মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতি হওয়ায় ঠাকুরগাঁও-১ আসনটি শূন্য হয়েছে। এ আসনের আসন্ন উপনির্বাচনে এখনো বিএনপির প্রার্থী চূড়ান্ত হয়নি।
তবে দেলাওয়ার হোসেনই আবার মাঠে থাকার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জামায়াত সূত্রে জানা গেছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রায় ৯৮ হাজার ভোটের ব্যবধানে জয় পেয়েছিলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
তার প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর দেলাওয়ার হোসেন পেয়েছিলেন এক লাখ ৪১ হাজারের বেশি ভোট।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, উপনির্বাচনে জামায়াতের সম্ভাব্য প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেন দলের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি।
বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে এগিয়ে রয়েছেন ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সভাপতি ও মির্জা ফখরুলের ছোট ভাই মির্জা ফয়সল আমিন। যদিও দলীয়ভাবে তার মনোনয়ন এখনো চূড়ান্ত হয়নি।
তবে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের মেয়ে অস্ট্রেলিয়াপ্রবাসী বাংলাদেশি চিকিৎসাবিজ্ঞানী শামারুহ মির্জাও এ আসনে প্রার্থী হতে পারেন বলে গুঞ্জন রয়েছে।
এছাড়া ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির দুই সহসভাপতি ওবায়দুল্লাহ মাসুদ ও সুলতানুল ফেরদৌস নম্র চৌধুরী মনোনয়ন চাইতে পারেন বলে জানা গেছে।
ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক পয়গাম আলী বলেন, বিএনপির প্রার্থী কে হবেন, সে সিদ্ধান্ত নেবে দলের হাইকমান্ড। দলের মধ্যে এ নিয়ে কোনো বিভাজন নেই এবং কেন্দ্র যাকে মনোনয়ন দেবে, নেতাকর্মীরা তার পক্ষেই কাজ করবেন।
জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সল আমিনের প্রার্থী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সল আমিন বলেন, উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে সরকারি দলের প্রার্থী নির্বাচন করা উচিত হবে জনগণের।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মির্জা ফখরুল দীর্ঘদিন ধরে এ আসনের পরিচিত রাজনৈতিক মুখ। তাই তার দলীয় পরিচয়ের পাশাপাশি ব্যক্তিগত গ্রহণযোগ্যতাও ভোটে প্রভাব ফেলেছে কি না, তা এবার বোঝা যাবে। বিএনপির নতুন প্রার্থীকে সেই ভোটের বড় অংশ ধরে রাখার সক্ষমতা দেখাতে হবে। এখানেই প্রার্থী বাছাই গুরুত্বপূর্ণ।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ায় শূন্য হওয়া ঠাকুরগাঁও-১ আসনে উপনির্বাচনে তার ছোট ভাই ও জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সাল আমিন সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে জোরালোভাবে আলোচনায় রয়েছেন। তৃণমূল নেতাকর্মীদের একটি বড় অংশের কাছে তিনি পরীক্ষিত ও পরিচিত মুখ। তবে দলীয় মনোনয়ন চূড়ান্ত হবে দলের শীর্ষ নেতৃত্বের সবুজ সংকেত ও তফসিল ঘোষণার পর।
ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির একাধিক নেতার মতে, মির্জা ফয়সাল আমিন ও শামারুহ মির্জা উভয়েই স্থানীয়দের কাছে জনপ্রিয়। কেন্দ্র থেকে যাকে মনোনয়ন দেওয়া হবে তার পক্ষেই কাজ করবেন তৃণমূল নেতাকর্মীরা, কারণ দলের সিদ্ধান্তকেই তারা চূড়ান্ত বলে মনে করেন। স্থানীয় রাজনীতিতে এমন আলোচনাও রয়েছে যে মির্জা ফখরুল রাষ্ট্রপতি হওয়ায় তার পরিবার বা ঘনিষ্ঠ মহল থেকেই উত্তরসূরি বেছে নেওয়া হতে পারে।
মির্জা ফয়সাল আমিন দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। তিনি ঠাকুরগাঁও পৌরসভার সাবেক মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং জেলা বিএনপি ও সদর উপজেলা বিএনপিতে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ছিলেন। তৃণমূল নেতাকর্মীদের একটি বড় অংশের কাছে তিনি পরীক্ষিত ও আস্থাভাজন নেতা হিসেবে পরিচিত। সমর্থকদের দাবি, আন্দোলন সংগ্রামে দীর্ঘদিনের সম্পৃক্ততা এবং অভিজ্ঞতার বিচারে দলের মাঠপর্যায়ের ঐক্য ধরে রাখার সক্ষমতায় তিনিই এগিয়ে থাকবেন।
অন্যদিকে জামায়াতের দেলাওয়ার হোসেনের সুবিধা হলো, তাকে নতুন করে পরিচয় করিয়ে দিতে হবে না। গত নির্বাচনে তিনি এক লাখ ৪১ হাজারের বেশি ভোট পেয়েছেন। এবার তার লক্ষ্য সেই ভোট ধরে রেখে বিএনপির নতুন প্রার্থীর দুর্বলতা কাজে লাগানো। উপনির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি কমলে সংগঠন ও মাঠের কর্মীদের সক্রিয়তা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
ঠাকুরগাঁও জেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক বেলাল উদ্দিন প্রধান বলেন, মাঠে আমাদের সাংগঠনিক কাজ চলছে। কেন্দ্র জানালে আমরা জানাতে পারব। তবে প্রার্থী বিকল্প হবেন না। প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেন হবেন। আমরা মানসিকভাবে প্রস্তুত। এখন কেন্দ্র জানালে আমরা নেমে পড়ব। কেন্দ্র না জানালে তো নির্বাচন করার সুযোগ নেই।
অনলাইন ডেস্ক : 


























