ঢাকা ০৩:৫৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং

🌤️ বাংলাদেশের বিভাগসমূহের লাইভ আবহাওয়া

চুল কালো করতে মেহেদি-ইন্ডিগো ব্যবহার: ইসলামে কী বলা হয়েছে?

  • ইসলাম ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৩:২০:২৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • 17

প্রশ্ন: বাজারে নানা ধরনের অর্গানিক বা ন্যাচারাল হেয়ার কালার পাওয়া যায় যেমন ইন্ডিগো পাউডারের সাথে মেহেদি মিশিয়ে তৈরি মিশ্রণ, যা চুলে ব্যবহার করলে চুল কালো হয়ে যায়। বয়সের কারণে চুল বা দাড়ি পেকে গেলে এ ধরনের উপাদান দিয়ে চুল কালো করা কি জায়েজ?

উত্তর: বয়সের ভারে চুল কিংবা দাড়ি পেকে গেলে কৃত্রিম উপায়ে সম্পূর্ণ কালো খেজাব বা রং ব্যবহার করা ইসলামি শরিয়তে নিষিদ্ধ ও নাজায়েজ। রং তৈরির উপাদানটি ভেষজ কিংবা অর্গানিক হলেও চূড়ান্ত ফলাফল যদি খাঁটি কালো রূপ ধারণ করে, তবে তা থেকে বিরত থাকা আবশ্যক। সুন্নাহর নির্দেশনা হলো, পাকা চুল বা দাড়ির শুভ্রতা পরিবর্তন করতে হবে মেহেদি বা অন্য কোনো রঙে (যেমন লালচে, হলুদ বা বাদামি), কিন্তু কুচকুচে কালো রং বর্জন করতে হবে।

এ বিষয়ে হাদিস শরিফে স্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা এসেছে। হজরত জাবের (রা.) বর্ণনা করেন, মক্কা বিজয়ের দিন রাসুলুল্লাহর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সমীপে হজরত আবু বকরের (রা.) প্রবীণ পিতা আবু কুহাফাকে নিয়ে আসা হলো। তখন তাঁর চুল-দাড়ি সাগামা (এক প্রকার ধবধবে সাদা ফুল ও ফলযুক্ত উদ্ভিদ) উদ্ভিদের মতো একেবারে সাদা হয়ে গিয়েছিল। তা দেখে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এরশাদ করলেন, এটি (সাদা চুল-দাড়ি) কোনো কিছু দ্বারা পরিবর্তন করো, তবে কালো রং ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকো। (সহিহ মুসলিম: ২১০২)

হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এরশাদ করেছেন, শেষ জামানায় কিছু লোক কবুতরের বুকের মতো কালো খেজাব ব্যবহার করবে। তারা কেয়ামতের দিন জান্নাতের সুবাসও পাবে না। (সুনানে আবু দাউদ: ৪২১২)

ইসলামের এই নিষেধাজ্ঞার হেকমত বা কারণ হলো, নিজের প্রকৃত বয়স গোপন করে অন্যের সামনে নিজেকে যুবক হিসেবে প্রকাশ করা বা প্রতারণা করা। ইবনুল কায়্যিম রাহ. বলেন, নিষিদ্ধ কালো খেজাব হচ্ছে এমন খেজাব, যে খেজাব দ্বারা ধোঁকা দেওয়া উদ্দেশ্য থাকে। যেমন বৃদ্ধা মহিলা চুলে কালো খেজাব ব্যবহার করে স্বামীকে ধোঁকা দিল, একইভাবে বৃদ্ধ লোক কালো খেজাব ব্যবহার করে স্ত্রীকে ধোঁকা দিল। কারণ এটি সুস্পষ্ট প্রতারণা। (যাদুল মাআদ: ৪/৩৬৮)

তবে কোনো ব্যক্তির যদি বার্ধক্যের আগেই অসুস্থতা কিংবা শারীরবৃত্তীয় অন্য কোনো ব্যতিক্রমী কারণে কম বয়সে চুল পেকে যায়, সে ক্ষেত্রে কোনো কোনো ফকিহ ও তাবেঈর মতে কালো খেজাব ব্যবহারে কিছুটা শিথিলতা রয়েছে। প্রসিদ্ধ তাবেয়ি ইমাম জুহরি (রহ.) বলেন, যখন আমাদের চেহারা সতেজ ও তারুণ্যদীপ্ত ছিল, তখন আমরা কালো খেজাব ব্যবহার করতাম। কিন্তু যখন চেহারায় বলিরেখা পড়ে গেল এবং দাঁত নড়বড়ে হলো, তখন আমরা কালো খেজাব ছেড়ে দিয়েছি। (ফাতহুল বারি: ১০/৩৬৭)

সুতরাং ইন্ডিগো পাউডার ও মেহেদির মিশ্রণ ব্যবহারের ক্ষেত্রে মূল বিষয় হলো এর চূড়ান্ত রং। যদি এই দুটি প্রাকৃতিক উপাদান মিশিয়ে চুলে দেওয়ার পর চুল একেবারে খাঁটি ও প্রগাঢ় কালো হয়ে যায়, তবে বয়স্কদের জন্য তা ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকা ওয়াজিব। পক্ষান্তরে, মিশ্রণটির ফলে যদি চুলে কালোর পাশাপাশি লালচে, কালচে-বাদামি বা তামাটে রঙের সুন্দর আভা তৈরি হয় এবং তা দেখতে খাঁটি কালো না দেখায়, তবে তা ব্যবহার করা জায়েজ।

নিউজ বিজয় ২৪ডট কম/এফএইচএন
আপলোডকারির তথ্য

NewsBijoy24. Com

📰 নিউজবিজয়২৪.কম এমন একটি অনলাইন সংবাদপত্র, যার প্রতিটি শব্দে জড়িয়ে আছে সত্যের অঙ্গীকার ও মানবিকতার দায়বদ্ধতা। এই পত্রিকাটি উৎসর্গ করা হলো আমার পরম শ্রদ্ধেয় মা ও বাবার পবিত্র স্মৃতির উদ্দেশ্যে-যারা আজ এই পৃথিবীতে নেই, কিন্তু তাদের শিক্ষা, আদর্শ ও দোয়ার আলো আজও আমাদের পথ দেখায়। তাদের নিঃস্বার্থ ত্যাগ ও ভালোবাসার প্রেরণায় প্রতিষ্ঠিত এই সংবাদমাধ্যমের লক্ষ্য সত্য প্রকাশ, অন্যায়ের প্রতিবাদ এবং মানুষের পাশে নির্ভীকভাবে দাঁড়ানো। হে আল্লাহ, আমার মা-বাবাকে জান্নাতুল ফেরদৌসে উচ্চ মাকাম দান করুন। আমিন। NewsBijoy24.Com 📰 সত্যের পথে, বিশ্বাসের সাথে।
জনপ্রিয় সংবাদ
⚽ আজকের সেরা ম্যাচগুলো ও লাইভ স্কোর

চাঁদপুরে কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযানে আটক ৩৭০

চুল কালো করতে মেহেদি-ইন্ডিগো ব্যবহার: ইসলামে কী বলা হয়েছে?

আপডেট সময় ০৩:২০:২৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

প্রশ্ন: বাজারে নানা ধরনের অর্গানিক বা ন্যাচারাল হেয়ার কালার পাওয়া যায় যেমন ইন্ডিগো পাউডারের সাথে মেহেদি মিশিয়ে তৈরি মিশ্রণ, যা চুলে ব্যবহার করলে চুল কালো হয়ে যায়। বয়সের কারণে চুল বা দাড়ি পেকে গেলে এ ধরনের উপাদান দিয়ে চুল কালো করা কি জায়েজ?

🔔 নিউজ বিজয়ের সর্বশেষ খবর পেতে টেলিগ্রাম চ্যানেল জয়েন করুন

উত্তর: বয়সের ভারে চুল কিংবা দাড়ি পেকে গেলে কৃত্রিম উপায়ে সম্পূর্ণ কালো খেজাব বা রং ব্যবহার করা ইসলামি শরিয়তে নিষিদ্ধ ও নাজায়েজ। রং তৈরির উপাদানটি ভেষজ কিংবা অর্গানিক হলেও চূড়ান্ত ফলাফল যদি খাঁটি কালো রূপ ধারণ করে, তবে তা থেকে বিরত থাকা আবশ্যক। সুন্নাহর নির্দেশনা হলো, পাকা চুল বা দাড়ির শুভ্রতা পরিবর্তন করতে হবে মেহেদি বা অন্য কোনো রঙে (যেমন লালচে, হলুদ বা বাদামি), কিন্তু কুচকুচে কালো রং বর্জন করতে হবে।

এ বিষয়ে হাদিস শরিফে স্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা এসেছে। হজরত জাবের (রা.) বর্ণনা করেন, মক্কা বিজয়ের দিন রাসুলুল্লাহর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সমীপে হজরত আবু বকরের (রা.) প্রবীণ পিতা আবু কুহাফাকে নিয়ে আসা হলো। তখন তাঁর চুল-দাড়ি সাগামা (এক প্রকার ধবধবে সাদা ফুল ও ফলযুক্ত উদ্ভিদ) উদ্ভিদের মতো একেবারে সাদা হয়ে গিয়েছিল। তা দেখে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এরশাদ করলেন, এটি (সাদা চুল-দাড়ি) কোনো কিছু দ্বারা পরিবর্তন করো, তবে কালো রং ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকো। (সহিহ মুসলিম: ২১০২)

হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এরশাদ করেছেন, শেষ জামানায় কিছু লোক কবুতরের বুকের মতো কালো খেজাব ব্যবহার করবে। তারা কেয়ামতের দিন জান্নাতের সুবাসও পাবে না। (সুনানে আবু দাউদ: ৪২১২)

ইসলামের এই নিষেধাজ্ঞার হেকমত বা কারণ হলো, নিজের প্রকৃত বয়স গোপন করে অন্যের সামনে নিজেকে যুবক হিসেবে প্রকাশ করা বা প্রতারণা করা। ইবনুল কায়্যিম রাহ. বলেন, নিষিদ্ধ কালো খেজাব হচ্ছে এমন খেজাব, যে খেজাব দ্বারা ধোঁকা দেওয়া উদ্দেশ্য থাকে। যেমন বৃদ্ধা মহিলা চুলে কালো খেজাব ব্যবহার করে স্বামীকে ধোঁকা দিল, একইভাবে বৃদ্ধ লোক কালো খেজাব ব্যবহার করে স্ত্রীকে ধোঁকা দিল। কারণ এটি সুস্পষ্ট প্রতারণা। (যাদুল মাআদ: ৪/৩৬৮)

তবে কোনো ব্যক্তির যদি বার্ধক্যের আগেই অসুস্থতা কিংবা শারীরবৃত্তীয় অন্য কোনো ব্যতিক্রমী কারণে কম বয়সে চুল পেকে যায়, সে ক্ষেত্রে কোনো কোনো ফকিহ ও তাবেঈর মতে কালো খেজাব ব্যবহারে কিছুটা শিথিলতা রয়েছে। প্রসিদ্ধ তাবেয়ি ইমাম জুহরি (রহ.) বলেন, যখন আমাদের চেহারা সতেজ ও তারুণ্যদীপ্ত ছিল, তখন আমরা কালো খেজাব ব্যবহার করতাম। কিন্তু যখন চেহারায় বলিরেখা পড়ে গেল এবং দাঁত নড়বড়ে হলো, তখন আমরা কালো খেজাব ছেড়ে দিয়েছি। (ফাতহুল বারি: ১০/৩৬৭)

সুতরাং ইন্ডিগো পাউডার ও মেহেদির মিশ্রণ ব্যবহারের ক্ষেত্রে মূল বিষয় হলো এর চূড়ান্ত রং। যদি এই দুটি প্রাকৃতিক উপাদান মিশিয়ে চুলে দেওয়ার পর চুল একেবারে খাঁটি ও প্রগাঢ় কালো হয়ে যায়, তবে বয়স্কদের জন্য তা ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকা ওয়াজিব। পক্ষান্তরে, মিশ্রণটির ফলে যদি চুলে কালোর পাশাপাশি লালচে, কালচে-বাদামি বা তামাটে রঙের সুন্দর আভা তৈরি হয় এবং তা দেখতে খাঁটি কালো না দেখায়, তবে তা ব্যবহার করা জায়েজ।