কৃষি ও মৎস্য খাতকে দেশের অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি হিসেবে গড়ে তুলতে উৎপাদন বৃদ্ধি, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, কৃষক-মৎস্যজীবীদের আয় বৃদ্ধি এবং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সরকার সমন্বিতভাবে কাজ করছে বলে জানিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু।
তিনি বলেন, কৃষক ও মৎস্যজীবীরা লাভবান হলেই দেশের অর্থনীতি শক্তিশালী হবে। এ কারণে উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন, কৃষি ও মৎস্যসম্পদের সুষ্ঠু ব্যবহার এবং উৎপাদকদের ন্যায্য সুবিধা নিশ্চিত করার দিকে সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে।
‘রূপালী মৎস্যে স্বনির্ভর দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্যে জাতীয় মৎস্য পক্ষ-২০২৬ উপলক্ষে রোববার (১৬ আগষ্ট) লালমনিরহাটে আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।
জেলা প্রশাসন ও মৎস্য অধিদপ্তরের যৌথ আয়োজনে সকালে সার্কিট হাউস থেকে বর্ণাঢ্য র্যালির মধ্য দিয়ে মৎস্য পক্ষের কার্যক্রম শুরু হয়। রঙিন বেলুন উড়িয়ে র্যালির উদ্বোধন করেন মন্ত্রী। পরে তিনি লালমনিরহাট পুলিশ লাইন্স পুকুরে বিভিন্ন প্রজাতির মাছের পোনা অবমুক্ত করেন।
জেলা অডিটোরিয়াম (পুরাতন)-এ অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় মন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার কৃষি ও মৎস্য খাতের সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে গ্রামীণ অর্থনীতিকে আরও গতিশীল করতে চায়। দেশের মানুষের খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি কৃষি ও মৎস্যভিত্তিক কর্মসংস্থান বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, দেশের উন্নয়ন শুধু অবকাঠামো নির্মাণের ওপর নির্ভর করে না; কৃষক, মৎস্যজীবীসহ উৎপাদনের সঙ্গে যুক্ত মানুষের জীবনমান উন্নয়নও উন্নয়নের গুরুত্বপূর্ণ সূচক। কৃষি ও মৎস্য খাতে উৎপাদন বাড়লেও উৎপাদক যদি ন্যায্য আয় না পান, তাহলে সেই উন্নয়নের সুফল সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছাবে না।
মন্ত্রী আরও বলেন, কৃষি ও মৎস্য খাতে সরকারের বিনিয়োগ ও পরিকল্পনার মূল লক্ষ্য হচ্ছে উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি উৎপাদকদের লাভবান করা এবং মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা। আধুনিক চাষাবাদ, নিরাপদ মাছ উৎপাদন, জলাশয়ের সুষ্ঠু ব্যবহার এবং মৎস্যসম্পদের সংরক্ষণে কার্যকর পদক্ষেপের মাধ্যমে এ খাতকে আরও সমৃদ্ধ করার কাজ চলছে।
তিনি বলেন, একসময় দেশের অনেক জলাশয় ও মৎস্যসম্পদের যথাযথ ব্যবহার হতো না। এখন এসব সম্পদকে উৎপাদনের আওতায় এনে গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর আয় ও কর্মসংস্থান বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে মাছের উৎপাদন বৃদ্ধির মাধ্যমে দেশের পুষ্টি চাহিদা পূরণ এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে মৎস্য খাতের অবদান আরও বাড়ানো সম্ভব।
মন্ত্রী বলেন, কৃষি ও মৎস্য খাতের উন্নয়নকে বিচ্ছিন্নভাবে দেখলে হবে না। কৃষক, মৎস্যজীবী, উদ্যোক্তা, বাজারব্যবস্থা ও সরকারি সহায়তার মধ্যে সমন্বয় তৈরি করতে হবে। বর্তমান সরকার এ সমন্বয়ের মাধ্যমে উৎপাদনভিত্তিক অর্থনীতিকে শক্তিশালী করার দিকে এগোচ্ছে।
অনুষ্ঠানে বক্তারা নিরাপদ মাছ উৎপাদন, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, মৎস্যসম্পদের সংরক্ষণ, উৎপাদন বৃদ্ধি এবং মৎস্যজীবীদের সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।
অনুষ্ঠানে লালমনিরহাটের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মুহঃ রাশেদুল হক প্রধান, জেলা মৎস্য কর্মকর্তা সারোয়ার জাহান, সিভিল সার্জন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, স্থানীয় মৎস্যজীবী প্রতিনিধি ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
রেজাউল করিম রাজ্জাক, বিশেষ প্রতিনিধি ;- 































