ঢাকা ১২:৫৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং

🌤️ বাংলাদেশের বিভাগসমূহের লাইভ আবহাওয়া

একজন অপবিত্র হলে তার স্পর্শে কি অন্যজনও অপবিত্র হন?

প্রশ্ন: অপবিত্র ব্যক্তি তথা গোসল ফরজ থাকা ব্যক্তি যদি পবিত্র কোনো ব্যক্তির সঙ্গে হাত মেলায় বা তাকে স্পর্শ করে, তাহলে তার শরীর কি নাপাক হয়ে যাবে?

উত্তর: ইসলামি শরিয়তের দৃষ্টিকোণ থেকে নাপাকি বা অপবিত্রতা মৌলিকভাবে দুই প্রকার:
১. নাজাসাতে হাকিকি (প্রকৃত নাপাকি): যেমন মলমূত্র, প্রবহমান রক্ত ইত্যাদি বাহ্যিক নাপাক বস্তু। এসব বস্তু কারো শরীরে বা কাপড়ে লাগলে ওই নির্দিষ্ট স্থান বা কাপড় নাপাক হয়ে যায়। এই নাপাকি থেকে পবিত্র হতে হলে নাপাক বস্তুটি দূর করে সংশ্লিষ্ট স্থান ভালোভাবে ধুয়ে নিতে হয়।

কারো হাতে বা শরীরের অন্য কোথাও নাজাসাতে হাকিকি লেগে থাকা অবস্থায় সে যদি অন্য কারো শরীর স্পর্শ করে, তার শরীরেও নাপাকি লেগে যায়, তাহলে তার শরীরও নাপাক হয়ে যাবে।

২. নাজাসাতে হুকমি (বিধানগত নাপাকি): যেমন সহবাস, স্বপ্নদোষ বা বীর্যপাতের কারণে বা হায়েজ-নেফাসের কারণে গোসল ফরজ হওয়া, মলমূত্র ত্যাগ করার কারণে অজু ফরজ হওয়া ইত্যাদি। এটি বাহ্যিক কোনো নাপাকি নয়, বরং একটি বিধানগত বিষয়।

কেউ নাজাসাতে হুকমির অন্তর্ভুক্ত অবস্থায় অর্থাৎ তার ওপর অজু-গোসল ফরজ থাকা অবস্থায় তাকে স্পর্শ করলে কিংবা তার সাথে চলাফেরা ও ওঠাবসা করলে অপর ব্যক্তি নাপাক হয় না।

হাদিসে এসেছে, উম্মুল মুমিনীনগণ মাসিক হায়েজ চলাকালেও রাসুলুল্লাহর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সাথে সাধারণ ওঠাবসা ও স্পর্শ করতেন। কিন্তু এ কারণে রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) পৃথকভাবে গোসল বা ওজু করতেন না। হজরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি পিরিয়ড চলাকালীন অবস্থায় রাসুলুল্লাহর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) চুল আঁচড়ে দিতাম। (সহিহ বুখারি: ২৯৫)

আরেকটি হাদিসে হজরত আবু হোরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন, একবার আমার সঙ্গে রাসুলুল্লাহর (সা.) দেখা হলো। তখন আমি অপবিত্র ছিলাম। তিনি আমার হাত ধরলেন এবং আমাকে নিয়েই চলতে লাগলেন। তিনি যখন বসে পড়লেন তখন আমি সঙ্কুচিতভাবে সরে পড়লাম এবং যথাস্থানে গিয়ে গোসল করলাম। তারপর আবার আমি তার কাছে উপস্থিত হলাম। তিনি তখনও সেখানে বসে বসে ছিলেন। আমাকে দেখে বললেন, হে আবু হোরায়রা! তুমি এতক্ষণ কোথায় ছিলে? তখন আমি তাকে আমার ব্যাপারটি বললাম। তা শুনে তিনি বললেন, সুবহানাল্লাহ! মুমিন ব্যক্তি কখনও অপবিত্র হয় না। (সহিহ বুখারি: ২৮৩)

সুতরাং হুকমিভাবে অপবিত্র তথা অজু-গোসল ফরজ হওয়া ব্যক্তির শারীরিক স্পর্শে অন্য কেউ অপবিত্র হবে না; তার শরীরের ওই জায়গা ধুয়ে ফেলতে হবে না বা তাকে অজু-গোসল করতে হবে না।

নিউজ বিজয় ২৪ডট কম/এফএইচএন
আপলোডকারির তথ্য

NewsBijoy24. Com

📰 নিউজবিজয়২৪.কম এমন একটি অনলাইন সংবাদপত্র, যার প্রতিটি শব্দে জড়িয়ে আছে সত্যের অঙ্গীকার ও মানবিকতার দায়বদ্ধতা। এই পত্রিকাটি উৎসর্গ করা হলো আমার পরম শ্রদ্ধেয় মা ও বাবার পবিত্র স্মৃতির উদ্দেশ্যে-যারা আজ এই পৃথিবীতে নেই, কিন্তু তাদের শিক্ষা, আদর্শ ও দোয়ার আলো আজও আমাদের পথ দেখায়। তাদের নিঃস্বার্থ ত্যাগ ও ভালোবাসার প্রেরণায় প্রতিষ্ঠিত এই সংবাদমাধ্যমের লক্ষ্য সত্য প্রকাশ, অন্যায়ের প্রতিবাদ এবং মানুষের পাশে নির্ভীকভাবে দাঁড়ানো। হে আল্লাহ, আমার মা-বাবাকে জান্নাতুল ফেরদৌসে উচ্চ মাকাম দান করুন। আমিন। NewsBijoy24.Com 📰 সত্যের পথে, বিশ্বাসের সাথে।
জনপ্রিয় সংবাদ
⚽ আজকের সেরা ম্যাচগুলো ও লাইভ স্কোর

ইতিহাসের এই দিনে : ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ইং

একজন অপবিত্র হলে তার স্পর্শে কি অন্যজনও অপবিত্র হন?

আপডেট সময় ১১:২২:১৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

প্রশ্ন: অপবিত্র ব্যক্তি তথা গোসল ফরজ থাকা ব্যক্তি যদি পবিত্র কোনো ব্যক্তির সঙ্গে হাত মেলায় বা তাকে স্পর্শ করে, তাহলে তার শরীর কি নাপাক হয়ে যাবে?

🔔 নিউজ বিজয়ের সর্বশেষ খবর পেতে টেলিগ্রাম চ্যানেল জয়েন করুন

উত্তর: ইসলামি শরিয়তের দৃষ্টিকোণ থেকে নাপাকি বা অপবিত্রতা মৌলিকভাবে দুই প্রকার:
১. নাজাসাতে হাকিকি (প্রকৃত নাপাকি): যেমন মলমূত্র, প্রবহমান রক্ত ইত্যাদি বাহ্যিক নাপাক বস্তু। এসব বস্তু কারো শরীরে বা কাপড়ে লাগলে ওই নির্দিষ্ট স্থান বা কাপড় নাপাক হয়ে যায়। এই নাপাকি থেকে পবিত্র হতে হলে নাপাক বস্তুটি দূর করে সংশ্লিষ্ট স্থান ভালোভাবে ধুয়ে নিতে হয়।

কারো হাতে বা শরীরের অন্য কোথাও নাজাসাতে হাকিকি লেগে থাকা অবস্থায় সে যদি অন্য কারো শরীর স্পর্শ করে, তার শরীরেও নাপাকি লেগে যায়, তাহলে তার শরীরও নাপাক হয়ে যাবে।

২. নাজাসাতে হুকমি (বিধানগত নাপাকি): যেমন সহবাস, স্বপ্নদোষ বা বীর্যপাতের কারণে বা হায়েজ-নেফাসের কারণে গোসল ফরজ হওয়া, মলমূত্র ত্যাগ করার কারণে অজু ফরজ হওয়া ইত্যাদি। এটি বাহ্যিক কোনো নাপাকি নয়, বরং একটি বিধানগত বিষয়।

কেউ নাজাসাতে হুকমির অন্তর্ভুক্ত অবস্থায় অর্থাৎ তার ওপর অজু-গোসল ফরজ থাকা অবস্থায় তাকে স্পর্শ করলে কিংবা তার সাথে চলাফেরা ও ওঠাবসা করলে অপর ব্যক্তি নাপাক হয় না।

হাদিসে এসেছে, উম্মুল মুমিনীনগণ মাসিক হায়েজ চলাকালেও রাসুলুল্লাহর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সাথে সাধারণ ওঠাবসা ও স্পর্শ করতেন। কিন্তু এ কারণে রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) পৃথকভাবে গোসল বা ওজু করতেন না। হজরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি পিরিয়ড চলাকালীন অবস্থায় রাসুলুল্লাহর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) চুল আঁচড়ে দিতাম। (সহিহ বুখারি: ২৯৫)

আরেকটি হাদিসে হজরত আবু হোরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন, একবার আমার সঙ্গে রাসুলুল্লাহর (সা.) দেখা হলো। তখন আমি অপবিত্র ছিলাম। তিনি আমার হাত ধরলেন এবং আমাকে নিয়েই চলতে লাগলেন। তিনি যখন বসে পড়লেন তখন আমি সঙ্কুচিতভাবে সরে পড়লাম এবং যথাস্থানে গিয়ে গোসল করলাম। তারপর আবার আমি তার কাছে উপস্থিত হলাম। তিনি তখনও সেখানে বসে বসে ছিলেন। আমাকে দেখে বললেন, হে আবু হোরায়রা! তুমি এতক্ষণ কোথায় ছিলে? তখন আমি তাকে আমার ব্যাপারটি বললাম। তা শুনে তিনি বললেন, সুবহানাল্লাহ! মুমিন ব্যক্তি কখনও অপবিত্র হয় না। (সহিহ বুখারি: ২৮৩)

সুতরাং হুকমিভাবে অপবিত্র তথা অজু-গোসল ফরজ হওয়া ব্যক্তির শারীরিক স্পর্শে অন্য কেউ অপবিত্র হবে না; তার শরীরের ওই জায়গা ধুয়ে ফেলতে হবে না বা তাকে অজু-গোসল করতে হবে না।