ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভোট কেন্দ্র মেরামতে নাম মাত্র কাজ করে টাকা আত্মসাত করার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের অর্থ বিভাগ থেকে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের ভোট কেন্দ্র হিসাবে রৌমারী উপজেলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মেরামতের জন্য কয়েক লক্ষ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। এতে রৌমারী উপজেলায় ৬টি ইউনিয়নে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা ১১৪ টি ও একটি শিশু কল্যানসহ ১১৫ টির মধ্যে ৩১ টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভোট কেন্দ্র মেরামতের জন্য বরাদ্দ পায়।
বরাদ্দের তালিকা অনুযায়ী নতুনবন্দর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোট কেন্দ্র মেরামতের জন্য ৫০ হাজার টাকা, ফুলবাড়ি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যলয় ১ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা, ইজলামারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ১ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা,চাক্তাবাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ৫০ হাজার টাকাসহ ৩১ টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এমন বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।
রবিবার ৮ ফেব্রুয়ারী সরেজমিনে নতুনবন্দর, ফুলবাড়ি ও ইজলামারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গেলে উন্নয়ন মূলক তেমন কাজ দেখতে পাওয়া যায় নি। বরাদ্দকৃত টাকা কোন কোন খাতে কিভাবে ব্যায় করেছেন তার ভাউচার দেখতে চাইলে সাংবাদিকদের দেখানো যাবে না বলেন, নতুনবন্দর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রাবেয়া খাতুন সোনালী। পরে রাগাম্বিত হয়ে বরাদ্দের ৫০ হাজার টাকার ভ্যাট কেটে ৪০ হাজার টাকার মালামাল ক্রয় ও মেরাতের ব্যায় ৫৭ হাজার ৪৮০ টাকার হিসাব দেখানো হয়েছে।
ফুলবাড়ি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভোট কেন্দ্র প্রধান শিক্ষক সিরাজুল ইসলামকে বিদ্যালয়ে পাওয়া যায়নি। ইজলামারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভোট কেন্দ্র প্রধান শিক্ষক খলিলুর রহমান তার প্রতিষ্ঠানে ১ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা বরাদ্দের ভ্যাট কেটে ১ লক্ষ ২০ টাকা মালামাল ক্রয় ও মেরামতের কাজ করে হিসাব দেখানো হয়েছে ১লক্ষ ৩১ হাজার ৭০০ টাকা।
স্থানীয় এলাকাবাসী নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক কয়েকজন জানান, ভোট কেন্দ্র মেরামতের নামে প্রধান শিক্ষকগণ যে অর্থ পেয়েছে, পারলে সব টাকা আত্মসাত করবে। তবে ৫০ হাজার টাকার স্থলে মাত্র ১৮/২০ হাজার টাকার কাজ করেছেন।
অভিযোগে জানা যায়, ভোট কেন্দ্র মেরামতে কাজ নয়ছয় করে ৫ সদস্য বিশিষ্ট পরিদর্শন টিমের নিকট কাজের ভাউচার পাকাপাকি সহি নিয়ে উপজেলায় জমা দিয়েছেন।
এবিষয়ে উপজেলা সহকারি শিক্ষা অফিসার নাজমুল করিম বলেন, এ গুলো আমি দেখি না। উপজেলা নির্বাহী অফিসার ভোট কেন্দ্র মেরামতের জন্য ৫ সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করে দিয়েছেন। তারাই এগুলো দেখেন।
পরিদর্শনে ৫ সদস্য বিশিষ্ট কমিটির সদস্য উপজেলা সহকারি প্রকৌশলী জাহাঙ্গির হোসেনকে জিজ্ঞাস করলে তিনি জানান, আমি পরিদর্শনে নতুনবন্দর স্কুলে গিয়েছিলাম। তারা ৪০ হাজারের মধ্যে ৩৮ হাজার টাকার মালামাল ক্রয় ও মেরামত করেছেন। তবে এর মধ্যে ১০ হাজার টাকার একটি চেয়ার বাকি দেখেছি। তা তারাতারি নেয়ার জন্য বলা হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার আলাউদ্দিন বলেন, এ সমস্ত ভোট কেন্দ্র পরিদর্শনের জন্য ৫ সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করা আছে। তারা এগুলো দেখা শোনা করবেন। তাদের সাথে কথা বলুন।
নিউজ বিজয় ২৪ডট কম/এফএইচএন
মাজহারুল ইসলাম ,রৌমারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি : 




























