ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে গাইবান্ধা জেলার পাঁচটি সংসদীয় আসনে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্র মিলিয়ে ৪৫ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। তাদের মধ্যে দলীয় ৩৫ জন ও স্বতন্ত্র প্রার্থী রয়েছে ১০ জন। ৫টি আসনে মোট ৬০ জন প্রার্থী মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছিলেন।
মনোনয়নপত্র জমাদানের শেষ দিন সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত প্রার্থীরা জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে তাঁদের মনোনয়নপত্র জমা দেন। তবে ফরম সংগ্রহকারী ৬০ জনের মধ্যে ১৫ জন মনোনয়নপত্র জমা দেননি।
সোমবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে পাঁচটি আসনে মোট ৪৫ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র জমার বিষয়টি নিশ্চিত করেন রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান মোল্লা। তিনি জানান, মনোনয়ন জমার শেষ দিনে তাঁর কার্যালয়ে ৭ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। জেলায় দলীয় ও স্বতন্ত্র মিলিয়ে ৬০ জন মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করলেও এর মধ্যে ৪৫ জন মনোনয়ন দাখিল করেছেন।
রিটার্নিং কর্মকর্তা আরও জানান, গাইবান্ধা-১ আসনে ১৩ জন মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করলেও জমা দিয়েছেন ১০ জন, গাইবান্ধা-২ আসনে ৯ জনের মধ্যে জমা দিয়েছেন ৮ জন, গাইবান্ধা-৩ আসনে ১০ জন, গাইবান্ধা-৪ আসনে ১০ জন ফরম নিলেও জমা দিয়েছেন ৬ জন এবং গাইবান্ধা-৫ আসনে ১৮ জন ফরম সংগ্রহ করে জমা দিয়েছেন ১১ জন প্রার্থী। তবে মনোনয়ন দাখিলকারী প্রার্থীদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা আসনভিত্তিকভাবে শিগগিরই প্রকাশ করা হবে।
আসনভিত্তিক উল্লেখযোগ্য মনোনয়ন দাখিলকারী প্রার্থীরা হলেন— গাইবান্ধা-১ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী অধ্যাপক ডা. খন্দকার জিয়াউল হক জিয়া, এলডিপির মো. শরিফুল ইসলাম, জাতীয় পার্টির ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী, জামায়াতের মাজেদুর রহমান এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী আরেফিন আজিজ সরদার ও মোস্তফা মহসিন।
গাইবান্ধা-২ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী মো. আনিসুজ্জামান খান বাবু, জাতীয় পার্টির আব্দুর রশিদ সরকার, জামায়াতে ইসলামীর আব্দুল করিম, কমিউনিস্ট পার্টির মিহির কুমার ঘোষ, বাসদের আহসানুল হক ও ইসলামী আন্দোলনের মোহাম্মদ আব্দুল মাজেদ।
গাইবান্ধা-৩ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী অধ্যাপক ডা. সৈয়দ মইনুল হাসান সাদিক, জামায়াতের অধ্যক্ষ নজরুল ইসলাম লেবু, জাতীয় পার্টির প্রার্থী মইনুর রাব্বি চৌধুরী, গণঅধিকার পরিষদের সুরুজ মিয়া এবং ইসলামী আন্দোলনের এটিএম আওলাদ হোসাইন।
গাইবান্ধা-৪ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী মোহাম্মদ শামীম কায়সার লিংকন, জামায়াতের আব্দুর রহিম সরকার, জাতীয় পার্টির কাজী মো. মশিউর রহমান এবং ইসলামী আন্দোলনের সৈয়দ তৌহিদুল ইসলাম।
গাইবান্ধা-৫ আসনে বিএনপির প্রার্থী ফারুক আলম সরকার, মোহাম্মদ আলী ও নাহিদুজ্জামান নিশাদ, জামায়াতের আব্দুল ওয়ারেছ, জাতীয় পার্টির ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী এএইচএম গোলাম শহীদ রঞ্জু।
মনোনয়নপত্র জমা দিতে এসে দলীয় প্রার্থীরা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে উৎসবমুখর পরিবেশের কথা বললেও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা বিভিন্ন অভিযোগ তুলে সুষ্ঠু ভোটের পরিবেশ ও প্রশাসনের নিরপেক্ষ ভূমিকার দাবি জানিয়েছেন।
এর আগে রবিবার বিকেল ৫টা পর্যন্ত জেলার পাঁচটি আসনে দলীয় ও স্বতন্ত্র মিলিয়ে মোট ৬০ জন প্রার্থী মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেন। এর মধ্যে গাইবান্ধা-১ আসনে ১৩ জন, গাইবান্ধা-২ আসনে ৯ জন, গাইবান্ধা-৩ আসনে ১০ জন, গাইবান্ধা-৪ আসনে ১০ জন এবং গাইবান্ধা-৫ আসনে ১৮ জন প্রার্থী ফরম সংগ্রহ করেছিলেন।
মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিনে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের মধ্যে ব্যাপক তৎপরতা ও উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা গেছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান মোল্লা বলেন, সব প্রার্থীকে নির্বাচনী আচরণবিধি কঠোরভাবে মেনে চলার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। নির্বাচন শান্তিপূর্ণ রাখতে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা সক্রিয়ভাবে দায়িত্ব পালন করছেন।
নিউজ বিজয় ২৪ডট কম/এফএইচএন
অনলাইন ডেস্ক : 



























