ঢাকা ০৪:০২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং

🌤️ বাংলাদেশের বিভাগসমূহের লাইভ আবহাওয়া

সৌদির সঙ্গে পরমাণু চুক্তি করছে যুক্তরাষ্ট্র, ট্রাম্পের অনুমোদন

সৌদি আরবের বেসামরিক পারমাণবিক কর্মসূচির জন্য ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের সক্ষমতা গড়ে তুলতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তিতে অনুমোদন দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত একাধিক সূত্রের বরাতে এমন তথ্য প্রকাশ করেছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল ও দ্য নিউইয়র্ক টাইমস।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, চুক্তিটি আজ বুধবারই (২২ জুলাই) আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হতে পারে। প্রায় ৩০ বছরের জন্য কার্যকর হতে যাওয়া এই চুক্তির আওতায় সৌদি আরবের পারমাণবিক কর্মসূচি উন্নয়নে মার্কিন কোম্পানিগুলোও অংশ নেবে। খবর দ্যা গার্ডিয়ানের।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, যৌথ মার্কিন-সৌদি সমীক্ষার ভিত্তিতে সৌদি আরবে একটি ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্র নির্মাণের সুযোগ তৈরি হতে পারে।

তবে এই চুক্তি কার্যকর হওয়ার আগে এটি মার্কিন কংগ্রেসে পর্যালোচনার জন্য উপস্থাপন করা হবে। সেখানে আইনপ্রণেতাদের একটি অংশের আপত্তির মুখে পড়তে পারে। তাদের আশঙ্কা, সৌদি আরবকে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের অনুমতি দিলে মধ্যপ্রাচ্যে পারমাণবিক অস্ত্র প্রতিযোগিতা ও বিস্তার আরও বাড়তে পারে।
সৌদি আরব আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থার (আইএইএ) সদস্য হলেও, প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে এই চুক্তিতে সংস্থাটির ‘অ্যাডিশনাল প্রটোকল’ অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। এই প্রটোকল থাকলে আইএইএর আরও বিস্তৃত পরিদর্শন ও নজরদারির সুযোগ থাকত।

চুক্তির সম্ভাব্য ঘোষণার সময়টি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালাচ্ছে। ওয়াশিংটনের দাবি, এর অন্যতম উদ্দেশ্য হলো ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সক্ষমতা নষ্ট করা। যদিও তেহরান বরাবরই দাবি করে আসছে, তাদের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ।

এদিকে হোয়াইট হাউস এবং সৌদি সরকারের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করা হয়নি।

এর আগে ট্রাম্প এবং সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন—উভয় প্রশাসনই সৌদি আরবের সঙ্গে পারমাণবিক সহযোগিতা চুক্তির চেষ্টা করেছিল।

তবে পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ বিশেষজ্ঞদের মতে, সৌদি আরব যদি নিজস্ব সেন্ট্রিফিউজ ব্যবহার করে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করতে সক্ষম হয়, তাহলে ভবিষ্যতে সেটি পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচির পথও উন্মুক্ত করতে পারে। বিশেষ করে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান অতীতে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, ইরান যদি পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করে, তবে সৌদি আরবও একই পথে হাঁটতে পারে।
অন্যদিকে সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তথাকথিত ‘১২৩ চুক্তি’ করে দক্ষিণ কোরিয়ার সহায়তায় বারাকাহ পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করেছে। তবে ইউএই নিজস্ব ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের দাবি ত্যাগ করেছিল, যা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক কর্মসূচির ‘স্বর্ণমান’ হিসেবে বিবেচিত হয়।

নিউজ বিজয় ২৪ডট কম/এফএইচএন
আপলোডকারির তথ্য

NewsBijoy24. Com

📰 নিউজবিজয়২৪.কম এমন একটি অনলাইন সংবাদপত্র, যার প্রতিটি শব্দে জড়িয়ে আছে সত্যের অঙ্গীকার ও মানবিকতার দায়বদ্ধতা। এই পত্রিকাটি উৎসর্গ করা হলো আমার পরম শ্রদ্ধেয় মা ও বাবার পবিত্র স্মৃতির উদ্দেশ্যে-যারা আজ এই পৃথিবীতে নেই, কিন্তু তাদের শিক্ষা, আদর্শ ও দোয়ার আলো আজও আমাদের পথ দেখায়। তাদের নিঃস্বার্থ ত্যাগ ও ভালোবাসার প্রেরণায় প্রতিষ্ঠিত এই সংবাদমাধ্যমের লক্ষ্য সত্য প্রকাশ, অন্যায়ের প্রতিবাদ এবং মানুষের পাশে নির্ভীকভাবে দাঁড়ানো। হে আল্লাহ, আমার মা-বাবাকে জান্নাতুল ফেরদৌসে উচ্চ মাকাম দান করুন। আমিন। NewsBijoy24.Com 📰 সত্যের পথে, বিশ্বাসের সাথে।
জনপ্রিয় সংবাদ
⚽ বিশ্বকাপ ফুটবল লাইভ স্কোর ২০২৬

এবার ‘নিট’ পরীক্ষা বাতিলের দাবিতে সোচ্চার থালাপতি বিজয়ের দল

সৌদির সঙ্গে পরমাণু চুক্তি করছে যুক্তরাষ্ট্র, ট্রাম্পের অনুমোদন

আপডেট সময় ০২:৪০:৩৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬

সৌদি আরবের বেসামরিক পারমাণবিক কর্মসূচির জন্য ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের সক্ষমতা গড়ে তুলতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তিতে অনুমোদন দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত একাধিক সূত্রের বরাতে এমন তথ্য প্রকাশ করেছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল ও দ্য নিউইয়র্ক টাইমস।

🔔 নিউজ বিজয়ের সর্বশেষ খবর পেতে টেলিগ্রাম চ্যানেল জয়েন করুন

প্রতিবেদন অনুযায়ী, চুক্তিটি আজ বুধবারই (২২ জুলাই) আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হতে পারে। প্রায় ৩০ বছরের জন্য কার্যকর হতে যাওয়া এই চুক্তির আওতায় সৌদি আরবের পারমাণবিক কর্মসূচি উন্নয়নে মার্কিন কোম্পানিগুলোও অংশ নেবে। খবর দ্যা গার্ডিয়ানের।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, যৌথ মার্কিন-সৌদি সমীক্ষার ভিত্তিতে সৌদি আরবে একটি ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্র নির্মাণের সুযোগ তৈরি হতে পারে।

তবে এই চুক্তি কার্যকর হওয়ার আগে এটি মার্কিন কংগ্রেসে পর্যালোচনার জন্য উপস্থাপন করা হবে। সেখানে আইনপ্রণেতাদের একটি অংশের আপত্তির মুখে পড়তে পারে। তাদের আশঙ্কা, সৌদি আরবকে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের অনুমতি দিলে মধ্যপ্রাচ্যে পারমাণবিক অস্ত্র প্রতিযোগিতা ও বিস্তার আরও বাড়তে পারে।
সৌদি আরব আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থার (আইএইএ) সদস্য হলেও, প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে এই চুক্তিতে সংস্থাটির ‘অ্যাডিশনাল প্রটোকল’ অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। এই প্রটোকল থাকলে আইএইএর আরও বিস্তৃত পরিদর্শন ও নজরদারির সুযোগ থাকত।

চুক্তির সম্ভাব্য ঘোষণার সময়টি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালাচ্ছে। ওয়াশিংটনের দাবি, এর অন্যতম উদ্দেশ্য হলো ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সক্ষমতা নষ্ট করা। যদিও তেহরান বরাবরই দাবি করে আসছে, তাদের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ।

এদিকে হোয়াইট হাউস এবং সৌদি সরকারের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করা হয়নি।

এর আগে ট্রাম্প এবং সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন—উভয় প্রশাসনই সৌদি আরবের সঙ্গে পারমাণবিক সহযোগিতা চুক্তির চেষ্টা করেছিল।

তবে পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ বিশেষজ্ঞদের মতে, সৌদি আরব যদি নিজস্ব সেন্ট্রিফিউজ ব্যবহার করে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করতে সক্ষম হয়, তাহলে ভবিষ্যতে সেটি পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচির পথও উন্মুক্ত করতে পারে। বিশেষ করে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান অতীতে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, ইরান যদি পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করে, তবে সৌদি আরবও একই পথে হাঁটতে পারে।
অন্যদিকে সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তথাকথিত ‘১২৩ চুক্তি’ করে দক্ষিণ কোরিয়ার সহায়তায় বারাকাহ পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করেছে। তবে ইউএই নিজস্ব ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের দাবি ত্যাগ করেছিল, যা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক কর্মসূচির ‘স্বর্ণমান’ হিসেবে বিবেচিত হয়।