পৃথিবীতে সবচেয়ে মধুর সম্পর্ক স্বামী-স্ত্রীর। সুখময় দাম্পত্য জীবন মহান আল্লাহর বিশেষ নেয়ামত। আর ঝগড়া ও মনোমালিন্যে দাম্পত্য জীবনে বিরূপ প্রতিক্রিয়া পড়ে। ইদানীং আমাদের সমাজে স্বামীর নাম ধরে ডাকা ফ্যাশনে পরিণত হয়েছে।
স্বামী-স্ত্রী একে অপরকে নাম ধরে ডাকার বিষয়টি সামাজিক রীতিনীতির ওপর নির্ভরশীল। যেখানে নাম ধরে ডাকাকে অসম্মানজনক ও অসুন্দর মনে করা হয় না, সেখানে নাম ধরে ডাকলে কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু যেখানে এটিকে সম্মানহানি ও বেয়াদবি মনে করা হয়, সেখানে নাম ধরে না ডাকা উচিত।
স্বামীর নাম ধরে ডাকা :স্বাভাবিকভাবে স্বামীর নাম ধরে ডাকাকে অসম্মানজনক মনে করা হয়। এছাড়া স্বামীর সম্মান, অধিকার ও সম্মানের কারণে ফুকাহায়ে কেরাম এটাকে শরিয়তে অপছন্দ মনে করেন। সুতরাং এতদাঞ্চলে স্বামীকে নাম ধরে না ডাকা উচিত। কেননা স্ত্রীর কর্তব্য, স্বামীর প্রতি সম্মান ও শ্রদ্ধাবোধ বজায় রাখা জরুরি। পাশাপাশি এমন আচরণ না করা চাই– যাতে স্বামীর সম্মানহানী হয়।
আরব দেশে নাম ধরে ডাকার প্রচলন ছিল, এতে তারা মনঃক্ষুণ্ণ হতো না। সেজন্যই তাদের কেউ কেউ ডাকতেন। কিন্তু আমাদের অবশ্যই বিষয় স্বীকার করতে হবে যে, স্বামীর খেদমত করা প্রত্যেক নারীর দায়িত্ব ও কর্তব্য। অন্যদিকে স্ত্রীর ভরণ-পোষণ ও সুযোগ-সুবিধা প্রদান স্বামীর কর্তব্য ও দায়িত্ব।
সুতরাং সম্মান প্রদর্শনার্থে অবশ্যই স্বামী, পিতা, শিক্ষকসহ বিভিন্ন শ্রেণীর সম্মানিত ব্যক্তিদের নাম ধরে ডাকা নিষেধ। তবে কোনো প্রয়োজনে স্বামীর নাম মুখ দিয়ে উচ্চারণ করা যাবে না– ব্যাপারটা এমন নয়। বরং প্রয়োজনে যেকোনো সময় স্বামীর নাম উচ্চারণ করা যাবে।
ইবনে আবেদিন শামি (রহ.) বলেন, এমন শব্দের মাধ্যমে স্বামীকে ডাকা উচিত– যেটা সম্মান বোঝাবে। যেমন- হে আমার সর্দার, অমুকের পিতা ইত্যাদি, অথবা সম্মানসূচক পেশার সঙ্গে সংযুক্ত করে ডাকবে। যেমন- ইমাম সাহেব, ডাক্তার সাহেব ইত্যাদি)। কেননা পিতা ও স্বামী– তাদের উভয়ের হক একটু বেশিই। (রদ্দুল মুহতার আলাদ-দুররিল মুখতার : ০৬/৪১৮)
নিউজ বিজয় ২৪ডট কম/এফএইচএন
ইসলাম ডেস্ক 

































