ঢাকা ০৩:২৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং

🌤️ বাংলাদেশের বিভাগসমূহের লাইভ আবহাওয়া

বিশ্বজুড়ে ভয়াবহ খাদ্য সংকটের আশঙ্কা

ইরান-ইসরাইল ও মার্কিন যুদ্ধের জেরে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিশ্বজুড়ে রাসায়নিক সারের সরবরাহ মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে সারের আন্তর্জাতিক চালান প্রায় পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। সামরিক ও অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, এর ফলে বিশ্ববাজারে সারের আকাশচুম্বী দাম এবং তীব্র ঘাটতি দেখা দেবে, যা পরবর্তী সময়ে বিশ্বজুড়ে ফসলের উৎপাদন প্রায় ৩০ শতাংশ পর্যন্ত কমিয়ে দিতে পারে। এই উৎপাদন ঘাটতি খুব দ্রুতই কৃষিপণ্যের মূল্যের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলবে।

রাষ্ট্রসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) প্রধান অর্থনীতিবিদ ম্যাক্সিমো টোরেও আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, পরিস্থিতি দিন দিন আরও জটিল হয়ে উঠছে। কারণ সারের এই তীব্র সংকট আমাদের সরাসরি বিভিন্ন দেশের ফসল রোপণের নির্দিষ্ট সময়ের মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দিচ্ছে। এরই মধ্যে এশিয়ার বেশ কয়েকটি দেশে ফসল বোনার উপযুক্ত সময় পার হয়ে গেছে। সারের ঘাটতির কারণে তারা আর সময়মতো প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে পারছে না।

পরিস্থিতির ভয়াবহতা তুলে ধরে তিনি জানান, বর্তমান বাস্তবতায় বিশ্বের প্রধান খাদ্যশস্য রপ্তানিকারক দেশগুলো—যেমন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ব্রাজিল—তাদের চাষাবাদের ধরন বদলে ফেলতে পারে। সারের অভাব মেটাতে তারা গম ও ভুট্টার মতো শস্যের চাষ কমিয়ে দিয়ে সয়াবিনের মতো ফসলের দিকে ঝুঁকতে পারে, যা প্রাকৃতিকভাবে মাটিতে নাইট্রোজেন ধরে রাখতে সাহায্য করে।

এছাড়া বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম যেভাবে বাড়ছে, তাতে অনেক কৃষক তাদের উৎপাদিত ফসল খাদ্য হিসেবে ব্যবহার না করে জৈব জ্বালানি বা বায়োফুয়েল উৎপাদনে ব্যবহার করতে পারেন।

অর্থনীতিবিদ ম্যাক্সিমো টোরেও আরও সতর্ক করে বলেন, এরই মধ্যে বিশ্ববাজারে গম ও সয়াবিনের দাম বাড়তে শুরু করেছে। চলতি বছরের শেষার্ধে এই দাম বৃদ্ধির প্রবণতা আরও স্পষ্ট হবে এবং আগামী বছর নাগাদ কৃষিপণ্যের দাম এক লাফে অনেকটাই বেড়ে যেতে পারে।

শুধু খাদ্যশস্যের দামই নয়, এর সাথে জ্বালানি তেলের বর্ধিত মূল্য যুক্ত হয়ে বিশ্বজুড়ে খাদ্য মূল্যস্ফীতিকে এক বিপজ্জনক পর্যায়ে নিয়ে যাবে। যতদিন এই সংকটের সমাধান না হবে, সময়ের সাথে সাথে খাদ্য সংকটের এই ঝুঁকি আরও ঘনীভূত ও তীব্রতর হবে। সূত্র: আলজাজিরা।

নিউজ বিজয় ২৪ডট কম/এফএইচএন
আপলোডকারির তথ্য

NewsBijoy24. Com

📰 নিউজবিজয়২৪.কম এমন একটি অনলাইন সংবাদপত্র, যার প্রতিটি শব্দে জড়িয়ে আছে সত্যের অঙ্গীকার ও মানবিকতার দায়বদ্ধতা। এই পত্রিকাটি উৎসর্গ করা হলো আমার পরম শ্রদ্ধেয় মা ও বাবার পবিত্র স্মৃতির উদ্দেশ্যে-যারা আজ এই পৃথিবীতে নেই, কিন্তু তাদের শিক্ষা, আদর্শ ও দোয়ার আলো আজও আমাদের পথ দেখায়। তাদের নিঃস্বার্থ ত্যাগ ও ভালোবাসার প্রেরণায় প্রতিষ্ঠিত এই সংবাদমাধ্যমের লক্ষ্য সত্য প্রকাশ, অন্যায়ের প্রতিবাদ এবং মানুষের পাশে নির্ভীকভাবে দাঁড়ানো। হে আল্লাহ, আমার মা-বাবাকে জান্নাতুল ফেরদৌসে উচ্চ মাকাম দান করুন। আমিন। NewsBijoy24.Com 📰 সত্যের পথে, বিশ্বাসের সাথে।
জনপ্রিয় সংবাদ
⚽ বিশ্বকাপ ফুটবল লাইভ স্কোর ২০২৬

এমপিওভুক্ত শিক্ষক ও ঋণখেলাপিদের স্থানীয় নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণা চায় ইসি

বিশ্বজুড়ে ভয়াবহ খাদ্য সংকটের আশঙ্কা

আপডেট সময় ১১:০৬:৩০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২ মে ২০২৬

ইরান-ইসরাইল ও মার্কিন যুদ্ধের জেরে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিশ্বজুড়ে রাসায়নিক সারের সরবরাহ মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে সারের আন্তর্জাতিক চালান প্রায় পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। সামরিক ও অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, এর ফলে বিশ্ববাজারে সারের আকাশচুম্বী দাম এবং তীব্র ঘাটতি দেখা দেবে, যা পরবর্তী সময়ে বিশ্বজুড়ে ফসলের উৎপাদন প্রায় ৩০ শতাংশ পর্যন্ত কমিয়ে দিতে পারে। এই উৎপাদন ঘাটতি খুব দ্রুতই কৃষিপণ্যের মূল্যের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলবে।

🔔 নিউজ বিজয়ের সর্বশেষ খবর পেতে টেলিগ্রাম চ্যানেল জয়েন করুন

রাষ্ট্রসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) প্রধান অর্থনীতিবিদ ম্যাক্সিমো টোরেও আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, পরিস্থিতি দিন দিন আরও জটিল হয়ে উঠছে। কারণ সারের এই তীব্র সংকট আমাদের সরাসরি বিভিন্ন দেশের ফসল রোপণের নির্দিষ্ট সময়ের মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দিচ্ছে। এরই মধ্যে এশিয়ার বেশ কয়েকটি দেশে ফসল বোনার উপযুক্ত সময় পার হয়ে গেছে। সারের ঘাটতির কারণে তারা আর সময়মতো প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে পারছে না।

পরিস্থিতির ভয়াবহতা তুলে ধরে তিনি জানান, বর্তমান বাস্তবতায় বিশ্বের প্রধান খাদ্যশস্য রপ্তানিকারক দেশগুলো—যেমন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ব্রাজিল—তাদের চাষাবাদের ধরন বদলে ফেলতে পারে। সারের অভাব মেটাতে তারা গম ও ভুট্টার মতো শস্যের চাষ কমিয়ে দিয়ে সয়াবিনের মতো ফসলের দিকে ঝুঁকতে পারে, যা প্রাকৃতিকভাবে মাটিতে নাইট্রোজেন ধরে রাখতে সাহায্য করে।

এছাড়া বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম যেভাবে বাড়ছে, তাতে অনেক কৃষক তাদের উৎপাদিত ফসল খাদ্য হিসেবে ব্যবহার না করে জৈব জ্বালানি বা বায়োফুয়েল উৎপাদনে ব্যবহার করতে পারেন।

অর্থনীতিবিদ ম্যাক্সিমো টোরেও আরও সতর্ক করে বলেন, এরই মধ্যে বিশ্ববাজারে গম ও সয়াবিনের দাম বাড়তে শুরু করেছে। চলতি বছরের শেষার্ধে এই দাম বৃদ্ধির প্রবণতা আরও স্পষ্ট হবে এবং আগামী বছর নাগাদ কৃষিপণ্যের দাম এক লাফে অনেকটাই বেড়ে যেতে পারে।

শুধু খাদ্যশস্যের দামই নয়, এর সাথে জ্বালানি তেলের বর্ধিত মূল্য যুক্ত হয়ে বিশ্বজুড়ে খাদ্য মূল্যস্ফীতিকে এক বিপজ্জনক পর্যায়ে নিয়ে যাবে। যতদিন এই সংকটের সমাধান না হবে, সময়ের সাথে সাথে খাদ্য সংকটের এই ঝুঁকি আরও ঘনীভূত ও তীব্রতর হবে। সূত্র: আলজাজিরা।