খুলনায় নগরীর একটি লেদ থেকে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ সময় তিনজনকে আটক করা হয়েছে।
শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় জোড়াগেট এলাকার ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কম্পানির ৩৩/১১ কেভি উপকেন্দ্রের পাশের একটি লেদ থেকে সরঞ্জামগুলো উদ্ধার করা হয়। লেদটি নজরুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তির মালিকানাধীন।
আটকরা হলেন, খুলনা সদরের নজরুল ইসলাম (৫৫), সোনাডাঙ্গা থানাধীন পশ্চিম বানিয়াখামার এলাকার রহমাতউল্লাহর ছেলে মো. আগবার আলী (৫৮) এবং বটিয়াঘাটা থানাধীন দারোগাভিটার মৃত আলী আহম্মেদের ছেলে শহিদুল ইসলাম (৪২)। তাদের খুলনা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) হেফাজতে রাখা হয়েছে।
কেএমপির ডিবি সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অস্ত্র তৈরির সন্ধান পায় কেএমপির ডিবি টিম। পরে সেখানে অভিযান চালিয়ে অস্ত্রের বিপুল পরিমাণ যন্ত্রাংশ উদ্ধার করা হয়েছে।
যে পরিমাণ অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে তা থেকে কমপক্ষে ৩০টি পূর্ণাঙ্গ অস্ত্র উদ্ধার করা যাবে।
উদ্ধার হওয়া যন্ত্রাংশ দিয়ে অন্তত ৩০টি অস্ত্র তৈরি করা সম্ভব বলে জানিয়েছেন খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের (কেএমপি) উপ-পুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ) তাজুল ইসলাম। তিনি জানান, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ডিবির একটি টিম অভিযান পরিচালনা করে যন্ত্রাংশগুলো উদ্ধার করে। যন্ত্রাংশগুলো অস্ত্রের প্রাথমিক কাঠামো তৈরির কাজে ব্যবহৃত হতো।
এই যন্ত্রাংশগুলো অ্যাসেম্বল করা হলে প্রায় ৩০টি আগ্নেয়াস্ত্র তৈরি করা সম্ভব।
তাজুল ইসলাম আরো জানান, আটক ব্যক্তিরা সরাসরি পূর্ণাঙ্গ অস্ত্র তৈরি করত না। এখানে মূলত অস্ত্রের যন্ত্রাংশ ছাঁচের মাধ্যমে তৈরি করা হতো। পরে সেগুলো অন্য একটি সেক্টরে পাঠিয়ে ফিনিশিং দেওয়া হতো। অর্থাৎ এটি একটি চক্রের অংশ হিসেবে কাজ করছিল।
তিনি বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, কারখানাটি অন্তত ছয় মাস ধরে কার্যক্রম চালিয়ে আসছিল। এর আগেও এখান থেকে অস্ত্র সরবরাহের তথ্য পেয়ে পুলিশ নজরদারি শুরু করে।
নির্বাচনের প্রাক্কালে এমন একটি কারখানা ধরা পড়াকে অত্যন্ত উদ্বেগজনক উল্লেখ করে উপ-পুলিশ কমিশনার বলেন, আমাদের কাছে তথ্য রয়েছে, এই অস্ত্রগুলো নির্বাচনী সহিংসতায় ব্যবহার হতে পারত।
খুলনায় সাম্প্রতিক সময়ে কয়েকটি হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। সেসব অপরাধী চক্র কিংবা সুন্দরবনকেন্দ্রিক সন্ত্রাসীরা এসব অস্ত্র ব্যবহার করতে পারে।
তাজুল ইসলাম আরো বলেন, এই ঘটনার সঙ্গে আরো ব্যবসায়ী ও কারিগর জড়িত থাকতে পারে। আমাদের অভিযান এখানেই শেষ নয়। পরবর্তী অপারেশনের মাধ্যমে এই অস্ত্র চক্রের সঙ্গে জড়িত সবাইকে আইনের আওতায় আনা হবে।
নিউজ বিজয় ২৪ডট কম/এফএইচএন
অনলাইন ডেস্ক : 



























