ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুর পর পুরো দেশজুড়ে এখন বিরাজ করছে গভীর শোক এবং একই সঙ্গে এক আত্মউপলব্ধির পরিবেশ। বর্তমান এই সংকটময় মুহূর্তে দেশটির সাধারণ মানুষের একটি বড় অংশ খামেনির প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানাতে এবং ইসলামি শাসনব্যবস্থার প্রতি সংহতি প্রকাশ করতে জড়ো হয়েছেন।
রাজধানীর প্রধান মসজিদে তিল ধারণের ঠাঁই নেই। প্রায় ৩৭ বছরেরও বেশি সময় ধরে ইরানের শাসনভার পরিচালনা করা এই প্রভাবশালী নেতাকে শেষ বিদায় জানাতে দেশটির সর্বস্তরের মানুষ সেখানে হাজির হয়েছেন।
ইরান সরকারের দাবি, তাদের কট্টর শত্রু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরাইলের আঘাতেই নিহত হয়েছেন এই সর্বোচ্চ নেতা। এমন পরিস্থিতিতে শোকাহত জনতার পক্ষ থেকে বিশ্বমঞ্চে একটি স্পষ্ট বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে—নেতাকে হত্যা করা হলেও ইরানের শাসনব্যবস্থা বা তাদের আদর্শিক ভিত্তিকে ভেঙে ফেলা সম্ভব নয়।
দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার কবলে থাকা ইরানের অর্থনীতি এমনিতেই ধুঁকছিল। তবে এই জাতীয় শোকের মুহূর্তে জনগণের মধ্যকার অভূতপূর্ব ঐক্য সাময়িকভাবে হলেও সেই অর্থনৈতিক চাপকে আড়াল করে রেখেছে। ক্ষমতার এই আকস্মিক ও বড় পরিবর্তনের পর দেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে সাধারণ মানুষের মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে।
ইরানের জনগণের একটি বড় অংশ আশা করছেন যে নতুন নেতৃত্বের এই রূপান্তর প্রক্রিয়া দেশে দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা বজায় রাখবে। অন্যদিকে, রাজনৈতিক বোদ্ধা এবং সাধারণ মানুষের আরেকটি অংশ আশঙ্কা করছেন, এই ঘটনা হয়তো ইরানের ওপর আবারও এক নতুন সংঘাতের পথ তৈরি করবে, যা দেশের জন্য আরও বড় বিপর্যয় ও তীব্র অর্থনৈতিক চাপ ডেকে আনতে পারে।
তবে চলমান এই জাতীয় ঐক্যের আবহে অনেকেই মনে করিয়ে দিচ্ছেন যে ইরানের অভ্যন্তরীণ তীব্র রাজনৈতিক বিভাজনের কথা ভুলে গেলে চলবে না। ইরান একটি বিশাল দেশ, যেখানে বহুবিধ রাজনৈতিক দল ও উপদল রয়েছে, যাদের আদর্শগত পার্থক্য অত্যন্ত স্পষ্ট।
যদিও বর্তমান এই তীব্র রাষ্ট্রীয় শোক ও সংকটের মুহূর্তে সেই রাজনৈতিক ফাটলগুলো সাময়িকভাবে ঢাকা পড়েছে, তবে বিশ্লেষকদের মতে, এই ঐক্য কেবলই সময়ের ব্যাপার মাত্র। অভ্যন্তরীণ এই বিভাজনগুলো যেকোনো মুহূর্তে আবারও সামনে চলে আসতে পারে।
সূত্র: আল-জাজিরা।
আন্তর্জাতিক ডেস্ক 


























