ঢাকা ০৯:২০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬, ৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং

🌤️ বাংলাদেশের বিভাগসমূহের লাইভ আবহাওয়া

নতুন করে ইরানে আঘাত হানতে পারে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল

মধ্যপ্রাচ্যে তীব্র উত্তেজনার মধ্যে আগামী সপ্তাহের শুরুতেই ইরানে যৌথ হামলা পুনরায় শুরু করার ব্যাপক প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল। নিউ ইয়র্ক টাইমসের একটি বিশেষ প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে এই তথ্য জানা গেছে।
মধ্যপ্রাচ্যের দুজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার বরাতে জানা গেছে, দুই দেশের সামরিক বাহিনী বর্তমানে এক নিবিড় প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রমে ব্যস্ত রয়েছে। গত এপ্রিলের শুরুতে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় হওয়া যুদ্ধবিরতির পর থেকে এখন পর্যন্ত এটিকে সবচেয়ে বড় ও গুরুত্বপূর্ণ সামরিক প্রস্তুতি হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।

তেল আবিবের বেন গুরিওন বিমানবন্দরে মার্কিন বিমান বাহিনীর যুদ্ধবিমানগুলোর অবস্থান এবং সামরিক গতিবিধি এই প্রস্তুতির সত্যতা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

উদ্ভূত পরিস্থিতির বিষয়ে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ আইনপ্রণেতাদের জানিয়েছেন, যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় আমেরিকার সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা রয়েছে। ওয়াশিংটন প্রয়োজনে সামরিক শক্তি বৃদ্ধি করতে, কৌশলগতভাবে পিছু হটতে অথবা যুদ্ধক্ষেত্রের সম্পদ অন্য স্থানে সরিয়ে নিতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত। তবে মার্কিন প্রশাসন এখনই আলোচনার পথ একেবারে বন্ধ করতে চাইছে না, যদিও কূটনৈতিক সমাধানের ক্ষেত্র ক্রমেই সংকুচিত হয়ে আসছে।

এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বর্তমান নেতৃত্বের ওপর তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি অভিযোগ করেন, ইরান এর আগে একাধিকবার চুক্তিতে সম্মত হলেও পরবর্তীতে তা মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।

ট্রাম্প স্পষ্ট ভাষায় বলেন, প্রতিবার একটি চুক্তি হওয়ার পরদিনই তারা এমন আচরণ করে যেন এই বিষয়ে কোনো আলোচনাই হয়নি। পূর্ববর্তী চুক্তিগুলোর একটি অন্যতম প্রধান শর্ত ছিল ইরানকে তাদের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম যুক্তরাষ্ট্রের কাছে হস্তান্তর করতে হবে, যা পরবর্তীতে মাটির গভীর থেকে নিষ্কাশন করার কথা ছিল।

নিউ ইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, হামলা পুনরারম্ভ হলে ইরান তাদের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ ৯০ শতাংশে উন্নীত করতে পারে বলে হুমকি দিয়েছেন ইরানি পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা বিষয়ক মুখপাত্র ইব্রাহিম রেজাই। এর জবাবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানান, তিনি ইরানি স্থাপনা ধ্বংস করে ইউরেনিয়াম মাটির নিচে চাপা দেওয়ার চেয়ে সেটি সরাসরি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিতে বেশি পছন্দ করবেন।

ইরানের উদ্দেশ্যে একটি চূড়ান্ত হুঁশিয়ারি দিয়ে ট্রাম্প বলেন, তেহরানের সামনে এখন দুটি পথ খোলা রয়েছে—হয় তারা একটি স্থায়ী চুক্তিতে আসবে, অন্যথায় তাদের সম্পূর্ণ ধ্বংসের মুখোমুখি হতে হবে। যেকোনো সুস্থ মস্তিষ্কের মানুষ এই পরিস্থিতিতে চুক্তি করবে উল্লেখ করে তিনি মন্তব্য করেন, ইরানের বর্তমান নেতৃত্ব হয়তো কাণ্ডজ্ঞানহীন আচরণ করছে এবং মার্কিন প্রশাসন তাদের প্রতি আর বেশিদিন ধৈর্য দেখাবে না। সূত্র: নিউইয়র্ক টাইমস।

নিউজ বিজয় ২৪ডট কম/এফএইচএন
আপলোডকারির তথ্য

NewsBijoy24. Com

📰 নিউজবিজয়২৪.কম এমন একটি অনলাইন সংবাদপত্র, যার প্রতিটি শব্দে জড়িয়ে আছে সত্যের অঙ্গীকার ও মানবিকতার দায়বদ্ধতা। এই পত্রিকাটি উৎসর্গ করা হলো আমার পরম শ্রদ্ধেয় মা ও বাবার পবিত্র স্মৃতির উদ্দেশ্যে-যারা আজ এই পৃথিবীতে নেই, কিন্তু তাদের শিক্ষা, আদর্শ ও দোয়ার আলো আজও আমাদের পথ দেখায়। তাদের নিঃস্বার্থ ত্যাগ ও ভালোবাসার প্রেরণায় প্রতিষ্ঠিত এই সংবাদমাধ্যমের লক্ষ্য সত্য প্রকাশ, অন্যায়ের প্রতিবাদ এবং মানুষের পাশে নির্ভীকভাবে দাঁড়ানো। হে আল্লাহ, আমার মা-বাবাকে জান্নাতুল ফেরদৌসে উচ্চ মাকাম দান করুন। আমিন। NewsBijoy24.Com 📰 সত্যের পথে, বিশ্বাসের সাথে।
জনপ্রিয় সংবাদ
⚽ বিশ্বকাপ ফুটবল লাইভ স্কোর ২০২৬

দীর্ঘদিন বন্ধ ইউনিয়ন উপ স্বাস্থ্যেেকন্দ্র ভোগান্তিতে এলাকাবাসী

নতুন করে ইরানে আঘাত হানতে পারে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল

আপডেট সময় ০৭:১৮:২৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৭ মে ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যে তীব্র উত্তেজনার মধ্যে আগামী সপ্তাহের শুরুতেই ইরানে যৌথ হামলা পুনরায় শুরু করার ব্যাপক প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল। নিউ ইয়র্ক টাইমসের একটি বিশেষ প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে এই তথ্য জানা গেছে।
মধ্যপ্রাচ্যের দুজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার বরাতে জানা গেছে, দুই দেশের সামরিক বাহিনী বর্তমানে এক নিবিড় প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রমে ব্যস্ত রয়েছে। গত এপ্রিলের শুরুতে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় হওয়া যুদ্ধবিরতির পর থেকে এখন পর্যন্ত এটিকে সবচেয়ে বড় ও গুরুত্বপূর্ণ সামরিক প্রস্তুতি হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।

🔔 নিউজ বিজয়ের সর্বশেষ খবর পেতে টেলিগ্রাম চ্যানেল জয়েন করুন

তেল আবিবের বেন গুরিওন বিমানবন্দরে মার্কিন বিমান বাহিনীর যুদ্ধবিমানগুলোর অবস্থান এবং সামরিক গতিবিধি এই প্রস্তুতির সত্যতা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

উদ্ভূত পরিস্থিতির বিষয়ে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ আইনপ্রণেতাদের জানিয়েছেন, যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় আমেরিকার সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা রয়েছে। ওয়াশিংটন প্রয়োজনে সামরিক শক্তি বৃদ্ধি করতে, কৌশলগতভাবে পিছু হটতে অথবা যুদ্ধক্ষেত্রের সম্পদ অন্য স্থানে সরিয়ে নিতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত। তবে মার্কিন প্রশাসন এখনই আলোচনার পথ একেবারে বন্ধ করতে চাইছে না, যদিও কূটনৈতিক সমাধানের ক্ষেত্র ক্রমেই সংকুচিত হয়ে আসছে।

এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বর্তমান নেতৃত্বের ওপর তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি অভিযোগ করেন, ইরান এর আগে একাধিকবার চুক্তিতে সম্মত হলেও পরবর্তীতে তা মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।

ট্রাম্প স্পষ্ট ভাষায় বলেন, প্রতিবার একটি চুক্তি হওয়ার পরদিনই তারা এমন আচরণ করে যেন এই বিষয়ে কোনো আলোচনাই হয়নি। পূর্ববর্তী চুক্তিগুলোর একটি অন্যতম প্রধান শর্ত ছিল ইরানকে তাদের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম যুক্তরাষ্ট্রের কাছে হস্তান্তর করতে হবে, যা পরবর্তীতে মাটির গভীর থেকে নিষ্কাশন করার কথা ছিল।

নিউ ইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, হামলা পুনরারম্ভ হলে ইরান তাদের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ ৯০ শতাংশে উন্নীত করতে পারে বলে হুমকি দিয়েছেন ইরানি পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা বিষয়ক মুখপাত্র ইব্রাহিম রেজাই। এর জবাবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানান, তিনি ইরানি স্থাপনা ধ্বংস করে ইউরেনিয়াম মাটির নিচে চাপা দেওয়ার চেয়ে সেটি সরাসরি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিতে বেশি পছন্দ করবেন।

ইরানের উদ্দেশ্যে একটি চূড়ান্ত হুঁশিয়ারি দিয়ে ট্রাম্প বলেন, তেহরানের সামনে এখন দুটি পথ খোলা রয়েছে—হয় তারা একটি স্থায়ী চুক্তিতে আসবে, অন্যথায় তাদের সম্পূর্ণ ধ্বংসের মুখোমুখি হতে হবে। যেকোনো সুস্থ মস্তিষ্কের মানুষ এই পরিস্থিতিতে চুক্তি করবে উল্লেখ করে তিনি মন্তব্য করেন, ইরানের বর্তমান নেতৃত্ব হয়তো কাণ্ডজ্ঞানহীন আচরণ করছে এবং মার্কিন প্রশাসন তাদের প্রতি আর বেশিদিন ধৈর্য দেখাবে না। সূত্র: নিউইয়র্ক টাইমস।