের ভালোবাসা নিয়েই বেঁচে থাকতে চেয়েছি। কিন্তু একটি ঘটনার অভিঘাত আমার জীবনকে এমনভাবে বদলে দিয়েছে, যার দ্বায়ভার আমাকে আজও বহন করতে হচ্ছে।

“আমি কাউকে ছোট বা অপমান করতেও চাই না। আমি শুধু চাই, ভবিষ্যতে আর কোনো নির্দোষ মানুষ যেন এ ধরনের অন্যায়ের শিকার না হন। রাষ্ট্রের প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের প্রতি মানুষের আস্থা টুকু অটুট থাকুক। সেই আস্থার ভিত্তি হোক ন্যায়বিচার, আইনের শাসন এবং জবাবদিহিতা মূলক।”

বিপদনের দিনে যারা পরীমনির পাশে দাঁড়িয়েছিলেন, তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন তিনি।

“যারা সেই কঠিন সময়ে কোনো প্রশ্ন না করেই আমার পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। আমার পরিবার, সহকর্মী, বন্ধু, সাংবাদিক এবং আমার অসংখ্য ভক্ত আপনাদের প্রতি আমি আজীবন গভীরভাবে কৃতজ্ঞ। আপনাদের বিশ্বাস, ভালোবাসা এবং সমর্থনই আমাকে বারবার উঠে দাঁড়ানোর শক্তি দিয়েছে।”

অতীতের ক্ষত মুছে বাঁচতে চাওয়ার আকাঙ্ক্ষা কথাও এসেছে তার পোস্টে।

“আমি অতীতের ক্ষত বয়ে বেড়াতে চাই না। আমি মুক্ত আকাশে পরীর মতো করেই উড়তে চাই। আমি বাঁচতে ভালোবাসি আর আমার কাজ, আমার সন্তান, আমার পরিবার এবং আমার দর্শকদের ভালোবাসা নিয়েই আমি বাকি জীবন বাঁচতে চাই।

আমি বিশ্বাস করি, সত্যকে কখনো চিরদিন চাপা রাখা যায় না। আর ন্যায়বিচারের পথে হাঁটা কখনো বৃথা যায় না।”

পরীমনি তার লেখা শেষ করেছেন সবার দোয়া চেয়েছে।

“সবাই আমার জন্য দোয়া করবেন। আমি যেন আরও ভালো কাজের মাধ্যমে আপনাদের ভালোবাসার প্রতিদান দিতে পারি।”

যে মামলায় গ্রেপ্তার হয়েছিলেন

২০২১ সালে ৪ অগাস্ট রাতে ঢাকার বনানীতে পরীমনির বাসায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তারে করে র‍্যাবে। পরদিন তার বিরুদ্ধে বনানী থানায় মাদক আইনে মামলা করা হয়। মামলা করেছিরেন র‍্যাব-১-এর কর্মকর্তা মো. মজিবর রহমান ।

র‌্যাবের জব্দ তালিকায় পরীমনির বাসা থেকে ‘মদ এবং আইস ও এলএসডির মতো মাদকদ্রব্য’ উদ্ধারের কথা বলা হয়।

এ মামলাটি এ মামলাটি ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-১০ এ সাক্ষ্য গ্রহণ পর্যায়ে রয়েছে।

পরীমনিকে গ্রেপ্তারের পর তৎকালীন র‌্যাব মুখপাত্র খন্দকার আল মঈন বলেছিলেন, চিত্রনায়িকা পরীমনির ফ্ল্যাটে ‘মিনি বার’ ছিল। তিনি নিয়মিত মদ পান করতেন এবং ‘ঘরোয়া পার্টি’ আয়োজন করতেন। তার কাছে মদ ব্যবহারের একটি লাইসেন্স পাওয়া গেলেও তার মেয়াদ শেষ হয়েছে ‘অনেক আগে’।

পরীমনিকে গ্রেপ্তারের পর তিন দফা রিমান্ডে নেওয়া নিয়ে তুমুল আলোচনার মধ্যে হাই কোর্টও বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তোলে। পরে গত ৩১ অগাস্ট তার জামিনের আদেশ হয় বিচারিক আদালত থেকে। পরদিন তিনি গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগার থেকে মুক্তি পান।

তদন্ত শেষে গত ৪ অক্টোবর পরীমনিসহ তিনজনকে আসামি করে অভিযোগপত্র দেয় পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ-সিআইডি।

নড়াইলের মেয়ে শামসুন্নাহার স্মৃতির ২০১৫ সালে ঢাকার চলচ্চিত্রে অভিষেক ঘটে পরীমনি নামে। এরপর দুই ডজন চলচ্চিত্রে নায়িকার চরিত্র রূপায়ন করেছেন তিনি। এছাড়া ওটিটি সিরিজেও তাকে পাওয়া গেছে।

গ্রেপ্তার হওয়ার কয়েক মাস আগে ঢাকা বোট ক্লাবে যৌন নিপীড়িত হওয়ার অভিযোগ তুলে শোরগোল তুলেছিলেন পরীমনি।

নিউজ বিজয় ২৪ডট কম/এফএইচএন
আপলোডকারির তথ্য

NewsBijoy24. Com

📰 নিউজবিজয়২৪.কম এমন একটি অনলাইন সংবাদপত্র, যার প্রতিটি শব্দে জড়িয়ে আছে সত্যের অঙ্গীকার ও মানবিকতার দায়বদ্ধতা। এই পত্রিকাটি উৎসর্গ করা হলো আমার পরম শ্রদ্ধেয় মা ও বাবার পবিত্র স্মৃতির উদ্দেশ্যে-যারা আজ এই পৃথিবীতে নেই, কিন্তু তাদের শিক্ষা, আদর্শ ও দোয়ার আলো আজও আমাদের পথ দেখায়। তাদের নিঃস্বার্থ ত্যাগ ও ভালোবাসার প্রেরণায় প্রতিষ্ঠিত এই সংবাদমাধ্যমের লক্ষ্য সত্য প্রকাশ, অন্যায়ের প্রতিবাদ এবং মানুষের পাশে নির্ভীকভাবে দাঁড়ানো। হে আল্লাহ, আমার মা-বাবাকে জান্নাতুল ফেরদৌসে উচ্চ মাকাম দান করুন। আমিন। NewsBijoy24.Com 📰 সত্যের পথে, বিশ্বাসের সাথে।
জনপ্রিয় সংবাদ
⚽ বিশ্বকাপ ফুটবল লাইভ স্কোর ২০২৬

ইতিহাসের এই দিনে : ১২ জুলাই ২০২৬ইং

‘হারিয়ে যাওয়া সম্মান কি ফিরিয়ে দেবে রাষ্ট্র?’

আপডেট সময় ০২:৩০:১৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬

পাঁচ বছর আগে রাজধানীর বনানীর বাসায় র‍্যাবের অভিযানে গ্রেপ্তার হওয়ার ঘটনাটি ‘সম্পূর্ণ বেআইনি’ বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকাই সিনেমার আলোচিত নায়িকা শামসুন্নাহার স্মৃতি পরীমনি।

🔔 নিউজ বিজয়ের সর্বশেষ খবর পেতে টেলিগ্রাম চ্যানেল জয়েন করুন

তিনি দাবি করেছেন ২০২১ সালের ৪ আগস্ট তাকে ‘বিশেষ মহলের স্বার্থে’ এবং মিথ্যা ও বানোয়াট মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।

দীর্ঘদিন বিষয়টি নিয়ে চুপচাপ থেকেছেন পরীমনি। বিভিন্ন অনুষ্ঠান বা টক শোতে ওই গ্রেপ্তার নিয়ে প্রশ্ন এড়িয়ে গেছেন। কয়েক বছর আগে কলকাতায় বাংলা দৈনিক আনন্দবাজারের একটি অনুষ্ঠানেও গ্রেপ্তার নিয়ে প্রশ্নে পরীমনি বলেছিলেন, ‘সময় হলে এই বিষয়ে লিখবেন তিনি’।

এবার পরীমনি লিখেছেন। ফেইবুকে শুক্রবার রাত ১২টা ২০ মিনিটে এক দীর্ঘ পোস্টে গ্রেপ্তার, মামলা, রিমান্ড নিয়ে নিজের বক্তব্য তুলে ধরেছেন তিনি।

এই অভিনেত্রীর ভাষ্য গ্রেপ্তারের দিন থেকে এখন পর্যন্ত তিনি সেই ঘটনার একজন ভুক্তভোগী হয়েই জীবন কাটাচ্ছেন।

ওই ঘটনায় তার ব্যক্তিগত, সামাজিক ও পেশাগত জীবন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে অভিযোগ করে পরীমনি রাষ্ট্রের কাছে একটি প্রশ্ন রেখেছেন।

তিনি জানতে চেয়েছেন, হারিয়ে যাওয়া সম্মান, মানসিক শান্তি ও জীবনের সেই সময়গুলো আদৌ ফিরিয়ে দেওয়া সম্ভব কি না।

পোস্টের শুরুতে পরীমনি র‍্যাবের সাবেক গোয়েন্দাপ্রধান লেফটেন্যান্ট কর্নেল খাইরুল ইসলামকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন।

গোয়েন্দাপ্রধান লেফটেন্যান্ট কর্নেল খাইরুল ইসলামকে উদ্দেশ্য করে পরীমনি বলেন, “সম্প্রতি একটি অনলাইন টকশোতে দেরিতে হলেও আপনি এমন কিছু সত্য প্রকাশ্যে স্বীকার করেছেন, যার মাধ্যমে দেশের মানুষ জানতে পারলো যে ২০২১ সালের ৪ অগাস্ট বনানীতে আমার বাসায় দীর্ঘ সময় অভিযান চালানোর নামে নাটকীয়তার পর তৎকালীন র‍্যাব প্রধান ও সাবেক আইজিপি চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুনের নির্দেশে আমাকে অন্যায়ভাবে, সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে এবং বিশেষ মহলের স্বার্থসংশ্লিষ্ট কারণে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।”

গ্রেপ্তার, রিমান্ড ও কারাবাসের অভিজ্ঞতা তাকে কতটা ‘ক্ষতবিক্ষত’ করেছে তা লেখায় তুলে ধরেছেন পরীমনি। কিন্তু তার বিশ্বাস ছিল, ‘সত্য চাপা রাখা যায় না’।

“পরবর্তীতে মিথ্যা ও বানোয়াট মামলায় আমাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে ৭ দিনের রিমান্ড টানা ২০ দিন কারাগারে রাখা হয়েছিল। সেই সময়ের অভিজ্ঞতা আমার জীবনকে কতটা ক্ষতিগ্রস্ত ও বিপর্যস্ত করেছে, তা আল্লাহ আর আমি ছাড়া পৃথিবীর আর কারও পক্ষে পুরোপুরি বোঝা সম্ভব নয়।

তবুও আমি বিশ্বাস করি, সত্য একদিন না একদিন প্রকাশিত হয়। সময় লাগতে পারে, কিন্তু সত্যকে চিরদিন চাপা রাখা যায় না।”

পরীমনির ভাষ্য, গ্রেপ্তারের দিন থেকে এ পর্যন্ত তিনি সেই ঘটনার একজন ভুক্তভোগী হয়েই জীবন কাটাচ্ছেন। তার অভিযোগ রাষ্ট্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ বাহিনীকে ব্যবহার করে একজন নারী শিল্পীর জীবনকে বিপর্যস্ত করা হয়েছে।

তিনি লিখেছেন, “যেভাবে আমাকে অপদস্থ করা হয়েছে, আমার সম্মান, নৈতিকতা এবং চরিত্রকে প্রশ্নবিদ্ধ করা হয়েছে, তা বাংলাদেশের ইতিহাসে এক বেদনাদায়ক অধ্যায় হয়ে থাকবে। রাষ্ট্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ বাহিনীকে ব্যবহার করে একজন সাধারণ নারী শিল্পীর জীবনকে যেভাবে বিপর্যস্ত করা হয়েছে, আমি শুধু চাই ভবিষ্যতে আর কোনো নির্দোষ মানুষ যেন এমন অভিজ্ঞতার শিকার না হন।

ক্ষতিগ্রস্ত ও বিপর্যস্ত করেছে, তা আল্লাহ আর আমি ছাড়া পৃথিবীর আর কারও পক্ষে পুরোপুরি বোঝা সম্ভব নয়।”

প্রতিশোধ হয়, পরীমনি বলেছেন তার অবস্থান ন্যায়ের পক্ষে।

“এতোগুলা দিন পর আমি কোনো ক্ষোভ বা প্রতিশোধের কথা বলতে চাই না। আমি শুধু সত্য, ন্যায়বিচার এবং মানবিকতার পক্ষে কথা বলতে চাই।”

মামলা থেকে রেহাই পাওয়ার আকুতি জানিয়ে রাষ্ট্রের কাছে একটি প্রশ্ন রেখেছেন পরীমনি।

তিনি বলেন, “এবার হয়ত রাষ্ট্রী সেই সাজানো মামলা থেকে মাননীয় আদালত আমাকে অব্যাহতি দিবেন। কিন্তু আমার সেই দিনগুলো কি ফিরিয়ে দেওয়া সম্ভব? যে জীবন, যে সম্মান, যে মানসিক শান্তি আমি হারিয়েছি, তা কি আর কখনো ফিরে পাব? মানুষের মনে আমাকে নিয়ে যে অসত্য, বিভ্রান্তিকর ও বিতর্কিত ধারণা তৈরি করা হয়েছে, রাষ্ট্র কি তার দায় নেবে? রাষ্ট্রের কাছে আমি এই প্রশ্নগুলোর জবাব চাইলে কি দিতে পারবেন?”

পরীমনির কথায়, “আমি কখনো চাইনি আমার পরিচয় একজন বিতর্কিত মানুষ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হোক। আমি সব সময় একজন শিল্পী হিসেবে মানুষের ভালোবাসা নিয়েই বেঁচে থাকতে চেয়েছি। কিন্তু একটি ঘটনার অভিঘাত আমার জীবনকে এমনভাবে বদলে দিয়েছে, যার দ্বায়ভার আমাকে আজও বহন করতে হচ্ছে।

“আমি কাউকে ছোট বা অপমান করতেও চাই না। আমি শুধু চাই, ভবিষ্যতে আর কোনো নির্দোষ মানুষ যেন এ ধরনের অন্যায়ের শিকার না হন। রাষ্ট্রের প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের প্রতি মানুষের আস্থা টুকু অটুট থাকুক। সেই আস্থার ভিত্তি হোক ন্যায়বিচার, আইনের শাসন এবং জবাবদিহিতা মূলক।”

বিপদনের দিনে যারা পরীমনির পাশে দাঁড়িয়েছিলেন, তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন তিনি।

“যারা সেই কঠিন সময়ে কোনো প্রশ্ন না করেই আমার পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। আমার পরিবার, সহকর্মী, বন্ধু, সাংবাদিক এবং আমার অসংখ্য ভক্ত আপনাদের প্রতি আমি আজীবন গভীরভাবে কৃতজ্ঞ। আপনাদের বিশ্বাস, ভালোবাসা এবং সমর্থনই আমাকে বারবার উঠে দাঁড়ানোর শক্তি দিয়েছে।”

অতীতের ক্ষত মুছে বাঁচতে চাওয়ার আকাঙ্ক্ষা কথাও এসেছে তার পোস্টে।

“আমি অতীতের ক্ষত বয়ে বেড়াতে চাই না। আমি মুক্ত আকাশে পরীর মতো করেই উড়তে চাই। আমি বাঁচতে ভালোবাসি আর আমার কাজ, আমার সন্তান, আমার পরিবার এবং আমার দর্শকদের ভালোবাসা নিয়েই আমি বাকি জীবন বাঁচতে চাই।

আমি বিশ্বাস করি, সত্যকে কখনো চিরদিন চাপা রাখা যায় না। আর ন্যায়বিচারের পথে হাঁটা কখনো বৃথা যায় না।”

পরীমনি তার লেখা শেষ করেছেন সবার দোয়া চেয়েছে।

“সবাই আমার জন্য দোয়া করবেন। আমি যেন আরও ভালো কাজের মাধ্যমে আপনাদের ভালোবাসার প্রতিদান দিতে পারি।”

যে মামলায় গ্রেপ্তার হয়েছিলেন

২০২১ সালে ৪ অগাস্ট রাতে ঢাকার বনানীতে পরীমনির বাসায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তারে করে র‍্যাবে। পরদিন তার বিরুদ্ধে বনানী থানায় মাদক আইনে মামলা করা হয়। মামলা করেছিরেন র‍্যাব-১-এর কর্মকর্তা মো. মজিবর রহমান ।

র‌্যাবের জব্দ তালিকায় পরীমনির বাসা থেকে ‘মদ এবং আইস ও এলএসডির মতো মাদকদ্রব্য’ উদ্ধারের কথা বলা হয়।

এ মামলাটি এ মামলাটি ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-১০ এ সাক্ষ্য গ্রহণ পর্যায়ে রয়েছে।

পরীমনিকে গ্রেপ্তারের পর তৎকালীন র‌্যাব মুখপাত্র খন্দকার আল মঈন বলেছিলেন, চিত্রনায়িকা পরীমনির ফ্ল্যাটে ‘মিনি বার’ ছিল। তিনি নিয়মিত মদ পান করতেন এবং ‘ঘরোয়া পার্টি’ আয়োজন করতেন। তার কাছে মদ ব্যবহারের একটি লাইসেন্স পাওয়া গেলেও তার মেয়াদ শেষ হয়েছে ‘অনেক আগে’।

পরীমনিকে গ্রেপ্তারের পর তিন দফা রিমান্ডে নেওয়া নিয়ে তুমুল আলোচনার মধ্যে হাই কোর্টও বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তোলে। পরে গত ৩১ অগাস্ট তার জামিনের আদেশ হয় বিচারিক আদালত থেকে। পরদিন তিনি গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগার থেকে মুক্তি পান।

তদন্ত শেষে গত ৪ অক্টোবর পরীমনিসহ তিনজনকে আসামি করে অভিযোগপত্র দেয় পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ-সিআইডি।

নড়াইলের মেয়ে শামসুন্নাহার স্মৃতির ২০১৫ সালে ঢাকার চলচ্চিত্রে অভিষেক ঘটে পরীমনি নামে। এরপর দুই ডজন চলচ্চিত্রে নায়িকার চরিত্র রূপায়ন করেছেন তিনি। এছাড়া ওটিটি সিরিজেও তাকে পাওয়া গেছে।

গ্রেপ্তার হওয়ার কয়েক মাস আগে ঢাকা বোট ক্লাবে যৌন নিপীড়িত হওয়ার অভিযোগ তুলে শোরগোল তুলেছিলেন পরীমনি।