ঢাকা ০৪:০৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং

🌤️ বাংলাদেশের বিভাগসমূহের লাইভ আবহাওয়া

প্যারোল মেলেনি, এবার কারাগারে ছেলের কাছে গেলেন মৃত বাবা!

মানবিকতার এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের সাক্ষী হলো কিশোরগঞ্জ জেলা কারাগার। বাবার জানাজায় অংশ নিতে প্যারোল না পেয়ে কারাবন্দি ছেলের কাছে শেষবারের মতো মরদেহ নিয়ে যেতে হলো স্বজনদের। কারাগারের গেটেই বাবার নিথর দেহ দেখে শোকে লুটিয়ে পড়েন বন্দি ছেলে। এমন মর্মান্তিক দৃশ্য দেখে চোখ ভিজে যায় উপস্থিত সবার।

বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টার দিকে কিশোরগঞ্জ জেলা কারাগারের সামনে এমন আবেগঘন ঘটনা ঘটে।

জানা যায়, কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলার পানাউল্লারচর এলাকার বাসিন্দা মিলন মিয়া (৪৫) বর্তমানে একটি রাজনৈতিক মামলায় কারাগারে রয়েছেন। তার বাবা ফুল মিয়া (৭০) দীর্ঘদিন ধরে ক্যানসারে আক্রান্ত ছিলেন। মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে ভৈরবের একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।

পরিবারের পক্ষ থেকে মিলন মিয়াকে বাবার জানাজায় অংশ নেওয়ার জন্য প্যারোলে মুক্তি দিতে জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের (জেলা প্রশাসক) কাছে আবেদন করা হয়। কিন্তু সেই আবেদন নামঞ্জুর করে কর্তৃপক্ষ নির্দেশ দেন, বন্দিকে দেখানোর জন্য মরদেহ কারাগারে নিয়ে যেতে হবে।

নিরুপায় স্বজনরা ৬০ কিলোমিটার দূর থেকে মরদেহবাহী অ্যাম্বুলেন্স নিয়ে জেলা কারাগারে আসেন। কারাগারের গেটে মরদেহ রাখা হলে মিলন মিয়াকে সেখানে আনা হয়। বাবার নিথর দেহ দেখে তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন এবং বারবার মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। এই দৃশ্য দেখে অনেকেই চোখের পানি ধরে রাখতে পারেননি।

মিলন মিয়ার চাচা মতিউর রহমান বলেন, আমরা অনেক চেষ্টা করেছি প্যারোলে মুক্তির জন্য, কিন্তু সফল হইনি। শেষ পর্যন্ত বাবার মরদেহ কারাগারে আনতে হয়েছে। জীবনে এমন নিষ্ঠুর দৃশ্য আর দেখিনি।

চাচাতো ভাই সালাম মিয়া ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, দাফন-কাফনের সময় আমাদের থাকার কথা ছিল পরিবারের পাশে। কিন্তু আমাদের দৌড়াতে হলো আদালত আর কারাগারে। এটা আমাদের জন্য মানসিক নির্যাতনের মতো।

আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আবদুল মোমেন ভূইয়া তুহিন দাবি করেন, মিলন মিয়া কোনো মামলার এজাহারভুক্ত আসামি নন। একটি মামলায় জামিন পাওয়ার পর আবার নতুন মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। মানবিক বিবেচনায় হলেও তাকে প্যারোল দেওয়া উচিত ছিল।

কিশোরগঞ্জ জেলা কারাগারের জেল সুপার রীতেশ চাকমা বলেন, জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের নির্দেশ অনুযায়ী আমরা ব্যবস্থা নিয়েছি। তার পাঠানো পত্র অনুসারে কারাগারের গেটে মরদেহ দেখানোর সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে।
নিউজ বিজয় ২৪ডট কম/এফএইচএন

নিউজ বিজয় ২৪ডট কম/এফএইচএন
আপলোডকারির তথ্য

NewsBijoy24. Com

📰 নিউজবিজয়২৪.কম এমন একটি অনলাইন সংবাদপত্র, যার প্রতিটি শব্দে জড়িয়ে আছে সত্যের অঙ্গীকার ও মানবিকতার দায়বদ্ধতা। এই পত্রিকাটি উৎসর্গ করা হলো আমার পরম শ্রদ্ধেয় মা ও বাবার পবিত্র স্মৃতির উদ্দেশ্যে-যারা আজ এই পৃথিবীতে নেই, কিন্তু তাদের শিক্ষা, আদর্শ ও দোয়ার আলো আজও আমাদের পথ দেখায়। তাদের নিঃস্বার্থ ত্যাগ ও ভালোবাসার প্রেরণায় প্রতিষ্ঠিত এই সংবাদমাধ্যমের লক্ষ্য সত্য প্রকাশ, অন্যায়ের প্রতিবাদ এবং মানুষের পাশে নির্ভীকভাবে দাঁড়ানো। হে আল্লাহ, আমার মা-বাবাকে জান্নাতুল ফেরদৌসে উচ্চ মাকাম দান করুন। আমিন। NewsBijoy24.Com 📰 সত্যের পথে, বিশ্বাসের সাথে।
জনপ্রিয় সংবাদ
⚽ বিশ্বকাপ ফুটবল লাইভ স্কোর ২০২৬

এমপিওভুক্ত শিক্ষক ও ঋণখেলাপিদের স্থানীয় নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণা চায় ইসি

প্যারোল মেলেনি, এবার কারাগারে ছেলের কাছে গেলেন মৃত বাবা!

আপডেট সময় ১০:৫৫:৫৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

মানবিকতার এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের সাক্ষী হলো কিশোরগঞ্জ জেলা কারাগার। বাবার জানাজায় অংশ নিতে প্যারোল না পেয়ে কারাবন্দি ছেলের কাছে শেষবারের মতো মরদেহ নিয়ে যেতে হলো স্বজনদের। কারাগারের গেটেই বাবার নিথর দেহ দেখে শোকে লুটিয়ে পড়েন বন্দি ছেলে। এমন মর্মান্তিক দৃশ্য দেখে চোখ ভিজে যায় উপস্থিত সবার।

🔔 নিউজ বিজয়ের সর্বশেষ খবর পেতে টেলিগ্রাম চ্যানেল জয়েন করুন

বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টার দিকে কিশোরগঞ্জ জেলা কারাগারের সামনে এমন আবেগঘন ঘটনা ঘটে।

জানা যায়, কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলার পানাউল্লারচর এলাকার বাসিন্দা মিলন মিয়া (৪৫) বর্তমানে একটি রাজনৈতিক মামলায় কারাগারে রয়েছেন। তার বাবা ফুল মিয়া (৭০) দীর্ঘদিন ধরে ক্যানসারে আক্রান্ত ছিলেন। মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে ভৈরবের একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।

পরিবারের পক্ষ থেকে মিলন মিয়াকে বাবার জানাজায় অংশ নেওয়ার জন্য প্যারোলে মুক্তি দিতে জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের (জেলা প্রশাসক) কাছে আবেদন করা হয়। কিন্তু সেই আবেদন নামঞ্জুর করে কর্তৃপক্ষ নির্দেশ দেন, বন্দিকে দেখানোর জন্য মরদেহ কারাগারে নিয়ে যেতে হবে।

নিরুপায় স্বজনরা ৬০ কিলোমিটার দূর থেকে মরদেহবাহী অ্যাম্বুলেন্স নিয়ে জেলা কারাগারে আসেন। কারাগারের গেটে মরদেহ রাখা হলে মিলন মিয়াকে সেখানে আনা হয়। বাবার নিথর দেহ দেখে তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন এবং বারবার মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। এই দৃশ্য দেখে অনেকেই চোখের পানি ধরে রাখতে পারেননি।

মিলন মিয়ার চাচা মতিউর রহমান বলেন, আমরা অনেক চেষ্টা করেছি প্যারোলে মুক্তির জন্য, কিন্তু সফল হইনি। শেষ পর্যন্ত বাবার মরদেহ কারাগারে আনতে হয়েছে। জীবনে এমন নিষ্ঠুর দৃশ্য আর দেখিনি।

চাচাতো ভাই সালাম মিয়া ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, দাফন-কাফনের সময় আমাদের থাকার কথা ছিল পরিবারের পাশে। কিন্তু আমাদের দৌড়াতে হলো আদালত আর কারাগারে। এটা আমাদের জন্য মানসিক নির্যাতনের মতো।

আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আবদুল মোমেন ভূইয়া তুহিন দাবি করেন, মিলন মিয়া কোনো মামলার এজাহারভুক্ত আসামি নন। একটি মামলায় জামিন পাওয়ার পর আবার নতুন মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। মানবিক বিবেচনায় হলেও তাকে প্যারোল দেওয়া উচিত ছিল।

কিশোরগঞ্জ জেলা কারাগারের জেল সুপার রীতেশ চাকমা বলেন, জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের নির্দেশ অনুযায়ী আমরা ব্যবস্থা নিয়েছি। তার পাঠানো পত্র অনুসারে কারাগারের গেটে মরদেহ দেখানোর সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে।
নিউজ বিজয় ২৪ডট কম/এফএইচএন