ঢাকা ১২:২৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং
হোম

🌤️ বাংলাদেশের বিভাগসমূহের লাইভ আবহাওয়া

ভুট্টা বীজের আসল-নকল প্যাকেট চেনা দায়: প্রতারণা আতঙ্কে চরাঞ্চলের কৃষকরা

লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার তিস্তা নদীর চরাঞ্চলে শুরু হয়েছে আগাম জাতের ভুট্টা চাষ। তবে বাজারে আসল ও নকল ভুট্টা বীজের প্যাকেট চেনা কঠিন হয়ে পড়ায় চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন স্থানীয় কৃষকরা। অসাধু ব্যবসায়ীরা নামিদামি কোম্পানির মোড়ক ব্যবহার করে ভেজাল বীজ বাজারজাত করায় সাধারণ কৃষকরা প্রতিনিয়ত প্রতারণার শিকার হচ্ছেন।
কৃষকদের মতে, বর্ষা পরবর্তী রবি মৌসুমে চরাঞ্চলে ধান চাষের সুযোগ থাকে না। অন্যান্য ফসলের তুলনায় খরচ কম এবং ফলন বেশি হওয়ায় ভুট্টাই এখানকার কৃষকদের প্রধান অর্থকরী ফসল। প্রতি বছর অক্টোবর মাস থেকেই চর এলাকায় আগাম জাতের ভুট্টা রোপণ শুরু হয়। কিন্তু গত বছর ভেজাল বীজ কিনে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ায় এবার শুরুতেই তৈরি হয়েছে ভয় ও সংশয়।
সম্প্রতি ১০ অক্টোবর পার্শ্ববর্তী পাটগ্রাম উপজেলার বানিয়াপাড়া এলাকায় ‘বীজ আইন ও বিধিমালা’ অমান্য করে অবৈধভাবে ভুট্টা বীজ প্যাকেটজাত করার অপরাধে একটি গোডাউন সিলগালা করেন উপজেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) বিশাল দাস। সেখানে হাতীবান্ধার আল-আমিন নামের এক ব্যক্তির নির্দেশে ‘বাহুবলী-৫৫৫’ (বিজেতা সীডস) জাতের মোড়কে বীজ প্যাকেটজাত করা হচ্ছিল বলে শ্রমিকরা জানায়। যদিও আল-আমিনের দাবি, ভারত থেকে বীজ আমদানি করে কোম্পানির সরবরাহ করা ব্র্যান্ডের মোড়কেই তা প্যাকেটজাত করা হচ্ছিল।
অন্যদিকে, ‘বিজেতা সীডস’ কোম্পানির বীজ কিনে প্রতারিত হয়ে ব্যবসায়ীদের লাপাত্তা হওয়া এবং কৃষকদের কান্নার একটি পুরনো ভিডিও প্রতিবেদন নতুন করে ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। ফলে স্থানীয় খুচরা বিক্রেতাদের প্রতিও কৃষকদের আস্থা তলানিতে ঠেকেছে।
গড্ডিমারী চর এলাকার কৃষক আরমান ও সোনা মিয়া জানান, গোডাউন সিলগালা ও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল সংবাদের কারণে বীজ কেনা নিয়ে তারা ভীষণ দ্বিধাদ্বন্দ্বে আছেন। ধুবনী গ্রামের কৃষক আব্দুল মজিদের মতে, অসাধু ব্যবসায়ীরা লাভবান হলেও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন সাধারণ কৃষক। তবে গ্রাম পর্যায়ে কৃষি কর্মকর্তাদের তদারকি বা পরামর্শ না পাওয়ার অভিযোগও করেন তিনি।

​এ বিষয়ে জানতে চাইলে হাতীবান্ধা উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মো. হারুন মিয়া জানান, মাঠ পর্যায়ের সকল বীজ ব্যবসায়ী এবং বিভিন্ন কোম্পানির প্রতিনিধিদের নিয়ে গত ৭ অক্টোবর উপজেলায় প্রায় ৫০০ জন সংশ্লিষ্ট অংশীজনকে সঙ্গে নিয়ে এক সচেতনতামূলক মতবিনিময় সভা করা হয়েছে।

​তিনি আরও বলেন, “অসাধু ব্যবসায়ীরা যাতে ভেজাল বা মেয়াদোত্তীর্ণ বীজ বাজারজাত করতে না পারেন, সে লক্ষ্যে কৃষি বিভাগ মাঠ পর্যায়ে নিয়মিত মনিটরিং করছে এবং সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। এরপরেও যদি কোনো কোম্পানি বা বীজ ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়, তবে জেলা বীজ প্রত্যয়ন অফিস ও উপজেলা প্রশাসনের মাধ্যমে তাৎক্ষণিক কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

নিউজ বিজয় ২৪ডট কম/এফএইচএন
আপলোডকারির তথ্য

NewsBijoy24. Com

📰 নিউজবিজয়২৪.কম এমন একটি অনলাইন সংবাদপত্র, যার প্রতিটি শব্দে জড়িয়ে আছে সত্যের অঙ্গীকার ও মানবিকতার দায়বদ্ধতা। এই পত্রিকাটি উৎসর্গ করা হলো আমার পরম শ্রদ্ধেয় মা ও বাবার পবিত্র স্মৃতির উদ্দেশ্যে-যারা আজ এই পৃথিবীতে নেই, কিন্তু তাদের শিক্ষা, আদর্শ ও দোয়ার আলো আজও আমাদের পথ দেখায়। তাদের নিঃস্বার্থ ত্যাগ ও ভালোবাসার প্রেরণায় প্রতিষ্ঠিত এই সংবাদমাধ্যমের লক্ষ্য সত্য প্রকাশ, অন্যায়ের প্রতিবাদ এবং মানুষের পাশে নির্ভীকভাবে দাঁড়ানো। হে আল্লাহ, আমার মা-বাবাকে জান্নাতুল ফেরদৌসে উচ্চ মাকাম দান করুন। আমিন। NewsBijoy24.Com 📰 সত্যের পথে, বিশ্বাসের সাথে।
জনপ্রিয় সংবাদ
⚽ আজকের সেরা ম্যাচগুলো ও লাইভ স্কোর

ইতিহাসের এই দিনে : ১৬ অক্টোবর ২০২৬

ভুট্টা বীজের আসল-নকল প্যাকেট চেনা দায়: প্রতারণা আতঙ্কে চরাঞ্চলের কৃষকরা

আপডেট সময় ০২:০২:৩৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬

লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার তিস্তা নদীর চরাঞ্চলে শুরু হয়েছে আগাম জাতের ভুট্টা চাষ। তবে বাজারে আসল ও নকল ভুট্টা বীজের প্যাকেট চেনা কঠিন হয়ে পড়ায় চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন স্থানীয় কৃষকরা। অসাধু ব্যবসায়ীরা নামিদামি কোম্পানির মোড়ক ব্যবহার করে ভেজাল বীজ বাজারজাত করায় সাধারণ কৃষকরা প্রতিনিয়ত প্রতারণার শিকার হচ্ছেন।
কৃষকদের মতে, বর্ষা পরবর্তী রবি মৌসুমে চরাঞ্চলে ধান চাষের সুযোগ থাকে না। অন্যান্য ফসলের তুলনায় খরচ কম এবং ফলন বেশি হওয়ায় ভুট্টাই এখানকার কৃষকদের প্রধান অর্থকরী ফসল। প্রতি বছর অক্টোবর মাস থেকেই চর এলাকায় আগাম জাতের ভুট্টা রোপণ শুরু হয়। কিন্তু গত বছর ভেজাল বীজ কিনে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ায় এবার শুরুতেই তৈরি হয়েছে ভয় ও সংশয়।
সম্প্রতি ১০ অক্টোবর পার্শ্ববর্তী পাটগ্রাম উপজেলার বানিয়াপাড়া এলাকায় ‘বীজ আইন ও বিধিমালা’ অমান্য করে অবৈধভাবে ভুট্টা বীজ প্যাকেটজাত করার অপরাধে একটি গোডাউন সিলগালা করেন উপজেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) বিশাল দাস। সেখানে হাতীবান্ধার আল-আমিন নামের এক ব্যক্তির নির্দেশে ‘বাহুবলী-৫৫৫’ (বিজেতা সীডস) জাতের মোড়কে বীজ প্যাকেটজাত করা হচ্ছিল বলে শ্রমিকরা জানায়। যদিও আল-আমিনের দাবি, ভারত থেকে বীজ আমদানি করে কোম্পানির সরবরাহ করা ব্র্যান্ডের মোড়কেই তা প্যাকেটজাত করা হচ্ছিল।
অন্যদিকে, ‘বিজেতা সীডস’ কোম্পানির বীজ কিনে প্রতারিত হয়ে ব্যবসায়ীদের লাপাত্তা হওয়া এবং কৃষকদের কান্নার একটি পুরনো ভিডিও প্রতিবেদন নতুন করে ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। ফলে স্থানীয় খুচরা বিক্রেতাদের প্রতিও কৃষকদের আস্থা তলানিতে ঠেকেছে।
গড্ডিমারী চর এলাকার কৃষক আরমান ও সোনা মিয়া জানান, গোডাউন সিলগালা ও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল সংবাদের কারণে বীজ কেনা নিয়ে তারা ভীষণ দ্বিধাদ্বন্দ্বে আছেন। ধুবনী গ্রামের কৃষক আব্দুল মজিদের মতে, অসাধু ব্যবসায়ীরা লাভবান হলেও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন সাধারণ কৃষক। তবে গ্রাম পর্যায়ে কৃষি কর্মকর্তাদের তদারকি বা পরামর্শ না পাওয়ার অভিযোগও করেন তিনি।

🔔 নিউজ বিজয়ের সর্বশেষ খবর পেতে টেলিগ্রাম চ্যানেল জয়েন করুন

​এ বিষয়ে জানতে চাইলে হাতীবান্ধা উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মো. হারুন মিয়া জানান, মাঠ পর্যায়ের সকল বীজ ব্যবসায়ী এবং বিভিন্ন কোম্পানির প্রতিনিধিদের নিয়ে গত ৭ অক্টোবর উপজেলায় প্রায় ৫০০ জন সংশ্লিষ্ট অংশীজনকে সঙ্গে নিয়ে এক সচেতনতামূলক মতবিনিময় সভা করা হয়েছে।

​তিনি আরও বলেন, “অসাধু ব্যবসায়ীরা যাতে ভেজাল বা মেয়াদোত্তীর্ণ বীজ বাজারজাত করতে না পারেন, সে লক্ষ্যে কৃষি বিভাগ মাঠ পর্যায়ে নিয়মিত মনিটরিং করছে এবং সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। এরপরেও যদি কোনো কোম্পানি বা বীজ ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়, তবে জেলা বীজ প্রত্যয়ন অফিস ও উপজেলা প্রশাসনের মাধ্যমে তাৎক্ষণিক কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”