দীর্ঘ জল্পনা-কল্পনা ও গুঞ্জনের পর অবশেষে স্পিকারের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। জাতীয় সংসদ সচিবালয়ে শুক্রবার (২৪ জুলাই) বিকেলে স্পিকারের কাছে তার পদত্যাগপত্র আনুষ্ঠানিকভাবে জমা দেন বঙ্গভবনের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা।
২০২৩ সালের ১২ ফেব্রুয়ারিতে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার মো. সাহাবুদ্দিনকে রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়ন দেয়। রাজনৈতিক নেতাকর্মী বাদ দিয়ে একজন আমলাকে মনোনয়ন দেওয়ায় খোদ আওয়ামী লীগে ক্ষোভ তৈরি হয়। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর থেকেই তাঁর অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি হওয়ায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন মহল থেকে তাঁকে পদচ্যুত করার দাবি উঠেছিল।
এরপর নানা সময়ে তাঁর পদত্যাগ নিয়ে গুঞ্জন, তাঁর ‘নজরবন্দি’ থাকার গুজব এবং শারীরিক অসুস্থতাকে কেন্দ্র করে সম্ভাব্য পদত্যাগের খবরও গণমাধ্যমে এসেছে।
তবে স্বাস্থ্যগত জটিলতা ও শারীরিক অসামর্থ্যের কারণ দেখিয়ে আজ পদত্যাগ করেছেন দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন।
আজ শুক্রবার (২৪ জুলাই) বিকেলে রাষ্ট্রপতির সহকারী একান্ত সচিব এইচ এম সাগর বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, বিকেল সাড়ে চারটার দিকে তিনি রাষ্ট্রপতির স্বাক্ষর করা পদত্যাগপত্রটি নিয়ে জাতীয় সংসদ ভবনে আসেন এবং জাতীয় সংসদের স্পিকারের হাতে তা জমা দেন। এ সময় তিনি জানান, মূলত গুরুতর শারীরিক অসুস্থতার কারণেই রাষ্ট্রপতি পদত্যাগের এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
স্পিকারের উদ্দেশ্যে লেখা পদত্যাগপত্রে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন উল্লেখ করেন, তিনি হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও কিডনি জটিলতাসহ নানা শারীরিক সমস্যায় ভুগছেন। তাঁর হৃদযন্ত্রে বাইপাস সার্জারি করা হয়েছে এবং সম্প্রতি স্বাস্থ্য পরীক্ষায় তাঁর শরীরে ‘অটোনোমিক নিউরোপ্যাথি’ নামক রোগ শনাক্ত হয়েছে। এই ব্যাধির কারণে তিনি মাঝেমধ্যেই ক্ষণিক অচেতন হয়ে পড়েন। রোগসমূহের প্রাদুর্ভাবজনিত শারীরিক ও মানসিক অসামর্থ্যের কারণে রাষ্ট্রপতির মতো গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক পদের দায়িত্ব পালন করা তাঁর পক্ষে আর সম্ভব হচ্ছে না এবং তাঁর দীর্ঘমেয়াদে চিকিৎসার প্রয়োজন। এ অবস্থায় সংবিধানের ৫০(৩) অনুচ্ছেদের বিধান অনুযায়ী তিনি রাষ্ট্রপতির পদ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন।
পদত্যাগপত্রে দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট স্মরণ করে রাষ্ট্রপতি আরও উল্লেখ করেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মুখে তৎকালীন সরকারের পতনের পর দেশে তৈরি হওয়া শাসনতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক সংকট কাটাতে তিনি সংবিধানের ১০৬ অনুচ্ছেদের ক্ষমতাবলে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের মতামত কামনা করেছিলেন। পরবর্তীতে আপিল বিভাগের পরামর্শক্রমে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন করা হয়, যা দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে পরামর্শ করে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আয়োজন করে। ওই নির্বাচনের ফলাফলের ভিত্তিতে বর্তমান সরকার গঠিত হয়ে সফলভাবে দেশ পরিচালনা করছে। ফলে তাঁর সুদৃঢ় ও ইতিবাচক ভূমিকার কারণে দেশে কোনো সাংবিধানিক বিপর্যয় ঘটেনি বলে তিনি পত্রে দাবি করেন।
২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেওয়া মো. সাহাবুদ্দিন সংবিধানের ৫০(৩) অনুচ্ছেদের আলোকে স্পিকারকে উদ্দেশ্য করে লেখা নিজের এই পদত্যাগপত্রের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতির পদ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় নিলেন।
অনলাইন ডেস্ক : 

























