উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগে রিয়াল মাদ্রিদের লড়াকু মানসিকতার আরেকটি দৃষ্টান্ত দেখা গেল রোমের অলিম্পিক স্টেডিয়ামে। ম্যাচের শেষ দিকে ৩-১ গোলে পিছিয়ে থেকেও দারুণ প্রত্যাবর্তনে রোমাকে ৪-৩ গোলে হারিয়েছে রিয়াল মাদ্রিদ। শেষ সাত মিনিটের নাটকীয়তায় নিশ্চিত হওয়া এই জয়ে লিগ পর্বে টানা দ্বিতীয় জয় তুলে নিয়েছে স্প্যানিশ জায়ান্টরা।
ম্যাচের শুরু থেকেই দুই দলের মধ্যে ছিল আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণের লড়াই। ২০ মিনিটে মাতিয়াস সুলের পাস থেকে ২৫ গজ দূর থেকে নেওয়া দুর্দান্ত শটে রোমাকে এগিয়ে দেন মার্তেন দে রুন। তবে পাঁচ মিনিট পরই সমতায় ফেরে রিয়াল। প্রতিপক্ষের গায়ে লেগে কিলিয়ান এমবাপ্পের শট জালে জড়ালে ১-১ হয় স্কোরলাইন। চ্যাম্পিয়নস লিগে এটি ছিল ফরাসি তারকার ৭২তম গোল।
বিরতির আগে দুই দলই গোলের সুযোগ তৈরি করলেও আর কোনো গোল হয়নি। তবে দ্বিতীয়ার্ধে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়ায় রোমা। ৫১ মিনিটে ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের ভুলের সুযোগ কাজে লাগিয়ে দলকে আবারও এগিয়ে দেন ডাচ স্ট্রাইকার দোনিয়েল মালেন। ৫৮ মিনিটে ভিএআরের সহায়তায় নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন তিনি। ফলে ৩-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায় রোমা।
ম্যাচের শেষ দিকে রিয়ালের জয় পাওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ হয়ে এলেও হাল ছাড়েনি দলটি। ৮৩ মিনিটে বদলি হিসেবে মাঠে নামার পাঁচ মিনিট পর ব্যবধান কমান কার্লোস এসপি। এরপর ৮৬ মিনিটে আরদা গুলেরের কর্নার থেকে হেডে গোল করে ম্যাচে সমতা ফেরান ব্রাজিলিয়ান তরুণ এনদ্রিক।
নির্ধারিত সময়ের শেষ মুহূর্তে আবারও জ্বলে ওঠেন গুলের। তাঁর নিখুঁত সেট পিস থেকে কাছাকাছি দূরত্বে ভলিতে বল জালে পাঠিয়ে রিয়ালের নাটকীয় জয় নিশ্চিত করেন অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার আন্তোনিও রুডিগার। শেষ পর্যন্ত ৪-৩ গোলের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে রিয়াল মাদ্রিদ।
ম্যাচের আগে গ্যালারিতে সাবেক কোচ জোসে মরিনহোকে ঘিরে সমর্থকদের ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ দেখা যায়। রোমার দায়িত্বে আড়াই বছর থাকাকালে দলটিকে উয়েফা কনফারেন্স লিগের শিরোপা জেতানোর পাশাপাশি ইউরোপা লিগের ফাইনালেও তুলেছিলেন তিনি। তবে এবার তাঁর কৌশল ও রিয়ালের শেষ মুহূর্তের দৃঢ়তায় রোমার সমর্থকদের আনন্দ পরিণত হয় হতাশায়।
এই জয়ে চ্যাম্পিয়নস লিগের লিগ পর্বে দুই ম্যাচ শেষে রিয়াল মাদ্রিদের পয়েন্ট দাঁড়িয়েছে ছয়ে। অন্যদিকে দুই ম্যাচে মাত্র এক পয়েন্ট নিয়ে পিছিয়ে রয়েছে রোমা।
স্পোর্টস ডেস্ক 































