লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার দুর্গাপুর সিমান্তে ভারতীয় ৯২৫ নম্বর সীমান্ত পিলার এলাকা দিয়ে ১২ জন ভারতীয় নাগরিক বাংলাদেশে প্রবেশের চেষ্টা করে। খবর পেয়ে বডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে সীমান্তে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করে। গ্রামবাসীর সহায়তায় বিজিবির কঠোর অবস্থানের কারণে পুশইনের চেষ্টা ব্যর্থ হয় এবং ওই ব্যক্তিরা বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করতে পারেনি। তারা শুন্যরেখায় অবস্থান করছে।
শুক্রবার (৫ জুন) ভোরে উপজেলার দুর্গাপুর সীমান্ত এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
তারা হল একজন নারী, দুইজন পুরুষ এবং একটি শিশুসহ কয়েকজনকে সীমান্ত অতিক্রম করে বাংলাদেশে প্রবেশ করতে দেখা যায়। তারা অধিকাংশই মুসলমান এবং আসামসহ বিভিন্ন রাজ্যের নাগরিক বলে জানাগেছে।
এ সময় তারা নিজেদের বাড়ি কুড়িগ্রাম জেলার ফুলবাড়ী উপজেলার বালারহাট এলাকায় বলে পরিচয় দেন।অপরদিকে, বাকি ব্যক্তিরা কুটিবাড়ী সীমান্ত সংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছেন বলে খবর পাওয়া গেছে। স্থানীয় কয়েকজনের ভাষ্যমতে, ওই ব্যক্তিদের মধ্যে কয়েকজনের বাড়ি নোয়াখালী জেলায় হতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। তবে তাদের প্রকৃত পরিচয় ও বাংলাদেশে প্রবেশের উদ্দেশ্য সম্পর্কে এখনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে জেলার হাতীবান্ধা, পাটগ্রাম সীমান্তের পৃথক তিনটি পয়েন্ট দিয়ে ৩৩ জনকে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা করেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। তবে বিজিবির তাৎক্ষণিক তৎপরতায় ওই ব্যক্তিরা বাংলাদেশে প্রবেশ করতে পারেনি।
এ ঘটনার খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহল ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। এ বিষয়ে দুর্গাপুর সিমান্তবর্তি এলাকার মুস্তাকীন নামের একজন প্রতিনিধি জানান, আমরা এ খবর শুনা মাত্রই ভোর রাত থেকে বিবিজি ও এলাকার লোকজন মিলে প্রতিরোধ করেছি এবং ৯২৫ পিলারে আমরা কঠোর অবস্থানে রয়েছি পরবর্তি সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত আমরা এখান থেকে যাব না। তিনি আরও জানান,তারা যেহেতু ভারতীয় নাগরিক তাদেরকে অবৈধভাবে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। দুু-দেশের আলোচনার মাধ্যমে এটি সমাধা ও ভবিষৎতে যাতে সিমান্তে এ রকম উত্তেজনা না হয় তার সমাধা করতে বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আহবান জানান।
বডার গার্ড বাংলাদেশ(বিজিবি) লালমনিরহাট ১৫ ব্যাটালিয়নের মিডিয়া সেল এক বিজ্ঞাপ্তিতে জানান, সীমান্তে যেকোনো ধরনের অনুপ্রবেশ ও পুশইন প্রতিরোধে বিজিবি সর্বদা সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। দেশের সার্বভৌমত্ব ও সীমান্ত নিরাপত্তা রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। বর্তমানে পুশইনের চেষ্টা করা ব্যক্তিরা ভারতের অভ্যন্তরে অবস্থান করছে। সীমান্ত এলাকায় টহল ও নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে এবং সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
রেজাউল করিম রাজ্জাক, বিশেষ প্রতিনিধি ;- 


























