আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্বে থাকা একজন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে মধ্যরাতে বৈঠক—এমন অভিযোগে লালমনিরহাটের হাতীবান্ধায় নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে পুলিশের নিরপেক্ষতা নিয়ে। ঘটনাটি ঘিরে তৈরি হয়েছে চরম ধোঁয়াশা, যার প্রেক্ষিতে জেলা পুলিশ বাধ্য হয়েছে তদন্ত কমিটি গঠনে।
মধ্যরাতে কী হয়েছিল সির্ন্দুনায়?
গত বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে হাতীবান্ধা উপজেলার সির্ন্দুনা এলাকায় উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আমজাদ হোসেন তাজু’র ব্যক্তিগত বাসায় একত্রিত হন দলের একাধিক নেতা। অভিযোগ রয়েছে, ওই সময় সেখানে অনুষ্ঠিত হয় একটি রাজনৈতিক গোপন বৈঠক—যেখানে অংশ নেন হাতীবান্ধা থানার ওসি শাহীন মোহাম্মদ আমানুল্লাহ।
স্থানীয় সূত্র জানায়, ওই বৈঠকে অন্তত ছয়জন প্রভাবশালী আওয়ামী লীগ নেতা উপস্থিত ছিলেন। আলোচ্য বৈঠক শেষে একই স্থানে আয়োজন করা হয় দাওয়াত অনুষ্ঠান। বিষয়টি স্থানীয়দের নজরে এলে বাসার সামনে লোকজন জড়ো হতে শুরু করে। পরিস্থিতি আঁচ করে দ্রুত স্থান ত্যাগ করেন ওসি শাহীন মোহাম্মদ আমানুল্লাহ।
রাজনৈতিক পরিচয় ঘিরে প্রশ্ন আমজাদ হোসেন তাজু শুধু একজন রাজনৈতিক নেতা নন—তিনি লালমনিরহাট-১ (হাতীবান্ধা–পাটগ্রাম) আসনে ২০২৪ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের ডামি প্রার্থী ছিলেন। পাশাপাশি তিনি একাধিক মামলার আসামিও।
এমন একজন রাজনৈতিক নেতার বাসায় মধ্যরাতে পুলিশের শীর্ষ কর্মকর্তার উপস্থিতি স্বাভাবিক প্রশ্ন তুলেছে—
এটি কি নিছক সৌজন্য সাক্ষাৎ, নাকি পর্দার আড়ালের ভিন্ন কোনো সমীকরণ?
পাল্টাপাল্টি বক্তব্যে ঘনাচ্ছে ধোঁয়াশা
ঘটনাকে কেন্দ্র করে একাধিক পক্ষের বক্তব্যে স্পষ্ট বিরোধ লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
আমজাদ হোসেন তাজু’র পরিবার দাবি করছে, বাসায় কোনো বৈঠক হয়নি—এটি ছিল একটি পারিবারিক দাওয়াত।
একজন পুলিশ কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, অনুষ্ঠানটি দাওয়াত হিসেবেই পরিচিত ছিল।
তবে শনিবার সকালে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ওসি শাহীন মোহাম্মদ আমানুল্লাহ স্পষ্টভাবে বলেন,
“আমি ওই আওয়ামী লীগ নেতার বাসায় যাইনি।”
অন্যদিকে, লালমনিরহাট সহকারী পুলিশ সুপার (বি-সার্কেল) জয়ন্ত কুমার সেন বলেন,
“ওই বাসায় দাওয়াতে পুলিশের একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন। সেই কর্মকর্তার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতের উদ্দেশ্যেই ওসি সেখানে যান।”
এই বক্তব্যগুলো একে অপরের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হওয়ায় পুরো ঘটনাটি আরও রহস্যজনক হয়ে উঠেছে।
তদন্ত কমিটি কেন, কী খতিয়ে দেখা হবে? ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে লালমনিরহাট পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর) সাহাদাত হোসেন সুমাকে প্রধান করে এক সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন।
পুলিশ সুপার জানান, “অভিযোগটি অত্যন্ত সংবেদনশীল। তদন্তে সত্যতা মিললে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
সূত্র বলছে, তদন্তে খতিয়ে দেখা হবে— ওসি ঘটনাস্থলে গিয়েছিলেন কি না গেলে কার আমন্ত্রণে ও কোন উদ্দেশ্যে
সেখানে রাজনৈতিক আলোচনা হয়েছে কি না কোনো প্রশাসনিক বা রাজনৈতিক প্রভাব খাটানোর চেষ্টা হয়েছিল কি না স্থানীয়দের প্রশ্ন: পুলিশের নিরপেক্ষতা কোথায়?
ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ বাড়ছে। অনেকের প্রশ্ন—
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা কি রাজনৈতিক নেতার বাসায় মধ্যরাতে উপস্থিত থাকতে পারেন?
তদন্তের রিপোর্টই এখন বলে দেবে-
এটি শুধুই একটি দাওয়াত, নাকি প্রশাসন ও রাজনীতির মধ্যে অদৃশ্য কোনো বোঝাপড়া?
নিউজ বিজয় ২৪ডট কম/এফএইচএন
লালমনিরহাট জেলা প্রতিনিধি : 



























