ঢাকা ০২:০৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট ২০২৬, ৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং

🌤️ বাংলাদেশের বিভাগসমূহের লাইভ আবহাওয়া

সার না পেয়ে কুড়িগ্রামে গোডাউন ভেঙে সার নিয়ে গেলেন কৃষকরা

সার না পেয়ে কুড়িগ্রামে গোডাউন ভেঙে সার নিয়ে গেলেন কৃষকরা

কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে এক সার ডিলারের গোডাউনের দরজা ভেঙে প্রায় ১০ হাজার কেজি সার নিয়ে গেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। পরে পুলিশের তৎপরতায় ৩৩ জন কৃষক ৩৩টি সারের বস্তা ফেরত দিয়ে গেছেন। বাকি সার উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।

গতকাল রোববার বেলা ১১টার দিকে উপজেলার শিলখুড়ি ইউনিয়নের মেসার্স শাহ আমানত ডিলার পয়েন্টে এ ঘটনা ঘটে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ভূরুঙ্গামারী থানার ওসি আজিমুদ্দিন।

স্থানীয়দের বরাতে পুলিশ জানায়, ডিলার শাহ আমানত ট্রেডার্সের মালিক তাইফুর রহমান মুকুল ১ হাজার ৩২০ বস্তা ইউরিয়া সার বরাদ্দ পেয়েছিলেন। তার মধ্যে গুদামে মজুত ছিল ৩৪০ বস্তা সার। রোববার ২ শতাধিক কৃষক এ ডিলার পয়েন্টে সারের জন্য একত্রিত হন; কিন্তু দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষার পর পয়েন্ট না খুলে টালবাহানা করতে থাকেন ডিলার। ফলে টাকা দিয়েও সময়মতো চাহিদা মোতাবেক সার কিনতে না পেরে বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠেন কৃষক। পরে গোডাউনের দরজা ভেঙে ৫০ কেজি ওজনের ১৯৭ বস্তা বা ৯ হাজার ৮৫০ কেজি সার নিয়ে যান কৃষক।

ভূরুঙ্গামারী থানার ওসি আজিমুদ্দিন বলেন, ওই ইউনিয়নে চাহিদা প্রায় ৪ হাজার বস্তা সার। কিন্তু মোট বরাদ্দ ছিল ১ হাজার ৩২০টি বস্তা। উত্তোলন আরও কম ছিল। তবে ডিলার কৃষকের চাহিদামতো সার সরবরাহ করতে গড়িমসি করছিলেন। ফলে কৃষকরা সার না পাওয়ার শঙ্কা থেকে গোডাউন ভেঙে সার নিয়ে গেছে। তিনি আরও বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পুলিশের তৎপরতায় ইতোমধ্যে ৩৩ জন কৃষক ৩৩টি বস্তা ফেরত দিয়ে গেছে। বাকিগুলো উদ্ধারের চেষ্টা করছে পুলিশ ।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল জব্বার বলেন, উপজেলায় আগস্ট মাসে ইউরিয়া সারের চাহিদা ছিল ৬৮০ টন। সেটি আমরা পেয়েছি এবং বিতরণও চলছে। উপজেলায় ইউরিয়া সারের কোনো সংকট নেই জানিয়ে তিনি বলেন, কৃষকদের সঙ্গে ভুল বোঝাবুঝির কারণে এমনটি হয়ে থাকতে পারে। কৃষক আতঙ্কে এমন ঘটনা ঘটিয়েছে। আমরা কৃষকদের সচেতনতার জন্য কাজ করছি, আর আশ্বস্ত করছি সারের কোনো সংকট নেই। লুট হওয়া বাকি সারগুলো ফেরত আনার চেষ্টা চলছে।

এ বিষয়ে কথা বলার জন্য শাহ আমানত ট্রেডার্সের মালিক তাইফুর রহমান মুকুলের মোবাইলে একাধিকবার কল করলেও সেটি বন্ধ পাওয়া যায়।

ভূরুঙ্গামারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অমৃত দেবনাথ বলেন, কিছু উচ্ছৃঙ্খল মানুষ প্যানিক ছড়িয়ে গোডাউনের দরজা ভেঙে সার লুট করে নিয়ে গেছে। সরেজমিন পরিদর্শন করে এবং সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নিউজ বিজয় ২৪ডট কম/এফএইচএন
আপলোডকারির তথ্য

NewsBijoy24. Com

📰 নিউজবিজয়২৪.কম এমন একটি অনলাইন সংবাদপত্র, যার প্রতিটি শব্দে জড়িয়ে আছে সত্যের অঙ্গীকার ও মানবিকতার দায়বদ্ধতা। এই পত্রিকাটি উৎসর্গ করা হলো আমার পরম শ্রদ্ধেয় মা ও বাবার পবিত্র স্মৃতির উদ্দেশ্যে-যারা আজ এই পৃথিবীতে নেই, কিন্তু তাদের শিক্ষা, আদর্শ ও দোয়ার আলো আজও আমাদের পথ দেখায়। তাদের নিঃস্বার্থ ত্যাগ ও ভালোবাসার প্রেরণায় প্রতিষ্ঠিত এই সংবাদমাধ্যমের লক্ষ্য সত্য প্রকাশ, অন্যায়ের প্রতিবাদ এবং মানুষের পাশে নির্ভীকভাবে দাঁড়ানো। হে আল্লাহ, আমার মা-বাবাকে জান্নাতুল ফেরদৌসে উচ্চ মাকাম দান করুন। আমিন। NewsBijoy24.Com 📰 সত্যের পথে, বিশ্বাসের সাথে।
জনপ্রিয় সংবাদ
⚽ আজকের সেরা ম্যাচগুলো ও লাইভ স্কোর

সৌদি তেলবাহী জাহাজে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

সার না পেয়ে কুড়িগ্রামে গোডাউন ভেঙে সার নিয়ে গেলেন কৃষকরা

আপডেট সময় ১০:০১:৪০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৪ আগস্ট ২০২৬

কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে এক সার ডিলারের গোডাউনের দরজা ভেঙে প্রায় ১০ হাজার কেজি সার নিয়ে গেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। পরে পুলিশের তৎপরতায় ৩৩ জন কৃষক ৩৩টি সারের বস্তা ফেরত দিয়ে গেছেন। বাকি সার উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।

🔔 নিউজ বিজয়ের সর্বশেষ খবর পেতে টেলিগ্রাম চ্যানেল জয়েন করুন

গতকাল রোববার বেলা ১১টার দিকে উপজেলার শিলখুড়ি ইউনিয়নের মেসার্স শাহ আমানত ডিলার পয়েন্টে এ ঘটনা ঘটে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ভূরুঙ্গামারী থানার ওসি আজিমুদ্দিন।

স্থানীয়দের বরাতে পুলিশ জানায়, ডিলার শাহ আমানত ট্রেডার্সের মালিক তাইফুর রহমান মুকুল ১ হাজার ৩২০ বস্তা ইউরিয়া সার বরাদ্দ পেয়েছিলেন। তার মধ্যে গুদামে মজুত ছিল ৩৪০ বস্তা সার। রোববার ২ শতাধিক কৃষক এ ডিলার পয়েন্টে সারের জন্য একত্রিত হন; কিন্তু দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষার পর পয়েন্ট না খুলে টালবাহানা করতে থাকেন ডিলার। ফলে টাকা দিয়েও সময়মতো চাহিদা মোতাবেক সার কিনতে না পেরে বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠেন কৃষক। পরে গোডাউনের দরজা ভেঙে ৫০ কেজি ওজনের ১৯৭ বস্তা বা ৯ হাজার ৮৫০ কেজি সার নিয়ে যান কৃষক।

ভূরুঙ্গামারী থানার ওসি আজিমুদ্দিন বলেন, ওই ইউনিয়নে চাহিদা প্রায় ৪ হাজার বস্তা সার। কিন্তু মোট বরাদ্দ ছিল ১ হাজার ৩২০টি বস্তা। উত্তোলন আরও কম ছিল। তবে ডিলার কৃষকের চাহিদামতো সার সরবরাহ করতে গড়িমসি করছিলেন। ফলে কৃষকরা সার না পাওয়ার শঙ্কা থেকে গোডাউন ভেঙে সার নিয়ে গেছে। তিনি আরও বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পুলিশের তৎপরতায় ইতোমধ্যে ৩৩ জন কৃষক ৩৩টি বস্তা ফেরত দিয়ে গেছে। বাকিগুলো উদ্ধারের চেষ্টা করছে পুলিশ ।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল জব্বার বলেন, উপজেলায় আগস্ট মাসে ইউরিয়া সারের চাহিদা ছিল ৬৮০ টন। সেটি আমরা পেয়েছি এবং বিতরণও চলছে। উপজেলায় ইউরিয়া সারের কোনো সংকট নেই জানিয়ে তিনি বলেন, কৃষকদের সঙ্গে ভুল বোঝাবুঝির কারণে এমনটি হয়ে থাকতে পারে। কৃষক আতঙ্কে এমন ঘটনা ঘটিয়েছে। আমরা কৃষকদের সচেতনতার জন্য কাজ করছি, আর আশ্বস্ত করছি সারের কোনো সংকট নেই। লুট হওয়া বাকি সারগুলো ফেরত আনার চেষ্টা চলছে।

এ বিষয়ে কথা বলার জন্য শাহ আমানত ট্রেডার্সের মালিক তাইফুর রহমান মুকুলের মোবাইলে একাধিকবার কল করলেও সেটি বন্ধ পাওয়া যায়।

ভূরুঙ্গামারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অমৃত দেবনাথ বলেন, কিছু উচ্ছৃঙ্খল মানুষ প্যানিক ছড়িয়ে গোডাউনের দরজা ভেঙে সার লুট করে নিয়ে গেছে। সরেজমিন পরিদর্শন করে এবং সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।