ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের প্রেক্ষাপটে ঘোষিত দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিকে স্বাগত জানিয়েছে ভারত। তবে এই প্রক্রিয়ায় পাকিস্তানের সম্ভাব্য মধ্যস্থতাকারী ভূমিকা নিয়ে সম্পূর্ণ নীরব থেকেছে নয়াদিল্লি, যা নিয়ে দেশটির ভেতরে ও বাইরে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে যুদ্ধবিরতিকে ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করা হলেও সেখানে পাকিস্তানের নাম একবারও উল্লেখ করা হয়নি। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এই উদ্যোগ পশ্চিম এশিয়ায় স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠায় সহায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
একই সঙ্গে যুদ্ধের ফলে বৈশ্বিক তেল সরবরাহ ও বাণিজ্যে যে ব্যাঘাত ঘটেছে, সে বিষয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ভারত।
অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক মহলের বিভিন্ন নেতা ও বিশ্লেষকরা এই যুদ্ধবিরতিতে পাকিস্তানের ভূমিকার প্রশংসা করেছেন।
তাদের মতে, ইসলামাবাদ সরাসরি মধ্যস্থতাকারী না হলেও একটি কার্যকর ‘যোগাযোগ সেতু’ হিসেবে কাজ করেছে, যার মাধ্যমে সংঘাতের পক্ষগুলোর মধ্যে বার্তা আদান-প্রদান সহজ হয়েছে।
ভারতের সাবেক পররাষ্ট্র সচিব নিরুপমা মেনন রাও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে বলেন, পাকিস্তান এখানে মূল স্থপতি না হলেও একটি গুরুত্বপূর্ণ অনুঘটকের ভূমিকা পালন করেছে।
তার মতে, এটি প্রচলিত অর্থে মধ্যস্থতা না হলেও কূটনৈতিক অগ্রগতিতে তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
এদিকে, ভারতের বিরোধী দলগুলো বিষয়টিকে সরকারের কূটনৈতিক ব্যর্থতা হিসেবে দেখছে। কংগ্রেস নেতা রশিদ আলভি মন্তব্য করেছেন, এই ভূমিকা ভারতের নেওয়া উচিত ছিল, কিন্তু বর্তমান সরকারের অবস্থানের কারণে তা সম্ভব হয়নি।
বিশ্লেষক অশোক সোয়াইনের মতে, এই যুদ্ধবিরতি ইরানের জন্য কৌশলগত সাফল্য এবং পাকিস্তানের জন্য কূটনৈতিক অর্জন। তিনি দাবি করেন, পাকিস্তানকে আন্তর্জাতিকভাবে বিচ্ছিন্ন করার চেষ্টা করতে গিয়ে উল্টো ভারত নিজেই কিছুটা কোণঠাসা হয়ে পড়েছে।
অন্য বিশ্লেষকরাও মনে করছেন, যুক্তরাষ্ট্র, চীন, রাশিয়া এবং মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গে পাকিস্তানের ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক এই প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
এদিকে, ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর আগেই জানিয়েছেন, ভারত ‘মধ্যস্থতাকারী’ বা ‘ব্রোকার’ রাষ্ট্র হতে চায় না। তবে সমালোচকরা বলছেন, বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে এই অবস্থান ভারতের কূটনৈতিক প্রভাবকে সীমিত করতে পারে।
সাংবাদিক ও বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করছেন, এই পরিস্থিতি ভারতের জন্য আত্মসমালোচনার সুযোগ তৈরি করেছে—কূটনৈতিক অবস্থান, কৌশল এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ভারসাম্য নিয়ে নতুন করে ভাবার প্রয়োজন রয়েছে।
এদিকে, বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র সাময়িকভাবে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করায় দীর্ঘ সাত বছর পর আবারও ইরানের তেল ভারতে আসতে শুরু করেছে। ফলে যুদ্ধবিরতির প্রভাব শুধু কূটনীতিতেই নয়, জ্বালানি বাজারেও পড়তে শুরু করেছে।
সব মিলিয়ে, যুদ্ধবিরতি ঘিরে পাকিস্তানের ভূমিকা ও ভারতের অবস্থান এখন দক্ষিণ এশিয়ার কূটনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে।
আন্তর্জাতিক ডেস্ক 



























