উত্তর আমেরিকার দেশ মেক্সিকোর সামনে এখনো তাদের সাম্প্রতিক ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচটি অপেক্ষা করছে। সেটি হলো চলতি বিশ্বকাপের সহ-স্বাগতিক দেশটির কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার আশা বর্তমানে কোটি কোটি সমর্থককে চরম উত্তেজনায় ভাসিয়ে রাখছে।
তবে হাভিয়ের আগিরের দল প্রতিযোগিতায় কতদূর যেতে পারবে—তা জানার আগেই এবার অনন্য এক রেকর্ড নিজেদের নামে করে নিয়েছে মেক্সিকান জাতীয় দল। এমনকি ২০২৬ বিশ্বকাপের এই কীর্তি ব্রাজিল-আর্জেন্টিনার মতো দেশগুলোও অর্জন করতে পারেনি।
তবে এটি মাঠের কোনো রেকর্ড নয়। এই কীর্তি এসেছে মেক্সিকোর সাধারণ মানুষের অভূতপূর্ব সমর্থন থেকে। গ্রুপ পর্ব শেষে ফিফা প্রকাশিত অফিশিয়াল তথ্যে দেখা গেছে, টুর্নামেন্টে অংশ নেওয়া ‘অ্যাডিডাস’ স্পন্সরড সবকটি দেশের মধ্যে মেক্সিকোর জার্সি সবচেয়ে বেশি বিক্রি হয়েছে।
চলতি বিশ্বকাপে ফুটবল-সংশ্লিষ্ট পণ্য বিক্রি থেকে অ্যাডিডাসের আয় হয়েছে ১.১৩ বিলিয়ন (১১৩ কোটি) মার্কিন ডলারেরও বেশি। আর এই বিশাল বাণিজ্যিক বাজারে অন্য সব পরাশক্তিকে পেছনে ফেলে মেক্সিকোর জার্সি তাদের ক্যাটালগের সবচেয়ে চাহিদাসম্পন্ন পণ্যে পরিণত হয়েছে।
তবে এই বাণিজ্যিক আধিপত্য কিন্তু হঠাৎ করেই আসেনি। টুর্নামেন্টের শুরু থেকেই মেক্সিকো দলটিকে ঘিরে এমন এক উন্মাদনা দেখা গেছে, যা অতীতে খুব কমই লক্ষ্য করা গেছে।
স্টেডিয়ামগুলো যেন রূপ নিয়েছে সবুজ সমুদ্রে, ফ্যান জোনগুলোতে উপচে পড়ছে মানুষের ভিড়, আর প্রতিটি ম্যাচকে কেন্দ্র করে রাজপথে নেমে আসছে উৎসবের আমেজ। সমর্থকদের এই আত্মিক বন্ধন প্রতিটি ম্যাচের সঙ্গে সঙ্গে আরও দৃঢ় হচ্ছে, যা এখন পুরো বিশ্বকাপের অন্যতম মূল আকর্ষণে পরিণত হয়েছে।
গত ম্যাচে ইকুয়েডরের বিরুদ্ধে দুর্দান্ত জয়ের পর মেক্সিকোর এই আকাশচুম্বী উন্মাদনার প্রমাণ আরও একবার পাওয়া গেছে। দলের ঐতিহাসিক জয় উদযাপন করতে ১০ লক্ষাধিক মানুষ কোনো দ্বিধা ছাড়াই মেক্সিকোর রাজপথগুলোতে নেমে আসেন।
মাঠের বাইরের লড়াইয়ে ইতোমধ্যেই নিজেদের প্রথম বড় জয়টি তুলে নিয়েছে মেক্সিকো। এখন কোটি ভক্তের মনে একটাই প্রশ্ন—সমর্থকদের এই ভালোবাসাকে সঙ্গী করে আগামীকাল মাঠের ভেতরের মহাগুরুত্বপূর্ণ লড়াইয়েও কি আরেকটি জয় ছিনিয়ে আনতে পারবে ‘এল ত্রি’?
সোমবার (৬ জুলাই) ঘরের মাঠ আজতেকা স্টেডিয়ামে কোয়ার্টার ফাইনালের লড়াইয়ে ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হবে মেক্সিকো।
স্পোর্টস ডেস্ক 






























