ঢাকা ০২:২২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬, ৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং

🌤️ বাংলাদেশের বিভাগসমূহের লাইভ আবহাওয়া

থেমে গেল সুরের ধারা: আশা ভোঁসলের বিদায়ের গল্প

ছবি: সংগৃহীত

ভারতীয় সংগীতের আকাশে এক অনন্য নক্ষত্রের নাম আশা ভোঁসলে। কয়েক দশক ধরে তাঁর কণ্ঠের জাদুতে মুগ্ধ হয়েছে কোটি কোটি শ্রোতা। প্রেম, বিরহ, উচ্ছ্বাস কিংবা জীবনের গভীর অনুভূতি, সবকিছুকেই যেন তিনি কণ্ঠে রক্তমাংসের মতো জীবন্ত করে তুলেছিলেন। সেই কিংবদন্তি কণ্ঠ আজ স্মৃতির অমলিন আলো হয়ে রয়ে গেলেন শ্রোতাদের হৃদয়ে।
১৯৩৩ সালে মহারাষ্ট্রের সাঙ্গলি অঞ্চলে জন্মগ্রহণ করেন আশা ভোঁসলে। তাঁর বাবা ছিলেন প্রখ্যাত শাস্ত্রীয় সংগীতশিল্পী দীননাথ মঙ্গেশকর। ছোটবেলাতেই বাবাকে হারানোর পর সংসারের দায়িত্ব এসে পড়ে তাঁর এবং বড় বোন লতা মঙ্গেশকরের কাঁধে। খুব অল্প বয়সেই তাই গানকে পেশা হিসেবে বেছে নিতে হয় তাঁকে।

মাত্র দশ বছর বয়সে প্রথম গান গেয়েছিলেন একটি মরাঠি ছবিতে। এরপর ধীরে ধীরে হিন্দি চলচ্চিত্রে নিজের জায়গা তৈরি করেন তিনি। শুরুটা সহজ ছিল না। সে সময় সংগীতজগতে শক্ত অবস্থান ছিল অনেক প্রতিষ্ঠিত শিল্পীর। তবু ধৈর্য আর প্রতিভা দিয়ে এক সময় নিজের আলাদা পরিচয় গড়ে তোলেন আশা ভোঁসলে।
ষাট ও সত্তরের দশকে সুরকার রাহুল দেব বর্মণের সঙ্গে তাঁর জুটি হয়ে ওঠে কিংবদন্তি। তাঁদের সৃষ্ট অসংখ্য গান আজও শ্রোতাদের মুখে মুখে ফেরে। প্রেমের আবেশ, উচ্ছ্বাস কিংবা আধুনিক সুরের পরীক্ষায় তিনি ছিলেন সব সময় সাহসী।
গজল, আধুনিক গান, চলচ্চিত্রের গান, সব ধারাতেই সমান দক্ষ ছিলেন এই শিল্পী। এমনকি বয়সের শেষ দিকেও নতুন সুরের সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নেওয়ার অসাধারণ ক্ষমতা দেখিয়েছেন তিনি।

শুধু হিন্দি নয়, বাংলা গানেও ছিল তাঁর দাপট। বাংলা গানের শ্রোতারা আজও মনে রাখেন তাঁর গাওয়া জনপ্রিয় গানগুলো যেমন- কিনে দে রেশমি চুড়ি, আজ যাই, আসব আরেক দিন কিংবা একটা দেশলাই কাঠি জ্বালাও। পুজার মণ্ডপ থেকে শুরু করে নানা অনুষ্ঠানে এখনও বাজে সেই গান।

দীর্ঘ সংগীতজীবনে তিনি অসংখ্য সম্মাননা ও পুরস্কার পেয়েছেন। ভারতের সর্বোচ্চ চলচ্চিত্র সম্মান দাদাসাহেব ফালকে পুরস্কারসহ বহু মর্যাদাপূর্ণ স্বীকৃতি তাঁর ঝুলিতে রয়েছে। বিশ্বের অন্যতম বেশি গান রেকর্ড করা শিল্পী হিসেবেও তাঁর নাম ইতিহাসে লেখা আছে।

কণ্ঠের মোহ, সুরের মায়া আর অসংখ্য অমর গান। সব মিলিয়ে আশা ভোসলে যেন এক অনন্য যুগের প্রতীক। সময় বদলেছে, প্রজন্ম বদলেছে, কিন্তু তাঁর কণ্ঠের জাদু আজও শ্রোতাদের মনে একই রকম মুগ্ধতা ছড়িয়ে দেয়।

সংগীতপ্রেমীদের কাছে তাই তিনি শুধু একজন শিল্পী নন। এক অমলিন অনুভূতির নাম।

নিউজ বিজয় ২৪ডট কম/এফএইচএন
আপলোডকারির তথ্য

NewsBijoy24. Com

📰 নিউজবিজয়২৪.কম এমন একটি অনলাইন সংবাদপত্র, যার প্রতিটি শব্দে জড়িয়ে আছে সত্যের অঙ্গীকার ও মানবিকতার দায়বদ্ধতা। এই পত্রিকাটি উৎসর্গ করা হলো আমার পরম শ্রদ্ধেয় মা ও বাবার পবিত্র স্মৃতির উদ্দেশ্যে-যারা আজ এই পৃথিবীতে নেই, কিন্তু তাদের শিক্ষা, আদর্শ ও দোয়ার আলো আজও আমাদের পথ দেখায়। তাদের নিঃস্বার্থ ত্যাগ ও ভালোবাসার প্রেরণায় প্রতিষ্ঠিত এই সংবাদমাধ্যমের লক্ষ্য সত্য প্রকাশ, অন্যায়ের প্রতিবাদ এবং মানুষের পাশে নির্ভীকভাবে দাঁড়ানো। হে আল্লাহ, আমার মা-বাবাকে জান্নাতুল ফেরদৌসে উচ্চ মাকাম দান করুন। আমিন। NewsBijoy24.Com 📰 সত্যের পথে, বিশ্বাসের সাথে।
জনপ্রিয় সংবাদ
⚽ বিশ্বকাপ ফুটবল লাইভ স্কোর ২০২৬

৯৬ বছরের ইতিহাসে যা হয়নি, সে বিশ্বরেকর্ড গড়ে ফেললেন মেসি

থেমে গেল সুরের ধারা: আশা ভোঁসলের বিদায়ের গল্প

আপডেট সময় ০৬:৩২:৪৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬

ভারতীয় সংগীতের আকাশে এক অনন্য নক্ষত্রের নাম আশা ভোঁসলে। কয়েক দশক ধরে তাঁর কণ্ঠের জাদুতে মুগ্ধ হয়েছে কোটি কোটি শ্রোতা। প্রেম, বিরহ, উচ্ছ্বাস কিংবা জীবনের গভীর অনুভূতি, সবকিছুকেই যেন তিনি কণ্ঠে রক্তমাংসের মতো জীবন্ত করে তুলেছিলেন। সেই কিংবদন্তি কণ্ঠ আজ স্মৃতির অমলিন আলো হয়ে রয়ে গেলেন শ্রোতাদের হৃদয়ে।
১৯৩৩ সালে মহারাষ্ট্রের সাঙ্গলি অঞ্চলে জন্মগ্রহণ করেন আশা ভোঁসলে। তাঁর বাবা ছিলেন প্রখ্যাত শাস্ত্রীয় সংগীতশিল্পী দীননাথ মঙ্গেশকর। ছোটবেলাতেই বাবাকে হারানোর পর সংসারের দায়িত্ব এসে পড়ে তাঁর এবং বড় বোন লতা মঙ্গেশকরের কাঁধে। খুব অল্প বয়সেই তাই গানকে পেশা হিসেবে বেছে নিতে হয় তাঁকে।

🔔 নিউজ বিজয়ের সর্বশেষ খবর পেতে টেলিগ্রাম চ্যানেল জয়েন করুন

মাত্র দশ বছর বয়সে প্রথম গান গেয়েছিলেন একটি মরাঠি ছবিতে। এরপর ধীরে ধীরে হিন্দি চলচ্চিত্রে নিজের জায়গা তৈরি করেন তিনি। শুরুটা সহজ ছিল না। সে সময় সংগীতজগতে শক্ত অবস্থান ছিল অনেক প্রতিষ্ঠিত শিল্পীর। তবু ধৈর্য আর প্রতিভা দিয়ে এক সময় নিজের আলাদা পরিচয় গড়ে তোলেন আশা ভোঁসলে।
ষাট ও সত্তরের দশকে সুরকার রাহুল দেব বর্মণের সঙ্গে তাঁর জুটি হয়ে ওঠে কিংবদন্তি। তাঁদের সৃষ্ট অসংখ্য গান আজও শ্রোতাদের মুখে মুখে ফেরে। প্রেমের আবেশ, উচ্ছ্বাস কিংবা আধুনিক সুরের পরীক্ষায় তিনি ছিলেন সব সময় সাহসী।
গজল, আধুনিক গান, চলচ্চিত্রের গান, সব ধারাতেই সমান দক্ষ ছিলেন এই শিল্পী। এমনকি বয়সের শেষ দিকেও নতুন সুরের সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নেওয়ার অসাধারণ ক্ষমতা দেখিয়েছেন তিনি।

শুধু হিন্দি নয়, বাংলা গানেও ছিল তাঁর দাপট। বাংলা গানের শ্রোতারা আজও মনে রাখেন তাঁর গাওয়া জনপ্রিয় গানগুলো যেমন- কিনে দে রেশমি চুড়ি, আজ যাই, আসব আরেক দিন কিংবা একটা দেশলাই কাঠি জ্বালাও। পুজার মণ্ডপ থেকে শুরু করে নানা অনুষ্ঠানে এখনও বাজে সেই গান।

দীর্ঘ সংগীতজীবনে তিনি অসংখ্য সম্মাননা ও পুরস্কার পেয়েছেন। ভারতের সর্বোচ্চ চলচ্চিত্র সম্মান দাদাসাহেব ফালকে পুরস্কারসহ বহু মর্যাদাপূর্ণ স্বীকৃতি তাঁর ঝুলিতে রয়েছে। বিশ্বের অন্যতম বেশি গান রেকর্ড করা শিল্পী হিসেবেও তাঁর নাম ইতিহাসে লেখা আছে।

কণ্ঠের মোহ, সুরের মায়া আর অসংখ্য অমর গান। সব মিলিয়ে আশা ভোসলে যেন এক অনন্য যুগের প্রতীক। সময় বদলেছে, প্রজন্ম বদলেছে, কিন্তু তাঁর কণ্ঠের জাদু আজও শ্রোতাদের মনে একই রকম মুগ্ধতা ছড়িয়ে দেয়।

সংগীতপ্রেমীদের কাছে তাই তিনি শুধু একজন শিল্পী নন। এক অমলিন অনুভূতির নাম।