লালমনিরহাটে স্কুল ছাত্রী অপহরণের ঘটনায় মামলা; র্যাব-১৩ এর অভিযানে ভিকটিম উদ্ধারসহ প্রধান আসামি গ্রেফতার।
র্যাব প্রতিষ্ঠার পর থেকেই দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি সমুন্নত রাখার লক্ষে সব ধরনের অপরাধীকে আইনের আওতায় নিয়ে আসার ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা পালনসহ অপহরণ, হত্যা, ধর্ষণ, রাহাজানিসহ মারাত্মক সব সামাজিক অপরাধের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করে আসছে। এছাড়াও নারী ও শিশুদের প্রতি সহিংসতার মতো স্পর্শকাতর বিষয়গুলোতে র্যাব অত্যন্ত পেশাদারিত্বের সাথে দায়িত্ব পালন করে থাকে।
বাদীর এজাহার থেকে জানা যায় যে, ভিকটিম দশম শ্রেণীর একজন নিয়মিত ছাত্রী। গ্রেফতারকৃত আসামি বিবাহিত হওয়া সত্ত্বেও ভিকটিমকে দীর্ঘদিন থেকে বিবাহের প্রলোভন দেখিয়ে আসছিলো। বাদী বিষয়টি জানতে পারলে উক্ত বিষয়টি পরিবারকে জানিয়ে আসামিকে সতর্ক করলে আসামি বাদীর কথায় গুরুত্ব না দিয়ে ভিকটিমকে পুনরায় বিভিন্ন ভয়ভীতি প্রদর্শন করে আসছিলো। এরই ধারাবহিকতায় ইং ৩০-০১-২০২৬ তারিখ সকাল ১১.০০ ঘটিকায় ভিকটিম প্রাইভেট পড়ে নিজ বাড়ী আসার পথে আদিতমারী থানাধীন সারপুকুর সরকারী স্কুল সংলগ্ন পিছনের পাকা রাস্তায় আসার সময় গ্রেফতারকৃত আসামি এবং তার সহযোগী আসামিগণ মিলে ভিকটিমকে জোরপূর্বক মোটরসাইকেলে উঠিয়ে অজ্ঞাতনামা স্থানে অপহরণ করে নিয়ে যায়। পরবর্তীতে উক্ত ঘটনায় ভিকটিমের পিতা বাদী হয়ে গত ০৩/০২/২০২৬ তারিখ লালমনিহাট জেলার আদিতমারী থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ (সংশোধনী অধ্যাদেশ ২০২৫) ৭/৩০ ধারায় একটি অপহরণ মামলা দায়ের করেন, যার মামলা নং- ০২/১৯।
ঘটনার পর থেকে গ্রেফতার এড়াতে আসামিগণ চতুরতার সাথে আত্মগোপনে ছিলো। ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় আসামিদের গ্রেফতারের লক্ষ্যে অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি র্যাব গোয়েন্দা তৎপরতা শুরু করে এবং ভিকটিম উদ্ধার ও আসামি গ্রেফতারে সচেষ্ট হয়।
এরই ধারাবাহিকতায় সুনির্দিষ্ট তথ্য ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র্যাব-১৩, সিপিএসসি, রংপুর এর একটি চৌকস আভিযানিক দল ১৬/০২/২৬ তারিখ সন্ধ্যা ০৭.৩০ ঘটিকার সময় লালমনিরহাট জেলার লালমনিরহাট সদর থানাধীন ০৮ নং গোকুন্ডা ইউনিয়ন এর অন্তর্গত ০৭ নং ওয়ার্ডস্থ তিস্তা বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন জনৈক মোঃ এরশাদ আলী (৬৩) এর বসতবাড়িতে অভিযান পরিচালনা করে দশম শ্রেণীর ছাত্রী অপহরণ মামলার প্রধান আসামি ১। মোঃ বকুল মিয়া (৩৫), পিতা- মোঃ আপিয়ার রহমান, সাং- খুনিয়াগাছ, (আলুটারী), থানা- লালমনিরহাট সদর, জেলা-লালমনিরহাট’কে গ্রেফতার এবং ভিকটিমকে উদ্ধার করতে সক্ষম হয়।
পরবর্তী আইনানুগ কার্যক্রমের জন্য আসামি এবং ভিকটিমকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। এছাড়াও এই ধরণের প্রতিটি অপহরণ, হত্যা, ধর্ষণ, রাহাজানিসহ সকল অপরাধ প্রতিরোধে র্যাবের প্রতিটি সদস্য দৃঢ়প্রত্যয়ের সাথে কাজ করছে এবং চলমান এই অভিযান অব্যাহত থাকবে।
নিউজ বিজয় ২৪ডট কম/এফএইচএন
প্রেস বিজ্ঞপ্তি 



























