লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলায় টিআর, কাবিখা ও কাবিটা কর্মসূচির আওতায় বরাদ্দ দেওয়া একাধিক প্রকল্পে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। মাঠপর্যায়ে প্রকল্পের দৃশ্যমান অস্তিত্ব না থাকলেও ভুয়া বিল-ভাউচার ও মাস্টাররোলের মাধ্যমে সরকারি বরাদ্দের অর্থ ও খাদ্যশস্য উত্তোলনের অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।
অভিযোগ ও সরেজমিন অনুসন্ধানে জানা গেছে, প্রত্যন্ত এলাকার রাস্তাঘাট, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সরকারি স্থাপনার উন্নয়নে ত্রাণ ও পুনর্বাসন মন্ত্রণালয়ের আওতায় এসব প্রকল্প নেওয়া হয়। কাগজপত্রে শতভাগ কাজ সম্পন্ন দেখানো হলেও বেশ কয়েকটি প্রকল্পের বাস্তব চিত্র ভিন্ন বলে অভিযোগ রয়েছে।
এর মধ্যে কালীগঞ্জ উপজেলা পরিষদ চত্বরের ভেতরের সড়কগুলোতে সড়কবাতি স্থাপনের জন্য ৩ লাখ টাকা এবং উপজেলা পরিষদ গেট থেকে ফায়ার সার্ভিস পর্যন্ত সড়কবাতি স্থাপনের জন্য আরও ৩ লাখ ৮০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। দুই প্রকল্পে মোট ৬ লাখ ৮০ হাজার টাকা বরাদ্দ থাকলেও স্থানীয়দের অভিযোগ, সেখানে নতুন কোনো খুঁটি বা সড়কবাতি স্থাপন করা হয়নি। অথচ ২০২৬ সালের ৩০ জুনের মধ্যে বরাদ্দের অর্থ উত্তোলন করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ ছাড়া উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর ও ভেটেরিনারি হাসপাতালের মাঠে মাটি ভরাটের নামে ৫ মেট্রিক টন চাল এবং উপজেলা কৃষি অফিসের সামনে মাটি ভরাটের নামে ৫ মেট্রিক টনের বেশি খাদ্যশস্য বরাদ্দ উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে। তবে সরেজমিনে এসব স্থানে প্রকল্প অনুযায়ী মাটি ভরাটের কাজের দৃশ্যমান প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে দাবি স্থানীয়দের।
অন্যদিকে তুষভান্ডার বাজারে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের জন্য ৪ লাখ ৫ হাজার টাকা বরাদ্দ উত্তোলন করা হলেও বাজারের ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, সেখানে মাত্র কয়েকটি নিম্নমানের সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। বরাদ্দের পুরো অর্থের বিপরীতে প্রকল্পের বাস্তবায়ন কতটুকু হয়েছে, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি (পিআইসি) ও সংশ্লিষ্ট উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার (পিআইও) কার্যালয়ের কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারীর যোগসাজশে এসব অনিয়ম হয়ে থাকতে পারে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে আগের বরাদ্দে করা কাজকে নতুন প্রকল্প হিসেবে দেখিয়ে পুনরায় বরাদ্দ নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।
প্রকল্পগুলোর বিষয়ে কালীগঞ্জ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মাজহানুর রহমান বরাদ্দের অর্থ উত্তোলনের বিষয়টি স্বীকার করলেও অভিযোগের বিষয়ে সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে পারেননি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাইফুল ইসলাম বলেন, তিনি গত ২৫ জুন দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। বিষয়টি তিনি খতিয়ে দেখবেন বলে জানিয়েছেন।
এদিকে সরকারি বরাদ্দের অর্থ ও খাদ্যশস্যের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করতে প্রকল্পগুলো সরেজমিন তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল। একই সঙ্গে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা ও আইনানুগ পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
প্রতিবেদন: মো: ফারুক হোসেন তথ্যসুত্র: এনটিভি 



























