ঢাকা ১০:১৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং

🌤️ বাংলাদেশের বিভাগসমূহের লাইভ আবহাওয়া

হাতীবান্ধায় ভিজিএফ চাল বিতরণে রাজনৈতিক নেতা ও তাদের স্ত্রীর নাম অন্তর্ভুক্ত-বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন

লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার ১২টি ইউনিয়নে পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ভিজিএফ কর্মসূচির আওতায় ১০ কেজি করে চাল বিতরণকে কেন্দ্র করে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, প্রতিটি ইউনিয়নে একজন করে বিএনপি নেতা এবং একজন করে ওই নেতার স্ত্রীকে সমন্বয় কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করে মোট ২৪ জনের নাম তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) আফরিন হক এর স্বাক্ষরিত গত ৫ মার্চ তারিখের একটি পত্রে এ সংক্রান্ত নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের ভিজিএফ কর্মসূচির আওতায় ঈদুল ফিতর উপলক্ষে দরিদ্র ও দুস্থদের মধ্যে খাদ্য সহায়তা বিতরণে প্রতিটি ইউনিয়নে একজন পুরুষ ও একজন নারী সদস্য নিয়ে সমন্বয় কমিটি গঠন করা হয়েছে।

তবে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, তালিকাভুক্ত ব্যক্তিদের অধিকাংশই স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মী এবং তাদের স্ত্রী। ফলে ত্রাণ বিতরণে রাজনৈতিক প্রভাব খাটানোর আশঙ্কা করছেন অনেকেই। এ বিষয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সচেতন মহলের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে—সরকারি ত্রাণ বিতরণে রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের এভাবে অন্তর্ভুক্ত করা কতটা আইনসম্মত।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ভিজিএফ (Vulnerable Group Feeding) কর্মসূচি সাধারণত দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের আওতায় পরিচালিত হয়। এ কর্মসূচির চাল বিতরণের দায়িত্ব মূলত ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদস্যদের মাধ্যমে বাস্তবায়িত হয় এবং তদারকিতে থাকেন উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা।

সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী ত্রাণ বিতরণে স্থানীয় প্রশাসন চাইলে সামাজিক প্রতিনিধি, স্বেচ্ছাসেবক বা গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সমন্বয় কমিটিতে যুক্ত করতে পারে। তবে সরাসরি কোনো রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী বা তাদের পরিবারের সদস্যদের নির্দিষ্টভাবে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ে স্পষ্ট কোনো বিধান নেই বলে প্রশাসনিক সূত্র জানিয়েছে।

ফলে হাতীবান্ধা উপজেলায় গঠিত এই সমন্বয় কমিটি নিয়ে প্রশাসনিক ও আইনি বৈধতা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।

স্থানীয় কয়েকজন জনপ্রতিনিধি নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, ত্রাণ বিতরণে স্বচ্ছতা বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যদি রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে তালিকা করা হয়ে থাকে, তবে তা বিতর্কের জন্ম দিতে পারে।

এ বিষয়ে হাতীবান্ধা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আফরিন হক–এর বক্তব্য জানা যায়নি। তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, ত্রাণ বিতরণে সমন্বয় ও সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার স্বার্থে এই কমিটি গঠন করা হয়েছে।

এদিকে বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় মহলে আলোচনা-সমালোচনা চললেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।
নিউজ বিজয় ২৪ডট কম/এফএইচএন

নিউজ বিজয় ২৪ডট কম/এফএইচএন
আপলোডকারির তথ্য

NewsBijoy24. Com

📰 নিউজবিজয়২৪.কম এমন একটি অনলাইন সংবাদপত্র, যার প্রতিটি শব্দে জড়িয়ে আছে সত্যের অঙ্গীকার ও মানবিকতার দায়বদ্ধতা। এই পত্রিকাটি উৎসর্গ করা হলো আমার পরম শ্রদ্ধেয় মা ও বাবার পবিত্র স্মৃতির উদ্দেশ্যে-যারা আজ এই পৃথিবীতে নেই, কিন্তু তাদের শিক্ষা, আদর্শ ও দোয়ার আলো আজও আমাদের পথ দেখায়। তাদের নিঃস্বার্থ ত্যাগ ও ভালোবাসার প্রেরণায় প্রতিষ্ঠিত এই সংবাদমাধ্যমের লক্ষ্য সত্য প্রকাশ, অন্যায়ের প্রতিবাদ এবং মানুষের পাশে নির্ভীকভাবে দাঁড়ানো। হে আল্লাহ, আমার মা-বাবাকে জান্নাতুল ফেরদৌসে উচ্চ মাকাম দান করুন। আমিন। NewsBijoy24.Com 📰 সত্যের পথে, বিশ্বাসের সাথে।
জনপ্রিয় সংবাদ
⚽ বিশ্বকাপ ফুটবল লাইভ স্কোর ২০২৬

এমপিওভুক্ত শিক্ষক ও ঋণখেলাপিদের স্থানীয় নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণা চায় ইসি

হাতীবান্ধায় ভিজিএফ চাল বিতরণে রাজনৈতিক নেতা ও তাদের স্ত্রীর নাম অন্তর্ভুক্ত-বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন

আপডেট সময় ০২:০১:৫১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬

লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার ১২টি ইউনিয়নে পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ভিজিএফ কর্মসূচির আওতায় ১০ কেজি করে চাল বিতরণকে কেন্দ্র করে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, প্রতিটি ইউনিয়নে একজন করে বিএনপি নেতা এবং একজন করে ওই নেতার স্ত্রীকে সমন্বয় কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করে মোট ২৪ জনের নাম তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।

🔔 নিউজ বিজয়ের সর্বশেষ খবর পেতে টেলিগ্রাম চ্যানেল জয়েন করুন

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) আফরিন হক এর স্বাক্ষরিত গত ৫ মার্চ তারিখের একটি পত্রে এ সংক্রান্ত নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের ভিজিএফ কর্মসূচির আওতায় ঈদুল ফিতর উপলক্ষে দরিদ্র ও দুস্থদের মধ্যে খাদ্য সহায়তা বিতরণে প্রতিটি ইউনিয়নে একজন পুরুষ ও একজন নারী সদস্য নিয়ে সমন্বয় কমিটি গঠন করা হয়েছে।

তবে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, তালিকাভুক্ত ব্যক্তিদের অধিকাংশই স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মী এবং তাদের স্ত্রী। ফলে ত্রাণ বিতরণে রাজনৈতিক প্রভাব খাটানোর আশঙ্কা করছেন অনেকেই। এ বিষয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সচেতন মহলের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে—সরকারি ত্রাণ বিতরণে রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের এভাবে অন্তর্ভুক্ত করা কতটা আইনসম্মত।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ভিজিএফ (Vulnerable Group Feeding) কর্মসূচি সাধারণত দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের আওতায় পরিচালিত হয়। এ কর্মসূচির চাল বিতরণের দায়িত্ব মূলত ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদস্যদের মাধ্যমে বাস্তবায়িত হয় এবং তদারকিতে থাকেন উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা।

সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী ত্রাণ বিতরণে স্থানীয় প্রশাসন চাইলে সামাজিক প্রতিনিধি, স্বেচ্ছাসেবক বা গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সমন্বয় কমিটিতে যুক্ত করতে পারে। তবে সরাসরি কোনো রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী বা তাদের পরিবারের সদস্যদের নির্দিষ্টভাবে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ে স্পষ্ট কোনো বিধান নেই বলে প্রশাসনিক সূত্র জানিয়েছে।

ফলে হাতীবান্ধা উপজেলায় গঠিত এই সমন্বয় কমিটি নিয়ে প্রশাসনিক ও আইনি বৈধতা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।

স্থানীয় কয়েকজন জনপ্রতিনিধি নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, ত্রাণ বিতরণে স্বচ্ছতা বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যদি রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে তালিকা করা হয়ে থাকে, তবে তা বিতর্কের জন্ম দিতে পারে।

এ বিষয়ে হাতীবান্ধা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আফরিন হক–এর বক্তব্য জানা যায়নি। তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, ত্রাণ বিতরণে সমন্বয় ও সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার স্বার্থে এই কমিটি গঠন করা হয়েছে।

এদিকে বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় মহলে আলোচনা-সমালোচনা চললেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।
নিউজ বিজয় ২৪ডট কম/এফএইচএন