প্রশ্ন: জোহর ও আসরের নামাজে কেরাত আস্তে পড়তে হয় বলে জানি। এটা কি জরুরি? কেউ যদি জোহর-আসরে জোরে কেরাত পড়ে, তাহলে কি নামাজ হবে না?
উত্তর: জোহর ও আসরের নামাজে ইমাম ও একা নামাজ আদায়কারী নিম্নস্বরে কেরাত পড়বেন। মুক্তাদি কেরাত পড়লে নিম্নস্বরেই পড়বেন তা বলাবাহুল্য। এ দুই ওয়াক্ত নামাজে নিম্নস্বরে কেরাত পড়া ওয়াজিব। যদি কেউ জোহর-আসরে ফরজ আদায় হওয়া পরিমাণ কেরাত অর্থাৎ বড় এক আয়াত বা ছোট তিন আয়াত অন্য ব্যক্তি শোনে এমন উচ্চ স্বরে পড়ে, তাহলে সাহু সিজদা ওয়াজিব হবে; এর চেয়ে কম যেমন ছোট এক-দুই আয়াত ভুল করে উচ্চৈস্বরে পড়ে ফেললে সাহু সিজদা ওয়াজিব হবে না।
সূত্র: ফাতাওয়া হিন্দিয়া: ১/১২৮, ফাতহুল কাদির: ১/৪৪০, ফাতাওয়ায়ে মাহমুদিয়া: ২/১৪৯, ফাতাওয়ায়ে ফকীহুল মিল্লাত: ৪/২০১
ফজর, জুমা, দুই ঈদের নামাজ, তারাবিহ, রমজান মাসের বেতর নামাজ এবং মাগরিব ও ইশার প্রথম দুই রাকাতে ইমামের জন্য জোরে কেরাত পড়া ওয়াজিব। মুক্তাদি অর্থাৎ ইমামের পেছনে নামাজ আদায়কারীরা এসব নামাজে চুপ থেকে ইমামের কেরাত শুনবেন।
সংখ্যাগরিষ্ঠ আলেমদের মত অনুযায়ী মুনফারিদ বা একা নামাজ আদায়কারীর জন্যও ফজর এবং মাগরিব ও ইশার প্রথম দুই রাকাতে উচ্চৈস্বরে কেরাত পড়া সুন্নত। তবে নিম্নস্বরে কেরাত পড়লেও নামাজ হয়ে যাবে। নবিজির স্ত্রী আয়েশাকে (রা.) প্রশ্ন করা হয়েছিল, নবীজি রাতের নামাজে উচ্চৈস্বরে কোরআন পড়তেন না নিম্নস্বরে? তিনি উত্তর দিয়েছিলেন কখনও উচ্চৈস্বরে পড়তেন, কখনও নিম্নস্বরে। (মুসনাদে আহমদ)
ইসলাম ডেস্ক 
































